ম্যাচের প্রথম বলে উইকেট নেওয়া কঠিন কাজ। সেটা একবার নয়, পাঁচবার করে দেখালেন সামি—আইপিএলের ইতিহাসে এই নজির এতদিন ‘অস্পর্শ্য’ ছিল।

মহম্মদ সামি
শেষ আপডেট: 2 April 2026 16:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টিম ইন্ডিয়ায় জায়গা নেই। টি-২০ বিশ্বকাপ দলে ছিলেন না। কিন্তু তিনি যে এখনও ফুরিয়ে যাননি, আইপিএলের মঞ্চে সেটা প্রমাণ করলেন মহম্মদ সামি (Mohammed Shami)। বুধবার লখনউতে দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে ম্যাচের প্রথম বলে কেএল রাহুলকে (KL Rahul) শূন্য রানে ফেরালেন তিনি। আর সেই শিকারের সুবাদে আইপিএলের ১৮ বছরের ইতিহাসে এমন কীর্তি গড়লেন, যা এর আগে কেউ করে দেখাতে পারেননি।
ইতিহাসে ‘প্রথম’ সামি
ম্যাচের প্রথম বলে উইকেট নেওয়া কঠিন কাজ। সেটা একবার নয়, পাঁচবার করে দেখালেন সামি—আইপিএলের ইতিহাসে এই নজির এতদিন ‘অস্পর্শ্য’ ছিল। তিনবার উইকেট ছিনিয়ে তালিকায় পেছনে প্রবীণ কুমার, উমেশ যাদব, ট্রেন্ট বোল্ট, লাসিথ মালিঙ্গা, ভুবনেশ্বর কুমার, অশোক দিন্দা ও প্যাট কামিন্স। সামি তাঁদের সবাইকে পিছনে ফেলে একা পাঁচের সরণিতে। গতরাতে রাহুল পয়েন্টের উপর দিয়ে স্ল্যাশ করতে যান। সামির বলে খোঁচা লেগে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ। প্রথম বলে আউট!
পুরো স্পেলে ৪ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ১ উইকেট। ১৪১ রানের ছোট টার্গেট রক্ষার জন্য এই উইকেটটা ভীষণ জরুরি ছিল। কিন্তু তাতে কাজের কাজ হয়নি। বেশ আরামেই লক্ষ্য তাড়া করে ম্যাচ জিতে নিয়েছে দিল্লি ক্যাপিটালস।
রিজভি-স্টাবস জুটিতে খেলা শেষ
প্রথমে ব্যাট করতে নেমে লখনউ গুটিয়ে যায় ১৪১ রানে। তবে বল হাতে শুরুটা মন্দ হয়নি। সামি, মহসিন খান ও প্রিন্স যাদব মিলিয়ে দিল্লিকে প্রথম পাঁচ ওভারে ২৬/৪-এ নামিয়ে দেন। কিন্তু তারপর মাঠে সমির রিজভি (Sameer Rizvi)—ইমপ্যাক্ট সাবস্টিটিউট হিসেবে। খেলেন ৪৭ বলে অপরাজিত ৭০ রানের ঝকঝকে ইনিংস। অন্যদিকে ট্রিস্টান স্টাবস ৩২ বলে ৩৯। দুজন মিলে পঞ্চম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ১১৯ রান তোলেন। যার সুবাদে ১৭.১ ওভারে জয়—ছয় উইকেটে।
সব মিলিয়ে সামিকে ছাপিয়ে ম্যাচের নায়ক রিজভি। যে স্টাইলে আত্মবিশ্বাসী শট খেললেন সেটা দেখার মতো। সামির স্পেলে ধৈর্য ধরলেন। তারপর দশম ওভারে শাহবাজ আহমেদকে ঠেঙিয়ে নিলেন ১৬ রান। এক হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি।
লখনউয়ের ব্যাটিং কোথায় ব্যর্থ?
লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants) মাত্র ১৮.৪ ওভারে অলআউট ১৪১ রানে। শুরু থেকেই অস্বস্তিকর ব্যাটিং—কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্তও সন্দেহজনক। ম্যাচের পর অধিনায়ক ঋষভ পন্থ বললেন, ‘১৪০ রান করলে বোলারদের অতিরিক্ত চেষ্টা করতে হয়। পাওয়ারপ্লেতে আরও উইকেট পেলে চাপ বাড়ানো যেত!’