শুধু দুর্ভাগ্য নয়, সামির কেরিয়ারে বারবার বাধা হয়েছে চোট। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন। কিন্তু ছন্দে আসার পরেও জাতীয় দলে ব্রাত্য।

মহম্মদ সামি
শেষ আপডেট: 31 March 2026 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের সেরা বোলার। ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও দলে ছিলেন। কিন্তু তারপর থেকে মহম্মদ সামি (Mohammed Shami) যেন নির্বাচকদের র্যাডারের বাইরে চলে গিয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজ, নিউজিল্যান্ড সিরিজ, টি-২০ বিশ্বকাপ—কোথাও ডাক নেই। চলতি সিজনে ঘরোয়া ক্রিকেটে বাংলার হয়ে ৬৭ উইকেট নিয়েছেন। তবু অজিত আগরকরের (Ajit Agarkar) নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি তাঁকে বিবেচনা করেনি। এবার সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন সামি।
‘বিরক্ত হলে ছাড়ব, এখনও হইনি’
সম্প্রতি ‘দ্য শুভঙ্কর মিশ্র শো’-য়ে হাজির হন টিম ইন্ডিয়ার পেসার। সেখানে অবসরের প্রশ্ন উঠতেই তিনি বলেন, ‘যেদিন ক্লান্ত হব, সেদিন ছেড়ে দেব। কিন্তু এখন অবসরের কথা ভাবছি না। কারণ এই ভাবনা মানসিকভাবে টেনে নামিয়ে দেয়। মনে জাগছে মানেই তুমি ইতিমধ্যে ক্লান্ত। আর ক্লান্ত মানে বিরক্ত। আমি আগেও বলেছি, যেদিন সকালে উঠে বিরক্ত লাগবে, সেদিন ক্রিকেট ছাড়ব!’ যোগ করেন, ‘এখনও বিরক্ত নই, অলস নই। খেলাটা উপভোগ করছি। ফলাফল ভাল। ইতিবাচক!’
কথাগুলো শুনতে সহজ। কিন্তু ভেতরে নিহিত প্রচ্ছন্ন বার্তা—আমি এখনও তৈরি, শুধু সুযোগ দরকার।
চোটের পর ফিরেছেন, তবু উপেক্ষিত
শুধু দুর্ভাগ্য নয়, সামির কেরিয়ারে বারবার বাধা হয়েছে চোট। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর ফিটনেস ফিরে পেয়েছেন। কিন্তু ছন্দে আসার পরেও জাতীয় দলে ব্রাত্য। এই সিজনে বাংলার হয়ে ৬৭ উইকেট—ঘরোয়া ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। তবু নির্বাচকদের কাছে সেটা যথেষ্ট বলে মনে হয়নি। ৩৫ বছর বয়সে এই পরিস্থিতিতে হতাশ হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সামি সেই পথে হাঁটতে নারাজ।
লখনউতে নতুন অধ্যায়
আইপিএলের গত বছর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (Sunrisers Hyderabad) হয়ে হতাশাজনক মরসুম কাটান। মহানিলামের আগে সামিকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবার লখনউ সুপার জায়ান্টস (Lucknow Super Giants) তাঁকে দলে নিয়েছে। সামি সেই বিশ্বাসকে সম্মান দিতে মুখিয়ে। বললেন, ‘বোলার হিসেবে শতভাগ দেব। দায়িত্ব পালন করব। প্রত্যাশাপূরণের চেষ্টা চালাব। হয়তো ভাগ্য বদলাতে পারব না। কিন্তু মনোভাব আর জেদ দিয়ে যা করার করব। লখনউ আমার উপর বিশ্বাস রেখেছে, আমি সব ফিরিয়ে দেব!’
ঘরোয়া ক্রিকেটে কতটা খেলেছেন সেটা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না—মাথায় রাখছেন ফর্মে আছেন কিনা। সামির কথায়, ‘ছন্দ ঠিক থাকলেই ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবা যায়!’
বল এখন নির্বাচকদের কোর্টে
বার্তা পরিষ্কার। মাঠে পারফর্ম করে যাচ্ছেন। ফলে অবসরের প্রশ্ন নেই। সিদ্ধান্ত নির্বাচকদের—এই ফর্ম ও অভিজ্ঞতাকে তাঁরা কাজে লাগাবেন কিনা। ২০২৭ বিশ্বকাপের (ODI World Cup 2027) আগে ভারতের পেস বিভাগে একজন অভিজ্ঞ তারকা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে সামির নাম ফের উঠে আসাটা অস্বাভাবিক নয়, যথেষ্ট সঙ্গতই বটে।