গিলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সিনিয়র খেলোয়াড়দের পরিচালনা করা। দলে বুমরাহ, শার্দূল, জাদেজা, কুলদীপ, কেএল রাহুলের মতো সিনিয়ররা রয়েছেন।

শুভমান গিল
শেষ আপডেট: 24 May 2025 16:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ডের (England) বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের জন্য ভারতীয় দল (India Test Team) ঘোষণা করা হয়েছে। অজিত আগারকরের নেতৃত্বাধীন নির্বাচক কমিটি (BCCI Selection Committee) নতুন অধিনায়ক (Captain) হিসাবে শুভমান গিলকেই (Shubman Gill) বেছে নিয়েছে। ২৫ বছর বয়সি শুভমান হবেন ভারতের ৩৭তম টেস্ট অধিনায়ক। পাশাপাশি এই দলের সহ-অধিনায়ক করা হয়েছে ঋষভ পন্থকে।
২০২০-২১ সালে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিলের টেস্ট অভিষেক হয়। সেই সফরে গাব্বা টেস্টে তিনি ৯১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। সেই ম্যাচটি জিতে অজিঙ্ক রাহানের টিম ইন্ডিয়া অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বর্ডার-গাভাসকর ট্রফি জিতে নেয়। তারপর থেকে গিল ৩২ টেস্টে ৩৫.০৩ গড়ে ১৮৯৩ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে পাঁচটি সেঞ্চুরি এবং সাতটি অর্ধশতক। এই সময়ের মধ্যে, তিনি ২১০টি চার এবং ৩১টি ছক্কা মেরেছেন।
যদিও ভারতের বাইরে গিলের রেকর্ড সেরকম উল্লেখযোগ্য নয়। বিশেষ করে ইংল্যান্ডে তিনি কখনওই সফল হননি। ইংল্যান্ডে তিনি দু’টি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালও খেলেছেন। ইংল্যান্ডে তিনটি ম্যাচে তিনি ১৫-এরও কম গড়ে ৮৮ রান করেছেন।
পাশাপাশি শুভমান অস্ট্রেলিয়ায় খেলেছেন ছয়টি টেস্ট। এই ছয় টেস্টে তিনি ৩৫.২০ গড়ে ৩৫২ রান করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে দু’টি অর্ধশতক।
গিলের পাঁচটি সেঞ্চুরির সবকটিই এসেছে এশিয়ার মাটিতে:
গিলের পাঁচটি সেঞ্চুরির সবকটিই এসেছে ভারত বা বাংলাদেশের মাটিতে। অনেক ক্রিকেট বিশষজ্ঞই বলে থাকেন এখনও বিদেশের মাটিতে নিজেকে প্রমাণ করতে পারেননি গিল। গত অস্ট্রেলিয়া সফরে গিল তিনটি টেস্টের পাঁচ ইনিংসে ১৮.৬০ গড়ে ৯৩ রান করেছিলেন। ছিল না একটিও অর্ধশতক।
গিল তাঁর টেস্ট কেরিয়ার শুরু করেছিলেন একজন ওপেনিং ব্যাটার হিসাবে। কিন্তু যশস্বীর আগমনের পর তাঁকে তিন নম্বরে পাঠানো শুরু হয়। বিরাট কোহলির অবসরের পর, গিলকে সম্ভবত চার নম্বর পজিশনে দেখা যেতে পারে।
গিল কি সিনিয়র খেলোয়াড়দের পরিচালনা করতে পারবেন?
শনিবার অধিনায়ক ঘোষণা করার সময় আগারকর বলেছেন, “গিল খুবই তরুণ এবং আমরা ওর মধ্যে উন্নতি দেখেছি। এটা খুবই চাপের দায়িত্ব, কিন্তু আমরা আশাবাদী।”
গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হোম সিরিজে ০-৩ ব্যবধানে পরাজয় এবং তারপর অস্ট্রেলিয়া সফরে ১-৩ ব্যবধানে হেরে গিয়েছিল ভারত। অনেকেই মনে করেন, এই পরাজয়ের কারণেই রোহিত শর্মা টেস্ট থেকে অবসর নিতে বাধ্য হন। এমন পরিস্থিতিতে শুভমানকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। গিলের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সিনিয়র খেলোয়াড়দের পরিচালনা করা। দলে বুমরাহ, শার্দূল, জাদেজা, কুলদীপ, কেএল রাহুলের মতো সিনিয়ররা রয়েছেন। দলে যাতে কোনও ফাটল না থাকে, সেজন্য তাঁদের একত্রিত করাই হবে গিলের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
এর আগে ২০০৮-০৯ সালে এমন ঘটনা ঘটেছিল, যখন ধোনিকে একটি অভিজ্ঞ টেস্ট দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছিল। ২০১৪ সালে অবশ্য বিরাট কোহলিকে কোনও সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি, কারণ সেই দলের প্রায় সবাই নতুন ছিলেন।
অবশ্য অধিনায়ক হিসাবে শুভমান গিল নিজেকে প্রমান করেছেন। আইপিএলে গুজরাত টাইটান্সের অধিনায়ক হিসাবে নজর কেড়ে নিয়েছেন তিনি। তাঁর অধিনায়কত্বে, গুজরাত ২৫টি ম্যাচ খেলে ১৪টিতে জিতেছে। পাশাপাশি ভারতীয় ওয়ানডে দলের সহ-অধিনায়কও ছিলেন তিনি।
এছাড়াও, জিম্বাবোয়ে সফরে পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন শুভমান। এর মধ্যে চারটি ম্যাচ জিতেছে টিম ইন্ডিয়া।