বল হাতেও কার্যত ব্যুমেরাং ভারতের পাঁচ বোলারের স্ট্র্যাটেজি। ব্যাটিং শক্তিশালী করার নামে বোলিং ইউনিট একেবারেই ভেঙে পড়ল। অধিনায়কও মেনে নিলেন এই ব্যর্থতা।

হরমনপ্রীত কৌর
শেষ আপডেট: 13 October 2025 11:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ম্যাচটা ভারতের হাতেই ছিল। স্কোরবোর্ড তখন ২৯৪/৪। হাতে আরও সাত ওভার। মনে হচ্ছিল ৩৫০ ছুঁয়ে ফেলবে দল। কিন্তু সেখান থেকেই একের পর এক উইকেট পড়ল আর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ব্যাটিং লাইন আপ। শেষ ছ’উইকেট গেল মাত্র ৩৬ রানে! আর সেই বিপর্যয়েই ৩৩১ রানের পাহাড়ও টপকে গেল অস্ট্রেলিয়া (Australia)। তৈরি হল মহিলা ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড।
রবিবার বিশ্বকাপে (Women’s World Cup 2025) তিন উইকেটে হারের পর অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর (Harmanpreet Kaur) খোলাখুলিই স্বীকার করলেন, ‘যেভাবে আমরা শুরু করেছিলাম, তাতে আরও ৩০–৪০ রান যোগ করা যেত। শেষ ছয় ওভারে আমরা একেবারেই রান তুলতে পারিনি, সেটাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে!’
বিশাখাপত্তনমে (Vizag) প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ৩৩০। দুরন্ত ছন্দে শুরু করেছিলেন দুই ওপেনার—স্মৃতি মন্ধানা (Smriti Mandhana, ৮০) আর প্রতীকা রাওয়াল (Pratika Rawal, ৭৫)। তাঁদের জুটিতে উঠেছিল ১৫৫ রান। তবু শেষটা একদম উল্টো। ইনিংসের শেষ সাত ওভারে পুরো দল যেন থমকে যায়। সেই হতাশার সুরই শোনা গেল হরমনের গলায়। তিনি বললেন—‘উইকেটটা ব্যাটিংয়ের সহায়ক ছিল। কিন্তু শেষ ছয় ওভারে ব্যাটিং ভালো হয়নি, আর সেই সূত্রেই পরাজয়!’
পাশাপাশি বল হাতেও কার্যত ব্যুমেরাং ভারতের পাঁচ বোলারের স্ট্র্যাটেজি। ব্যাটিং শক্তিশালী করার নামে বোলিং ইউনিট একেবারেই ভেঙে পড়ল। অধিনায়কও মেনে নিলেন এই ব্যর্থতা। তাঁর কথায়, ‘আমরা বসে এই কৌশল নিয়ে আলোচনা করব। এই কম্বিনেশনই আমাদের এতদিন সাফল্য দিয়েছে। দুইটা খারাপ ম্যাচেই সব বিচার করা যায় না!’ অজি বোলার অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড (Annabel Sutherland) ন’ওভারে ৫ উইকেট তুলে কার্যত ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন। তাঁর স্পেলেই ভারতের লোয়ার অর্ডার ভেঙে পড়ে।
অন্যদিকে ভারতীয় টিমে বল হাতে একমাত্র উজ্জ্বল সদস্য শ্রী চরণি (Shree Charani)। নিলেন তিন উইকেট (৩/৪১)। হরমনপ্রীত প্রশংসার সুরে বললেন, ‘ও দারুণ বল করছে। ওদের ব্যাটারদের সহজে কিছু দেয়নি। এমনকি হিলি ব্যাট করছিল, তখনও ওর বিরুদ্ধে রান তোলা কঠিন হচ্ছিল। ওর থেকে আমাদের অনেক প্রত্যাশা!’
অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক অ্যালিসা হিলি (Alyssa Healy)। ১০৭ বলে ১৪২ রানের ইনিংসে তিনিই ভাঙলেন ভারতের সমস্ত আশা। শেষ দিকে চোট নিয়ে মাঠ ছাড়লেও, এলিস পেরি (Ellyse Perry) আবার ফিরে এসে অপরাজিত ৪৭ রানে জয় নিশ্চিত করেন। ম্যাচ শেষে হিলির সোজাসাপটা মন্তব্য, ‘৫০ ওভারের ম্যাচে ৩৩০ রান তাড়া করা আমাদের কাছেও নতুন অভিজ্ঞতা। আশা করি, আবার এমনটা করতে হবে না!’ সঙ্গে যোগ করেন, ‘পুরো কৃতিত্ব আমাদের বোলারদের। ওরা যদি ম্যাচের মাঝখানে রান আটকে না দিত, তাহলে হয়তো ৩৬০ রান তাড়া করতে হত!’ ভারতের তরুণ বোলার শ্রী চরণির প্রশংসা শোনা গেল হিলির মুখে—‘আজ ও সত্যিই ভালো বল করেছে। আমরা ওকে হালকা করে নিইনি। ওর বিপক্ষে ঝুঁকি না নিয়ে অন্যদের আক্রমণ করেছি!’