এই টেস্টের আগে খোয়াজা খবরে ছিলেন অন্য কারণে। বিদায়ী টেস্টের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানান। নির্বাচনী আলোচনা, দৃষ্টিভঙ্গি—সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

উসমান খোয়াজা
শেষ আপডেট: 6 January 2026 11:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেষটা এমন হওয়ার কথা ছিল না। কিন্তু ক্রিকেটে ‘হওয়ার কথা’ বলে কিছু চলে না। সিডনিতে কেরিয়ারের শেষ টেস্টে ব্যাট করতে নেমে একেবারে সাদামাটা ফুলটসে পরাস্ত হলেন উসমান খোয়াজা (Usman Khawaja)। ১৭ রানে থেমে গেল ইনিংস। আবেগ নয়, নাটক নয়—একটা ভুল শট, এলবিডব্লিউ… সেখানেই শেষ।
পঞ্চম ও শেষ অ্যাশেজ (Ashes) টেস্টের তৃতীয় দিন, দ্বিতীয় সেশন। মঞ্চটা ছিল নিজের শহর, সিডনি (Sydney Cricket Ground)। দর্শকভরা গ্যালারি। প্রত্যাশা শান্ত, সংযত একটা বিদায়। কিন্তু বাস্তব রূঢ়।
ফুলটসের ফাঁদ, রিভিউয়েও রক্ষা নেই
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসের ৮৪তম ওভার। দ্বিতীয় নতুন বলে আক্রমণে ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্স (Brydon Carse)। আগের কয়েক বলে ইনসুইং করিয়ে ব্যাটারকে সেট আপ করান। তারপর হাত থেকে বেরল সেই বল—লোপ্পা ফুলটস! খোয়াজা মিস করলেন। বল সোজা পায়ে।
ব্যাটার জানতেন, এটা বড় ভুল। তবু রিভিউ নিলেন। আশা ছিল, হয়তো লাইন মিস করবে। রিপ্লে সে সুযোগ দিল না। কোনও ইনসাইড এজ নেই। বল স্টাম্পে যাচ্ছিল। সিদ্ধান্ত বদলায়নি। খোয়াজাকে ফিরতেই হল।
সাকুল্যে ৪৯ বল খেলেছিলেন। স্টিভ স্মিথের (Steve Smith) সঙ্গে ৪১ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেন। তার আগে ট্র্যাভিস হেড (Travis Head) ১৬৩ রানের ইনিংসে ম্যাচের গতি বদলে দেন। এমন প্রেক্ষাপটে খোয়াজার কাজ ছিল সময় দেওয়া। কিন্তু একটা বলেই সব শেষ।
শেষ টেস্ট, গ্যালারির সম্মান
আউট হওয়ার পর চোখেমুখে হতাশা। তবু গ্যালারি চুপ থাকেনি। খোয়াজা যখন সাজঘরের দিকে হাঁটা লাগালেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে হাততালি দিল। কোনও আবেগঘন ভাষণ নয়, কোনও অতিরঞ্জন নয়—স্রেফ জমকালো, দীর্ঘ কেরিয়ারের প্রতি স্বীকৃতি।
টেস্টের আগে থেকেই জানা ছিল, এটাই শেষ লড়াই। ৩৯ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন তিনি। শেষ ম্যাচ, শেষ ইনিংস—সবই আলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু মাঠে নামার পর খোয়াজা আলাদা করে কিছু করতে যাননি। নিজের কাজটাই করতে চেয়েছিলেন। তাঁর বিদায়ের পর ইনিংসের দায়িত্ব স্মিথের উপর। অস্ট্রেলিয়া তখন ইংল্যান্ডের ৩৮৪ রানের প্রথম ইনিংস স্কোরের দিকে এগচ্ছে। সঙ্গে অ্যালেক্স কেরি। ম্যাচের ফল তখনও খোলা।
বিদায়ের আগে বিতর্ক
এই টেস্টের আগে খোয়াজা খবরে ছিলেন অন্য কারণে। বিদায়ী টেস্টের আগের দিন সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে বৈষম্যের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানান। নির্বাচনী আলোচনা, দৃষ্টিভঙ্গি—সবকিছু নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
চলতি অ্যাশেজে পার্থে প্রথম টেস্টে চোটের কারণে না খেলতে পারা নিয়েও সমালোচনা শুনতে হয়েছিল তাঁকে। সেই প্রসঙ্গও উঠেছিল। তবে মাঠে নেমে এসবের ছাপ দেখা যায়নি। কোনও উত্তেজনা নয়, কোনও প্রতিক্রিয়া নয়। ব্যাটিংটা ছিল প্রথাসিদ্ধ রুটিন। শেষ পর্যন্ত বিদায়টা হল নীরবে। ফুলটসে আউট। ক্রিকেটীয় ভাষায়—খারাপ সময়ের খারাপ বল। খোয়াজার কেরিয়ার শেষ হল ঠিক সেখানেই। কোনও বাড়তি গল্প ছাড়া।