আমি দ্রুতই বুঝতে পেরেছিলাম পাকিস্তানের কোচ হিসাবে আমার হাতে খুব বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবে না। যখন আমাকে দল নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হল এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী দল গঠন করতে পারলাম না, তখন কোচ হিসাবে দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখা আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে।

গ্যারি কার্স্টেন
শেষ আপডেট: 16 June 2025 18:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচ হিসাবে ভারতকে জিতিয়েছিলেন ২০১১ একদিনের বিশ্বকাপ। তৎকালীন ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনির সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের রসায়ন সে সময় চর্চার বিষয় ছিল। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন চাণক্য গ্যারি কার্স্টেন (Gary Kirsten) দলের প্রতিটি সদস্যের সঙ্গে মিশতেন ‘ফ্রেন্ড-ফিলোজফার-গাইড’ হিসাবে। পরবর্তী কালে পাকিস্তানের জাতীয় দলের কোচ হন (Pakistan National Team Coach) প্রাক্তন এই প্রোটিয়া ওপেনার। তবে সেই অভিজ্ঞতা ভারতের মতো মধুর ছিল না। তিক্ততা দিয়েই শেষ হয় কার্স্টেনের পাক অধ্যায়।
আসলে পাকিস্তানের কোচ হিসাবে কারও অভিজ্ঞতাই ভাল নয়। বিদেশিরা তো বটেই, দেশের কোচদেরও একরাশ তিক্ততা নিয়ে সরে যেতে হয়েছে। পাক ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) অন্তর্কলহ এতটাই বেশি যে, তার মাশুল দিতে হয় কোচদেরই। দলের ব্যর্থতা মানেই কোচের অপসারণ। সদ্য কোচ হয়ে এসেছেন মাইক হেসন। তাঁর অভিজ্ঞতা কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার।
গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানের কোচের পদ ছেড়েছিলেন প্রাক্তন অজি পেসার জেসন গিলেস্পি। কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পরই তিনি পিসিবির বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ এনেছিলেন। গিলেস্পির প্রায় দুই মাস আগে পদত্যাগ করেন পাকিস্তানের সাদা বলের কোচ গ্যারি কার্স্টেন।
ভারতকে সাফল্য এনে দেওয়া কোচ কার্স্টেন পাকিস্তান ক্রিকেটকেও বদলে দিতে চেয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যে গত বছরের এপ্রিলে দায়িত্ব নিয়েছিলেন বাবর-রিজওয়ানদের। তাঁর সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি থাকলেও ৬ মাস যেতেই পদত্যাগ করেন এই প্রোটিয়া তারকা। তবে তাঁর সরে দাঁড়ানোর কারণ সে সময় জানা না গেলেও নানা গুঞ্জন ছড়িয়েছিল। পাকিস্তানের প্রাক্তন এই কোচও এই বিষয়ে এতদিন নীরব ছিলেন। তবে এবার তিনি মুখ খুলেছেন।
৫৭ বছর বয়সি কার্স্টেন সম্প্রতি উইজডেন ক্রিকেট প্যাট্রিয়ন পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পাকিস্তান ক্রিকেটের টালমাটাল অবস্থা দেখেই তিনি চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন।
আসলে নতুন নির্বাচক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর দল নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় গিলেস্পি ও কার্স্টেনকে। তখন বিষয়টি নিয়ে লাল দলের কোচ গিলেস্পি বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেন প্রকাশ্যেই। কার্স্টেন সেসময় অবশ্য প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। অবশেষে এবার জানালেন, পিসিবির সিদ্ধান্তে ভীষণ অসন্তুষ্ট ছিলেন তিনি।
প্যাট্রিয়ন পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কার্স্টেন বলেছেন, “কয়েকটা মাস খুব অস্থির কেটেছিল। আমি দ্রুতই বুঝতে পেরেছিলাম পাকিস্তানের কোচ হিসাবে আমার হাতে খুব বেশি ক্ষমতা তুলে দেওয়া হবেনা। যখন আমাকে দল নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হল এবং নিজের পছন্দ অনুযায়ী দল গঠন করতে পারলাম না, তখন কোচ হিসাবে দলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব রাখা আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়ে।”
এই প্রোটিয়া কোচের পদত্যাগের মাস দেড়েক পর দায়িত্ব ছাড়েন গিলেস্পিও। তাঁদের বিদায়ের পর কোচ হন পাকিস্তানেরই প্রাক্তন পেসার আকিব জাভেদ (Aaqib Javed)। তাঁকে অবশ্য অন্তর্বর্তীকালীন কোচ হিসাবে নিয়োগ করা হয়। পরে গিলেস্পি অভিযোগ করেন, তাঁকে ও কার্স্টেনকে সরিয়ে কোচের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আড়াল থেকে অনেক কলকাঠি নেড়েছেন আকিব। প্রাক্তন এই পাক পেসারকে সরাসরি ভাঁড় বলেও অভিহিত করেন গিলেস্পি।