কিরমানি হলেন বিশ্বের একনম্বর উইকেটরক্ষক। এরকম প্রতিভা নিয়ে আর কোনও উইকেটরক্ষক জন্মগ্রহণ করবেন না।

আজহারউদ্দিন ও সৈয়দ কিরমানি
শেষ আপডেট: 11 August 2025 12:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের সর্বকালের সেরা উইকেটরক্ষকদের তালিকার প্রথম দিকে সৈয়দ কিরমানির (Syed Kirmani) নাম থাকলে, কেউই হয়তো আপত্তি করবেন না। নিজের সময় তাঁকে বিশ্বের অন্যতম সেরা উইকেটরক্ষক হিসাবেও গণ্য করা হত। বিশেষ করে স্পিনারদের বিরুদ্ধে তাঁর দক্ষতা ছিল অসাধারণ। অনেকেই মনে করে থাকেন, বিষেণ সিং বেদি, ভগবত চন্দ্রশেখর, এরোপল্লি প্রসন্ন, ভেঙ্কটরাঘবনের মতো স্পিনাররা সাফল্য পেয়েছেন কিরমানি উইকেটের পিছনে থাকতেন বলেই। এবার ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহম্মদ আজহারউদ্দিন বললেন, বিশ্বের একনম্বর উইকেটরক্ষক-ব্যাটার (Best Wicketkeeper in World) হলেন সৈয়দ কিরমানি।
আজাহার তাঁর মতামতের পিছনে যুক্তিও তুলে ধরেছেন। হায়দরাবাদের এই প্রাক্তন স্টাইলিশ ব্যাটারের মতে, ১৯৮৩ সালে ভারতের ওডিআই বিশ্বকাপ জেতার পিছনে কিরমানির ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। গোটা বিশ্বকাপে উইেকেটের পিছনে দাঁড়িয়ে তিনি স্পিনারদের দুর্দান্ত সামলেছিলেন।
কেরিয়ারের প্রথম তিন টেস্টেই সেঞ্চুরি করে ক্রিকেট-বিশ্বের নজর কেড়ে নেন মহম্মদ আজহারউদ্দিন। ১৯৮৪-২০০০ সালের মধ্যে তিনি ৯৯টি টেস্ট ও ৩৩৪টি একদিনের ম্যাচ খেলেছিলেন। তেলেঙ্গানায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন আজাহার। সেই অনুষ্ঠানে প্রকাশিত হয়েছে কিরমানির আত্মজীবনী (Autobiography) ‘স্টাম্পড’। সেখানেই আজাহার ভারতের এই প্রবাদপ্রতিম উইকেটরক্ষক সম্পর্কে নিজের মত প্রকাশ করেন।
পিটিআইকে আজহার বলেন, “কিরমানি হলেন বিশ্বের একনম্বর উইকেটরক্ষক। এরকম প্রতিভা নিয়ে আর কোনও উইকেটরক্ষক জন্মগ্রহণ করবেন না। চার স্পিনারের বলে উইকেট রক্ষা করা সহজ কাজ নয়। সেটা তিনি অবলীলায় করে দেখিয়েছেন। ১৯৮৩ বিশ্বকাপে কিরমানি কিছু স্মরণীয় ক্যাচ নিয়েছিলেন।”
পাশাপাশি ব্যাটার কিরমানিরও প্রশংসা করেছেন আজহার। এই প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন ১৯৮৩ বিশ্বকাপের ভারত-জিম্বাবোয়ের ম্যাচের কথা। সেই বিশ্বকাপে ভারতের অধিনায়ক কপিল দেব দলকে খাদের কিনারা থেকে তুলে নিয়ে সম্মানজনক স্কোরে পৌঁছে দিয়েছিলেন। আজহার বলেন, “কপিল সেই ম্যাচে ১৭৫* করলেও কিরমানি করেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ২৪ রান।” প্রিয় ক্রিকেটারের আত্মজীবনী-প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আপ্লুত আজহার। বললেন, “আমি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে খুবই আনন্দিত। ভগবান তাঁকে (কিরমানি) দীর্ঘজীবন দিক। এই বই সকলের পড়া উচিত। এই বই পড়ে তাঁর সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য জানতে পারা যাবে।”
১৯৭৬-৮৬ সালের মধ্যে কিরমানি ৮৮টি টেস্ট ও ৪৯টি ওডিআই ভারতীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। টেস্টে ১২৪ ইনিংসে ২৭.০৪ গড়ে তিনি করেছেন ২,৭৫৯ রান, রয়েছে দু’টি শতক ও ১২টি অর্ধ-শতক। উইকেটরক্ষকের দস্তানা হাতে নিয়েছেন ১৬০টি ক্যাচ ও দুরন্ত ক্ষিপ্রতা দেখিয়ে করেছেন ৩৮টি স্টাম্পিং। ৪৯টি একদিনের ম্যাচের ৩১ ইনিংসে ২০.৭২ অ্যাভারেজে করছেন ৩৭৩ রান। সর্বোচ্চ ৪৮*। একদিনের ফরম্যাটে নিয়েছেন ২৭টি ক্যাচ ও করেছেন ৯টি স্টাম্পিং।
কিরমানি ১৯৮৩ ওডিআই বিশ্বকাপে ১২টি ক্যাচ ধরার পাশাপাশি করেছিলেন ২টি স্টাম্পিং। সেবার তিনিই ছিলেন দ্বিতীয় সেরা উইকেটরক্ষক। জেফ দুজন ১৫টি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং নিয়ে শীর্ষে ছিলেন। ২৩৪টি আউট নিয়ে কিরমানি ভারতের সেরা উইকেটরক্ষকদের তালিকার চতু্র্থ স্থানে রয়েছেন। তাঁর আগে রয়েছেন ঋষভ পন্ত (২৪৪), নয়ন মোঙ্গিয়া (২৬১) ও এমএস ধোনি (৮২৯)।
আজহার বলেছেন বর্তমানে উইকেটরক্ষকদের উচিত কিরমানিকে অনুসরণ করা। তাঁদের আদর্শ হওয়া উচিত এই কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক। পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানে নিজের শহরেরই ছেলে মহম্মদ সিরাজের প্রশংসাও শোনা গিয়েছে আজহারের মুখ থেকে। ভারতের এই প্রাক্তন উইকেটরক্ষক বলেছেন, “আমি সিরাজের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পেয়েছিলাম। ও খুবই ভাল বল করছে। আমি সিরাজকে অভিনন্দন জানাতে চাই। আমি আশা রাখি ও এই পারফরম্যান্স ধরে রেখে আরও উন্নতি করতে পারবে।”