ক্রিকেটের কাছে দ্বিতীয় সুযোগ চেয়েছিলেন করুণ। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দলে প্রত্যাবর্তনের যে-দরজা উঁকি দিচ্ছিল, ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য দ্বিশতরান করে সেই আধ-বোজা দুয়ার হাট করে খুলে দিয়েছেন।

করুণ নায়ার
শেষ আপডেট: 1 June 2025 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএলের ক্লাইম্যাক্স পর্বে দেশের তামাম ক্রিকেটভক্ত কিনা ইংল্যান্ডে আয়োজিত বেসরকারি ম্যাচ নিয়ে পড়ে আছে! সেটাও কিনা ‘ভারতীয় এ’ দল বনাম ইংল্যান্ড লায়ন্সের লড়াই। যেখানে সেভাবে কোনও জমকালো মুখ, জমকালো চরিত্র কেউ নেই। হারজিত নিয়েও দুশ্চিন্তা থাকার কথা নয়। আন্তর্জাতিক পারফরম্যান্সের রেকর্ড বুকে অঙ্কও জুড়বে না! তবুও সকলের এক চোখ আইপিএল মাপলেও অন্য চোখ এই ম্যাচের হিসেব রেখে চলেছিল!
এর একটা গুরুতর কারণ—পরপর তুই মহাতারকার আকস্মিক বিদায়। যে কায়দায় প্রথমে রোহিত শর্মা ও তার দিনপাঁচেক বাদে বিরাট কোহলি লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেছেন, দলের আগামী ইংল্যান্ড সফরে মিডল অর্ডার কম্বিনেশন নিয়ে যে মাপের ধোঁয়াশা আর প্রশ্নচিহ্ন জমতে শুরু করেছে, টিমের অধিনায়ক বাছাইকে ঘিরে যে চড়া দাগের পঞ্চাঙ্ক নাটক পর্যন্ত মঞ্চস্থ হয়েছে, যেখানে আর সবাইকে টপকে নায়কের ভূমিকার অবতীর্ণ হলেন বছর পঁচিশের শুভমান গিল—তাতে আসন্ন ইংল্যান্ড ট্যুর নিছক একটি বিদেশ সফর নয়—নয়া জমানার ভারত, গুরু গম্ভীরের মনপসন্দ খেলোয়াড়ে গড়া ‘ব্র্যান্ড নিউ’ টিম ইন্ডিয়ার অগ্নিপরীক্ষা।
সেই পরীক্ষারই প্রি-টেস্টের আসর শুরু হয়েছে। আইপিএলের মধ্যে রওনা হয়ে গিয়েছেন এ-টিমের খেলোয়াড়েরা। যে দলের তালিকায় রয়েছেন করুণ নায়ার, যশস্বী জয়সওয়ালের মতো ক্রিকেটার। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যোগ দেবেন কেএল রাহুল। আইপিএলে জার্নি শেষ শুভমান গিলের। তিনিও প্রথম টেস্ট খেলার আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচে নামবেন।
কিন্তু শুধু দলগত পারফরম্যান্স যাচাই করা কিংবা ক্রান্তিলগ্নের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলা ভারতীয় দলের ভবিষ্যৎ মাপাই নয়—ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে খেলতে নামা বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের ফিরে আসার লড়াইও দেশের তামাম ক্রিকেটপ্রেমী জনতার নজর কেড়েছে। তাঁদেরই একজন করুণ নায়ার। আট বছর আগে শেষ আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ খেলেন। ঘরের মাটিতে। এই ইংল্যান্ডেরই বিরুদ্ধে। সেই সিরিজে তিনশো হাঁকিয়েও দলের বাইরে চলে যেতে হয়। আর ফিরে আসেননি।
ক্রিকেটের কাছে দ্বিতীয় সুযোগ চেয়েছিলেন করুণ। ঘরোয়া ক্রিকেটে দুরন্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে দলে প্রত্যাবর্তনের যে-দরজা উঁকি দিচ্ছিল, ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে অপ্রতিরোধ্য দ্বিশতরান করে সেই আধ-বোজা দুয়ার হাট করে খুলে দিয়েছেন। লিডসে প্রথম টেস্টে করুণ নায়ারের জায়গা পাওয়াটা মোটামুটি পাকা।
কিন্তু স্রেফ একবার জায়গা পেয়ে, মাঠে নেমে তারপর বিদায় নিতে নিশ্চয় ইংল্যান্ডে আসেননি টিম ইন্ডিয়ার এই মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। তার জন্য প্রমাণ করতে হবে নিজের ক্ষমতা, দেখাতে হবে ধারাবাহিকতা। কারণ, সুযোগ এন্তার আসবে না। সিট মাত্র একটি—বিরাট কোহলির ছেড়ে যাওয়া চার নম্বর পজিশন। অথচ প্রতিযোগী অনেক—অভিমন্যু ঈশ্বরন, সরফরাজ খান—সকলে চাইবেন জমি ধরে রাখতে। আর হারানো আসন হাতছাড়া করার যন্ত্রণা কতখানি, সেটা বোধ হয় করুণের চাইতে কেউ বেশি বোঝেন না!
ইংল্যান্ড লায়ন্সের বিরুদ্ধে ডবল সেঞ্চুরি করে নিঃসন্দেহে জায়গা পাকা করেছেন। কিন্তু ছিদ্রান্বেষী কিংবা সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলবেন বোলারদের নামযশ ও গুণমান নিয়ে। অজিত সিং ডালে, জমন আখতার, জশ হাল এবং এডি জ্যাক—যে চারজন পেসারের ডেলিভারি সামলালেন করুণ, তাঁরা কারা? ইংল্যান্ডের প্রথম টিমে আদৌ সুযোগ পাবেন? পেলে কবে?
হিসেব বলছে, অজিত এবং জমনের বোলিং অ্যাভারেজ যথাক্রমে ৩৫ এবং ৪২। দুজনেই অনিভিজ্ঞ, অপরিণত। খেলেন কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপের দ্বিতীয় ডিভিশনে। বাকি দুই পেসার—যশ ও এডি, যাদের বয়স সবে কুড়ি বছর পেরিয়েছে, মিলিতভাবে নেমেছেন মাত্র ২৬ ম্যাচে।
এই তথ্যই বলে দিচ্ছে ইংল্যান্ড লায়ন্স কতটা পিছিয়ে থাকা টিম। ইংল্যান্ডের জাতীয় দলের দু’নম্বর থাক বললেও ভুল হয় না! জমন আখতার সাউথ এশিয়ান ক্রিকেট অ্যাকাডেমির গ্র্যাজুয়েট। ইয়র্কশায়ারের বিরুদ্ধে পাঁচ উইকেট নিয়ে, যার মধ্যে জো রুট ও হ্যারি ব্রুকও ছিলেন, সম্প্রতি নজরে এলেও অভিজ্ঞতার ভাঁড়ার কার্যত শূন্য! অন্যদিকে ডেল গত কাউন্টি সিজনে নিয়েছেন নয় উইকেট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাউন্টি ক্রিকেটে সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে লায়ন্স টিম বাছা হলে তারা যেভাবে করুণদের বিপদে ফেলতে পারত, যশ, এডি কিংবা অজিতরা সেটা পারেননি। এই দল কিংবা এই মানের কোনও বোলার প্রথম টেস্ট খেলতে নামবেন না। ফ্রন্ট ফুট ও ব্যাক ফুটে যেভাবে মাঠের সমস্ত অঞ্চলে বিনা আয়াসে স্ট্রোক মেরেছেন করুণ, সেই সুযোগ ইংল্যান্ড বোলারদের বিরুদ্ধে কি তিনি পাবেন? ৮৯ রানের মাথায় লুজ বলে ক্যাচ তুলেছিলেন। ক্যাচ মিস করেন এমিলিও গে। ২০৪ রানের মর্যাদাকে এতটুকু লঘু না করেও বলা যায়, যোগ্য পরীক্ষা এখনও বাকি।
সমালোচকেরা তাই খোলামেলা জানাচ্ছেন: প্রি-টেস্ট আর ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও খাতা দেখায় বিস্তর ফারাক। পরীক্ষার্থী করুণ নায়ার কতটা প্রস্তুত, সেটা হেডিংলেতেই পাকাপাকিভাবে বোঝা যাবে।