রবিবারের রাতে তাঁর সেলফি শুধু সোনার মেডেল নয়, ছিল এক বিশ্বাসের প্রতীক। প্রতিকূলতাকে জয় করে উঠে দাঁড়ানোর, বিশ্বাসকে অস্ত্র করে অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রতিচ্ছবি।
.jpeg.webp)
জেমাইমা রদ্রিগেজ
শেষ আপডেট: 3 November 2025 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার রাত, নবি মুম্বইয়ের ডিওয়াই পাটিল স্টেডিয়াম। ঝলমলে আলো, আতসবাজির ঝলকানি, আর আকাশভরা উল্লাস। ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতীয় জার্সি গায়ে ২৫ বছরের এক তরুণী নিঃশব্দে ফোন তুললেন। গলায় ঝোলানো সোনার মেডেল ধরে মাঠে শুয়ে এক ক্লিকে বন্দি করলেন (Jemimah Rodrigues Selfie) আজীবনের এক জয়মুহূর্ত (Women's World Cup)। তিনি জেমাইমা রদ্রিগেজ (Jemimah Rodrigues) — ভারতীয় মহিলা ক্রিকেটের নতুন স্বপ্নের প্রতীক।
২ নভেম্বর, দক্ষিণ আফ্রিকাকে (South Africa) ৫২ রানে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছে ভারত। প্রথমবারের মতো আইসিসি (ICC) মহিলা বিশ্বকাপের (World Cup) শিরোপা এল দেশের ঝুলিতে। স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে গর্জে উঠেছিল একটাই স্বর, “ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া!” আর জেমাইমার গলায় ঝলমল করছিল সোনার প্রতিশ্রুতি— এক বিশ্বাসের জয়।
ব্যক্তিগত দিক থেকে এই জয় জেমাইমার জন্য ছিল এক গভীর পরিসমাপ্তি। মাত্র চার দিন আগে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ১২৭ রানের ইনিংস যেন ছিল কবিতার মতো— চাপকে পরিণত করেছিলেন সৌন্দর্যে, আর উদ্বেগকে আত্মবিশ্বাসে।
ম্যাচের পর জেমাইমা স্বীকার করেছিলেন, “গত মাসটা ভীষণ কঠিন ছিল। প্রায় প্রতিদিন কেঁদেছি। মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলাম। শুধু নিজেকে একটা বাণী নিজেকে মনে করিয়ে যেতাম— ‘স্থির থাকো, ঈশ্বরই লড়াই করবেন তোমার জন্য।’” এই বিশ্বাসই ছিল তাঁর রক্ষাকবচ।
জেমাইমার গল্প শুরু হয়েছিল মুম্বইয়ের ভান্ডুপ থেকে। তাঁর বাবা, আইভান রদ্রিগেজ, পেশায় স্কুল ক্রিকেট কোচ। মেয়েকে খেলানোর জন্যই তৈরি করেছিলেন মেয়েদের একটি দল। ভাই ইনক ও এলি ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বল করতেন, যাতে জেমাইমা শিখতে পারেন লেংথ, গতি আর সাহসের পাঠ।
কিন্তু ২০২২ সালের বিশ্বকাপে যখন তাঁকে দলে রাখা হয়নি, তখন যেন সবকিছু থমকে গিয়েছিল। স্বপ্নটা হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু জেমাইমা হাল ছাড়েননি। নিজের খেলা, মানসিক শক্তি আর বিশ্বাস— সবকিছুর ওপর কাজ করেছেন।
সেমিফাইনালের সেই মুহূর্তে, যখন তাঁকে অপ্রত্যাশিতভাবে তিন নম্বরে নামানো হয়, তখনই প্রমাণ করে দিলেন কেন তিনি আলাদা। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউরের সঙ্গে ১৬৭ রানের পার্টনারশিপ ভারতকে এগিয়ে দেয় জয়ের পথে।
হরমনপ্রীতের ভাষায়, “জেমি সবসময় দায়িত্ব নেয়। ওর মধ্যে অদ্ভুত পরিপক্বতা আছে। প্রতিবার মাঠে নামলেই বিশ্বাস করে— ও ভারতকে জেতাতে পারবে।”
রবিবারের রাতে তাঁর সেলফি শুধু সোনার মেডেল নয়, ছিল এক বিশ্বাসের প্রতীক। প্রতিকূলতাকে জয় করে উঠে দাঁড়ানোর, বিশ্বাসকে অস্ত্র করে অসম্ভবকে সম্ভব করার প্রতিচ্ছবি। জেমাইমা সেই সেলফিতে বন্দি করেছেন শুধু একটা ঐতিহাসিক জয়ই নয়, গোটা দেশের আনন্দ, অশ্রু আর গর্বের হৃদস্পন্দন।