টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup Venue) ভেন্যু ঘিরে জট কাটাতে রবিবার বিসিসিআই (BCCI) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah)।

মুস্তাফিজুর রহমান ও আইসিসি প্রেসিডেন্ট জয় শাহ
শেষ আপডেট: 10 January 2026 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের (T20 World Cup Venue) ভেন্যু ঘিরে জট কাটাতে রবিবার বিসিসিআই (BCCI) কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah)। তবে বাংলাদেশের (Bangladesh) সঙ্গে এই সমস্যা মেটানো যে সহজ হবে না, তা এখনই স্পষ্ট।
শুরুতে নিছক ভেন্যু বদলের অনুরোধ ছিল বটে, তবে তা ধীরে ধীরে রূপ নিয়েছে এক সংবেদনশীল অচলাবস্থায়। প্রথম চিঠিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আইসিসির কাছে জানায়, তারা ভারতের বদলে অন্য কোনও দেশে, বিশেষ করে শ্রীলঙ্কায় বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলতে চায়। কিন্তু দ্বিতীয় চিঠি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
বাংলাদেশের দাবি, বিষয়টি আর শুধুই যাতায়াত বা নিরাপত্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বোর্ডের মতে, জাতীয় মর্যাদায় আঘাত লেগেছে। আইপিএল থেকে আচমকা মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার ঘটনার পর এই ক্ষোভ আরও বেড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে স্পষ্ট শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে— ভারতে এলে বিশ্বকাপের পুরো দলের প্রতিটি সদস্যের জন্য আলাদা করে ‘ম্যান-টু-ম্যান’ নিরাপত্তা চাই। ক্রিকেটার, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, কর্তারা কেউ বাদ যাবেন না। বার্তা স্পষ্ট, নিরাপত্তার পাশাপাশি সম্মানের প্রশ্নও জড়িয়ে।
এই জটিল পরিস্থিতিই এখন জয় শাহের সামনে। এখনও পর্যন্ত আইসিসি আনুষ্ঠানিক ভাবে বাংলাদেশের দাবির জবাব দেয়নি।
প্রথম ধাপে জয় শাহকে বিসিসিআই এবং আইসিসির অপারেশনস টিমের সঙ্গে বসে বর্তমান নিরাপত্তা ও আয়োজন পরিকল্পনা খতিয়ে দেখতে হবে। কোথায় বাংলাদেশ মনে করছে তারা উপেক্ষিত বা আশ্বস্ত হয়নি, সেটাও বোঝা জরুরি। তবে শুধু কাগজে-কলমে পর্যালোচনায় সমস্যার সমাধান হবে না।
আসল চ্যালেঞ্জ হল, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় এমন সমাধান খুঁজে বের করা, যাতে তারা চাপে পড়ছে বলে মনে না করে। নিরাপত্তা নিয়ে স্পষ্ট আশ্বাস, স্বচ্ছ যোগাযোগ বা কিছুটা লজিস্টিক নমনীয়তা— এই সবের মধ্যে দিয়েই হয়তো সমাধানের পথ বেরোতে পারে। তবে বিশ্বকাপের কাঠামোও অক্ষুণ্ণ রাখতে হবে।
বাংলাদেশকে বাদ দেওয়া কোনও ভাবেই সহজ বিকল্প নয়। তারা যোগ্যতা অর্জন করেছে। তাদের বাদ দিলে আইসিসির বোর্ডে ভোটাভুটি থেকে শুরু করে আইসিসি ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের ভিতরের সমীকরণ, সবই অস্থির হয়ে উঠতে পারে। ভবিষ্যতের টুর্নামেন্টের ক্ষেত্রেও তৈরি হবে বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত।
পরিস্থিতি আরও জটিল, কারণ বাংলাদেশের ভিতরেও এই পরিকল্পনার বিরোধিতা শুরু হয়েছে। দেশের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল প্রকাশ্যেই এই সিদ্ধান্তকে জাতীয় মর্যাদার প্রশ্ন বলে আখ্যা দিয়েছেন। এই অবস্থায় জয় শাহের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁকে ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বিশ্ব ক্রিকেটের নিরপেক্ষ অভিভাবক হিসেবে কাজ করতে হবে, যিনি উত্তেজনা কমিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারেন।