আশরাফুলের বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশ্ন, মুস্তাফিজের জায়গায় অন্য কেউ হলে কি একই সিদ্ধান্ত সামনে আসত?

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 9 January 2026 13:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়ার ক্রিকেট প্রশাসন এখন আর খেলোয়াড় বা খেলার হাতে নেই—পুরোটাই রাজনীতিকদের দখলে। সরাসরি এই অভিযোগ তুললেন বাংলাদেশের প্রাক্তন ক্রিকেট কর্তা সৈয়দ আশরাফুল হক (Syed Ashraful Haque)। ভারত ও বাংলাদেশের বোর্ডের সাম্প্রতিক টানাপড়েনকে সামনে রেখে তাঁর বক্তব্য, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ গোটা ক্রিকেট ব্যবস্থাকে বিপদের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রশাসনে রাজনীতি, খেলার জায়গা সঙ্কুচিত
হক স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান—সব জায়গাতেই ক্রিকেটের প্রশাসন ‘হাইজ্যাক’ হয়ে গিয়েছে। যুক্তি, আগে যাঁরা বোর্ড চালাতেন, তাঁরা খেলা বুঝতেন। তাই এমন পরিস্থিতি তৈরি হত না। নাম না করেও ইঙ্গিতে বক্তব্য স্পষ্ট: ভারতীয় বোর্ড বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (Board of Control for Cricket in India) এবং বাংলাদেশ বোর্ড বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (Bangladesh Cricket Board)—দু’পক্ষই এখন রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে পরিচালিত হচ্ছে। আর এই প্রেক্ষাপটেই আশরাফুলের নিশানায় আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ (Jay Shah)। বলছেন, ‘যিনি কখনও প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি, তাঁর হাতে এত বড় সিদ্ধান্ত চলে যাওয়া ক্রিকেটের পক্ষে শুভ নয়।’
মুস্তাফিজ বিতর্ক থেকে বিশ্বকাপের ঝুঁকি
বিতর্কের সূত্রপাত বাংলাদেশের পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে (Mustafizur Rahman) আইপিএলে খেলতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (Indian Premier League 2026) এই নিষেধাজ্ঞার জেরে বাংলাদেশ বোর্ডের আশঙ্কা, ভারতে নিরাপত্তার ঝুঁকি রয়েছে। যে কারণে তারা আইসিসিকে বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) তাদের নিজেদের ম্যাচ অন্যত্র সরানোর আর্জি জানায়। হকের বক্তব্য পরিষ্কার—আইপিএল আর বিশ্বকাপ এক নয়। আইপিএল ঘরোয়া লিগ, কিন্তু বিশ্বকাপ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। সেখানে এমন ‘আবেগতাড়িত’ বা রাজনৈতিক মন্তব্য গোটা প্রতিযোগিতাকেই অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়।
‘ধর্মীয় আবেগে’ সিদ্ধান্ত, সমাধান শ্রীলঙ্কা?
আশরাফুলের আরও বক্তব্য, এই সিদ্ধান্তে ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রশ্ন, মুস্তাফিজের জায়গায় অন্য কেউ হলে কি একই সিদ্ধান্ত সামনে আসত? তাঁর মতে, ভোটের রাজনীতির জেরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ঝুঁকির মুখে। সমাধান হিসেবে তিনি একটি বাস্তবসম্মত রাস্তা দেখিয়েছেন—ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় (Sri Lanka) নিয়ে যাওয়া হোক! এতে কারও মুখরক্ষা হবে, টুর্নামেন্টও বাঁচবে। বাংলাদেশ আর্থিক ক্ষতির কথা ভেবে পিছিয়ে নেই বলে তাঁর দাবি। যুক্তি একটাই: ‘জাতীয় মর্যাদা টাকার থেকে বড়!’