রঞ্জি ট্রফির ৯০ বছরের বেশি ইতিহাসে এই প্রথম জম্মু ও কাশ্মীরের শিরোপা জিতল। সাড়ে ছয়েরও বেশি দশকের অপেক্ষা শেষ। রাজ্যের তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে এই সাফল্য বড় বার্তা।

বিজয়ী জম্মু ও কাশ্মীর
শেষ আপডেট: 28 February 2026 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাত দশকের প্রতীক্ষা। অসংখ্য ব্যর্থতা। বারবার খালি হাতে ফিরে আসা। অবশেষে স্বপ্নপূরণ! সবাইকে চমকে দিয়ে, তাবড় ‘বড় টিম'কে ঘোল খাইয়ে প্রথমবারের মতো রঞ্জি ট্রফি (Ranji Trophy 2026) জিতে নিল জম্মু ও কাশ্মীর (Jammu and Kashmir)। ফাইনালে কর্নাটককে (Karnataka) কার্যত পাঁচ দিনই নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রথম ইনিংসে ২৯১ রানের বিশাল লিডের দৌলতে হাতে এল ঐতিহাসিক শিরোপা।
প্রাক্তন অধিনায়ক পারভেজ রসুল (Parvez Rasool) কয়েক দিন আগেই লিখেছিলেন, ‘এটা আর স্বপ্ন নয়, বাস্তব। প্রায় সাত দশক পর আমরা জাতীয় চ্যাম্পিয়ন।’ সেই কথাই যেন ময়দানি লড়াইয়ে সত্যি হয়ে উঠল!
প্রথম ইনিংসেই ঘুরে গেল ম্যাচের মোড়
ফাইনালের আসল ফারাক গড়ে দেয় প্রথম ইনিংস। জম্মু ও কাশ্মীর ৫৮৪ রানের বিশাল স্কোর তোলে। জবাবে কর্নাটক থামে ২৯৩-এ। ২৯১ রানের লিড—রঞ্জি ফাইনালের মতো মঞ্চে যা অতিক্রম করা প্রায় অকল্পনীয়!
দ্বিতীয় কার্যত কার্যত সেটাই হয়েছে৷ কর্নাটকের হয়ে মায়াঙ্ক আগরওয়াল (Mayank Agarwal) লড়াই চালালেও বাকিরা সেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে ব্যর্থ। উল্টোদিকে বল হাতে আগুন ঝরান আকিব নবি (Auqib Nabi)। ধারাবাহিক সুইং ও নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথে ভেঙে দেন কর্নাটকের ভিত।
এই লিড পাওয়ার পর থেকেই ম্যাচের ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে জম্মু ও কাশ্মীর। তারা আর রক্ষণাত্মক হয়নি। বরং, খেলা টেনে নিয়ে গেছে পরিকল্পনা মাফিক।
পাঁচ দিনের নিয়ন্ত্রণ
ফাইনাল অনেক সময় এক-দু’টি সেশনে ঘুরে যায়। কিন্তু এখানে তা হয়নি। কর্নাটক মাঝেমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে লড়াইয়ে ফিরে আসার—কখনও ব্যাটে, কখনও বল হাতে। তবু প্রতিবারই জম্মু জবাব দিয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে কামেরান ইকবাল (Qamran Iqbal) ধৈর্য নিয়ে ইনিংস গড়েন। লিড বাড়তে থাকে। শেষ দিন লাঞ্চের পর পাকা ঘোষণা। ততক্ষণে বোর্ডে যা লেখা, তাতে স্পষ্ট—কর্নাটকের আর ফিরে আসার রাস্তা নেই!
বিশেষজ্ঞদের নজরে, এই জয় ভেঙে পড়া প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নয়। বরং, ধাপে ধাপে গড়া আধিপত্যের ফল। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল জম্মু ও কাশ্মীরের হাতেই।
ইতিহাসের পাতা নতুন করে লেখা
রঞ্জি ট্রফির ৯০ বছরের বেশি ইতিহাসে এই প্রথম জম্মু ও কাশ্মীরের শিরোপা জিতল। সাড়ে ছয়েরও বেশি দশকের অপেক্ষা শেষ। রাজ্যের তরুণ ক্রিকেটারদের কাছে এই সাফল্য বড় বার্তা। কঠিন পরিবেশ, সীমিত সুযোগ—তবু স্বপ্ন থামেনি। ফাইনালের অন্তিম সেশনে কর্নাটক মেনে নেয় কঠিন বাস্তব। আর জম্মু ও কাশ্মীর নতুন পরিচয়ের উদ্যাপনে মাতে—সাত দশকের অপেক্ষা আর পাঁচ দিনের দাপট শেষে তারা আজ ‘ন্যাশনাল চ্যাম্পিয়ন’।