ভারতীয় দল অবশ্য বিষয়টা নিয়ে তেমন প্রকাশ্যে কিছু বলছে না। বরং, এশিয়া কাপে ম্যাচের পর করমর্দন এড়িয়ে, সেনাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 24 September 2025 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের ক্রিকেটে ফের নতুন বিতর্ক। এবার স্পটলাইটে মহিলা দল। বাঁ-হাতি স্পিনার নাশরা সান্ধু (Nashra Sandhu) দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুরন্ত কায়দায় ছয় উইকেট নেওয়ার পর দু’হাতে ছ’আঙুল দেখিয়ে যে ভঙ্গি করেছেন, তাকে ঘিরে উঠেছে একগুচ্ছ প্রশ্ন। এটা কি নিছক নিজের দুর্দান্ত সাফল্য উদ্যাপন? নাকি হ্যারিস রউফের (Haris Rauf) মতোই সুপরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক বার্তা ছড়ানোর ধান্দা?
লাহোরের গদ্দাফি স্টেডিয়ামে (Gaddafi Stadium) সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর নাশরার জন্য ছিল স্মরণীয় দিন। কেরিয়ারের সেরা বোলিং স্পেল—ছ’উইকেট। সেইসঙ্গে আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে শততম শিকারের মাইলফলক। পাকিস্তানও জিতল ছয় উইকেটে। এমন দিনে তিনি ম্যাচ শেষে হাসিমুখে তোলা ছবিতে হাতের আঙুলে ‘৬’ দেখিয়ে আনন্দ জাহির করেন।
শুরুতে মনে হচ্ছিল, নিছক উৎসব। ছ’উইকেট দখলের পাশপাশি সমসংখ্যক উইকেটে জয়—তাতে ছ’খানা আঙুল দেখানো অস্বাভাবিক কিছু নয়। কিন্তু ছবিটি দেখামাত্র সোশ্যাল মিডিয়া মুহূর্তে তুলনা টেনে আনল হ্যারিস রউফের সঙ্গে। এশিয়া কাপে ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচে বিরাট কোহলির নামে গ্যালারি গর্জে উঠলে ক্ষিপ্ত হ্যারিস বারবার আঙুল দেখান, বিমান-পতনের ভঙ্গিও করেন! ইঙ্গিতে পাকিস্তানের দাবি—সীমান্ত সংঘাতে তারা ছ’টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান নামিয়েছে—তাকেই বুঝিয়ে দিতে চান। ‘অপারেশন সিঁদুর’ ঘিরে যে প্রচার, তার সঙ্গে মিশে যায় হ্যারিসের সংকেত। আর সেই রেশ কাটতে না কাটতেই এবার নাশরার ছ’আঙুল দেখে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—তাহলে কি আবারও ভারতকে খোঁচা দিলেন এই মহিলা ক্রিকেটার?
প্রসঙ্গত, এশিয়া কাপে পাক ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর বন্দুক চালানোর ভঙ্গি করে ঝড় তোলেন। মাঠে এমন প্রতীকী আচরণে ক্রিকেট ও রাজনীতির সীমারেখা বারবার ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। একপক্ষের হুঙ্কারে অন্য পক্ষ পালটা বার্তা দিচ্ছে। ভারতীয় পেসার অর্শদীপ সিং-ই যেমন নিজস্ব কায়দায় হ্যারিসকে জবাব ছুড়েছেন। যে কারণে প্রাক্তন তারকা ইরফান পাঠান পর্যন্ত পাক ক্রিকেটারদের এই বাড়াবাড়ির প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বলেন, ‘খেলার মাঠে এভাবে রাজনীতি টেনে আনা ঠিক নয়!’
এই আবহে নাশরার উদ্যাপন ঘিরে সন্দেহ দানা বাঁধছে। যাঁরা রাজনৈতিক রং দেখছেন, তাঁদের মতে—হ্যারিস–ফারহানদের পর এবার মহিলা দলও একই সুরে সুর মেলাল। যদিও অন্য পক্ষের যুক্তিও কম শক্তিশালী নয়। যে দিনে ছ’উইকেট নিয়ে পাকিস্তানকে ম্যাচ জেতালেন এবং নিজের ১০০ উইকেট পূর্ণ করলেন, সেদিন যদি ছ’আঙুল দেখিয়ে ছবি তোলেন—তাকে নিছক উদ্যাপন ভাবতে অসুবিধে কোথায়?
আসলে সমস্যা হচ্ছে, ভারতের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার আবহে যদিও যে-কোনও প্রতীকী ভঙ্গিই দ্রুত রাজনৈতিক ছায়া পেয়ে যাচ্ছে। পাকিস্তান দলে এমন আচরণ বারবার চোখে পড়ছে, তাতে অনেকের মনেই প্রশ্ন—এ সব নিছক কাকতালীয়? নাকি পরিকল্পিত উল্লাস?
ভারতীয় দল অবশ্য বিষয়টা নিয়ে তেমন প্রকাশ্যে কিছু বলছে না। বরং, এশিয়া কাপে ম্যাচের পর করমর্দন এড়িয়ে, সেনাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করছে। বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়াও (BCCI) বারবার জানিয়ে দিয়েছে—পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের প্রশ্নই ওঠে না, কেবল বহুজাতিক টুর্নামেন্টেই লড়াই হবে।