চিন্নাস্বামীর মাঠে ২৫ বলে ৭০ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে চেন্নাইকে ওড়ালেন টিম ডেভিড। গোলিয়াথের মতো এই নির্মম প্রহারের নেপথ্যে দীনেশ কার্তিকের দেওয়া বিশেষ টোটকা। বিস্তারিত ম্যাচ রিপোর্ট পড়ুন।

টিম ডেভিড
শেষ আপডেট: 6 April 2026 10:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তাঁর নাম ডেভিড। কিন্তু দৈহিক আকার আর ব্যাট হাতে নির্মম প্রহার মনে করিয়ে দেয় গোলিয়াথের কথা। সেই বাইবেল-কথিত বিশালাকায় দৈত্য। যে প্রতিপক্ষকে নিকেশ করত নিমেষে।
গতরাতে চিন্নাস্বামীর ময়দানে এমনই এক গোলিয়াথের উত্থান দেখল ক্রিকেট দুনিয়া। তিনি টিম ডেভিড (Tim David)। আরসিবির পিঞ্চ হিটার। চেন্নাই সুপার কিংসকে একাহাতে নিকেশ করলেন। ২৫ বলে ৭০। ইনিংস সাজানো আটটা ছক্কায়। কার্যত একাহাতে ধ্বংসলীলা চালালেন।
লড়াই প্রত্যাশিতভাবে জিতে নিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আর ম্যাচ শেষে নায়ক ডেভিড কবুল করলেন, ধুন্ধুমার ইনিংস হঠাৎ করে আসেনি। এর পিছনে ছিল প্রস্তুতি, পরিকল্পনা আর এক ভারতীয়র গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ। তিনি দীনেশ কার্তিক (Dinesh Karthik)। বিরাট কোহলি (Virat Kohli) নন, বরং আরসিবি-র ব্যাটিং কোচই ডেভিডকে বেঙ্গালুরুর এই কন্ডিশনের জন্য তৈরি করেছেন।
ম্যাচ শেষে ডেভিড স্পষ্ট জানালেন—তিনি নিজের খেলা বদলান না, কিন্তু প্রস্তুতিটাই পার্থক্য গড়ে দেয়। সেই প্ল্যানিংয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা কার্তিকের। অভিজ্ঞতার সুবাদে তিনি বুঝিয়েছেন, চিন্নাস্বামীর ছোট মাঠে কীভাবে শট নির্বাচন করতে হয়, কোন লেন্থে আক্রমণ শানানো জরুরি। ডেভিডের কথায়, ‘আমি খেলার ধাঁচ খুব একটা বদলাই না। কিন্তু প্রস্তুতি থেকে আত্মবিশ্বাস পাই। ডিকে-র (দীনেশ কার্তিক) সঙ্গে কাজ করা দারুণ অভিজ্ঞতা। এই পরিবেশে ওর অভিজ্ঞতা বিশাল।’সেই প্রস্তুতির ফলশ্রুতি—৮টা ছক্কা, ম্যাচ ঘোরানো ইনিংস।
ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনেই ইঙ্গিত মিলেছিল। টিম ডেভিড ও রোমারিও শেফার্ড (Romario Shepherd)—দু’জনের ব্যাট থেকেই বল শুধু বাউন্ডারি নয়, স্টেডিয়ামের বাইরে উড়ে যাচ্ছিল। প্রায় আধঘণ্টার সেশনে দুই তারকাই ডজনখানেক ছক্কা হাঁকিয়েছেন। ডেভিডের চোখে, এই প্র্যাকটিস কোনও ‘ক্যাজুয়াল হিটিং’ নয়। বরং, নির্দিষ্ট স্কিল। ওভার বাউন্ডারি মারাও আধুনিক ক্রিকেটে আর কাকতালীয় ঘটনা নয়—এটা পরিকল্পিত দক্ষতা। ডেভিড মজার ছলে জানান, প্র্যাকটিসে তাঁরা ছাদে বল মারার প্রতিযোগিতা চালান, ম্যাচে সেটাই করে দেখিয়েছেন।
চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings) বিরুদ্ধে লড়াইয়ের মোড় ঘুরেছে শেষ পাঁচ ওভারে। টিম ডেভিড ও রজত পাটিদার (Rajat Patidar) মিলে ৯৭ রান তোলেন। আরসিবি অধিনায়ক নিজে ১৯ বলে ৪৮ করলেও স্পটলাইটে একাই দীর্ঘদেহী ডেভিড। যিনি রণং দেহী মেজাজে প্রথম ইনিংসেই ম্যাচ শেষ করে দেন।
সবই যে অজি ব্যাটারের হাতযশ এমনটা নয়। সিএসকে বোলারদের ছন্নছাড়া বোলিং নিয়েও আগামী কয়েক দিন কাটাছেঁড়া চলবে। বোলাররা ইয়র্কার করতে গিয়ে বারবার ভুল করেছেন। ফুল লেন্থ মিস করে বল পড়েছে ‘হিটিং আর্ক’-এ। সেই সুযোগ হাতছাড়া করেননি ডেভিড। তাঁর পাঁচটি ছক্কাই এসেছে লং-অন থেকে লং-অফের মাঝখান বরাবর—যা তাঁর বরাবরের প্রিয় জোন। অধিনায়ক পাটিদার এই চোখধাঁধানো ইনিংস কাছ থেকে দেখতে পেয়ে আপ্লুত। স্বীকার করে নেন, ‘ডেভিড স্পেশালিস্ট। আমি যত ফিনিশার দেখেছি, তাতে ও সেরাদের মধ্যে।’কথাটা গতরাতে মাঠেই প্রমাণিত।
এই ইনিংস শুধু ম্যাচ জেতায়নি। ডেভিডকে নতুনভাবে সামনে এনেছে। আইপিএলে কাল হাঁকালেন দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরি, কিন্তু প্রভাবের দিক থেকে অনেক বড়। এতদিন ছোট ছোট ক্যামিওতে সীমাবদ্ধ থাকলেও এবার ডেভিড নিজেই ম্যাচের কেন্দ্রবিন্দু। রেকর্ড বলছে, আরসিবি এই মুহূর্তে ছক্কা মারার নিরিখে লিগের সেরা দল। তাদের ‘বল প্রতি ছক্কা’রেট ৬.৭—যা টুর্নামেন্টের গড়ের প্রায় দ্বিগুণ। পরিসংখ্যান বুঝিয়ে দিচ্ছে, বেঙ্গালুরুর ব্যাটিং স্ট্র্যাটেজি কতটা পরিষ্কার।