এই পরাজয় শুধু স্কোরলাইনে নয়, মানসিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা। দুই ম্যাচের দুটোতেই হার—কেকেআরের জন্য এখন পরিস্থিতি কঠিন।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদ
শেষ আপডেট: 3 April 2026 11:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরুটা বিধ্বংসী, প্রবল আক্রমণাত্মক। মনে হচ্ছিল, বড় রান তাড়া করেও ম্যাচ জিতে নিতে পারে কলকাতা নাইট রাইডার্স (Kolkata Knight Riders)। কিন্তু ক্রিকেটে শুরু নয়, শেষটাই আসল। আর সেই উপসংহারেই দলের ব্যাটিং লাইন আপ ভেঙে পড়ল। ২২৭ তাড়া করতে নেমে ১১০/৩—সেখান থেকে অলআউট ১৬১! দিনের শেষে ৬৫ রানে হার। অন্যদিকে সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (Sunrisers Hyderabad) তুলে নিল মরসুমের প্রথম পয়েন্ট (sunrisers hyderabad vs kolkata knight riders match scorecard)।
‘ট্র্যাভিষেক’ ঝড়, ক্লাসেনের ফিনিশ
ম্যাচের শুরুতে তাণ্ডব চালান ট্র্যাভিস হেড (Travis Head) ও অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma)—হালফিলে ক্রিকেট মহল যাদের ডাকছে ‘ট্র্যাভিষেক’ বলে। ওপেনিং জুটি মাত্র ৫.৪ ওভারে ৮২ রান! হেড ২১ বলে ৪৬, অভিষেক ২১ বলে ৪৮—এই পার্টনারশিপই ম্যাচের ভিত গড়ে দেয়। কেকেআরের ‘খলনায়ক’ বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy)। তাঁর এক ওভারে ২৫ রান—সেখানেই দল চাপে পড়ে যায়। মাঝে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর সু্যগ ছিল ঠিকই। কিন্তু তাতে লাভের লাভ হয়নি। সৌজন্যে হেনরিক ক্লাসেন (Heinrich Klaasen)। ৩৫ বলে ৫২ রান হাঁকিয়ে শেষ ৪ ওভারে দলের ৫১ রান তোলার পথ তৈরি করেন। ফল—নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে ২২৬/৮, আপাতত চলতি মরসুমের সর্বোচ্চ স্কোর!
ফেরার চেষ্টাতেও শেষরক্ষা নয়
বল হাতে কেকেআর মিডল ওভারে লড়াই দেখাচ্ছিল ঠিকই। মুজারবানির (Blessing Muzarabani) জোড়া উইকেট, অনুকূল রায়ের (Anukul Roy) ব্রেকথ্রু—ম্যাচ কিছুটা হলেও সমতায় ফেরে। ১০-১৪ ওভারে ওঠে মাত্র ৩৭ রান। এই সময়টাই ছিল কামব্যাকের সুযোগ। কিন্তু শেষের দিকে আবার নিয়ন্ত্রণ হারান রাহানেরা। ক্লাসেন-নীতীশ রেড্ডি (Nitish Kumar Reddy) জুটি ম্যাচ হাতছাড়া করে দেয়।
রঘুবংশীর লড়াই, তারপর ধস
২২৭ তাড়া করতে নেমে দুরন্ত শুরু করে কলকাতা। ফিন অ্যালেন (Finn Allen) প্রথম ওভারেই ২৪ রান তোলেন। তারপর মঞ্চে এন্ট্রি অঙ্গকৃশ রঘুবংশীর (Angkrish Raghuvanshi)। ২৭ বলে অর্ধশতরান—স্নায়ুচাপ সামলে দারুণ ইনিংস। ১০ ওভারে স্কোর ১১০/৩—ম্যাচ তখন পুরোপুরি খোলা। ফলাফল যে কোনও দিকে হেলে যেতে পারত। কিন্তু এখানেই টার্নিং পয়েন্ট।
প্রথমে ক্যামেরন গ্রিন (Cameron Green) রান আউট। তারপর ভুল বোঝাবুঝিতে সাজঘরে ফিরলেন স্বয়ং রঘুবংশী। এই দুই মুহূর্তেই ম্যাচ ফসকে বেরিয়ে যায়। আর লড়াই জমেনি। রিঙ্কু সিং (Rinku Singh) কিছুটা চেষ্টা করলেও সঙ্গ পাননি। নীতীশ রেড্ডি ও মালিঙ্গা (Eshan Malinga) দ্রুত উইকেট তুলে নেন। ১৫ ওভারে স্কোরকার্ড বলছে ১৫৫/৬। তারপর ধস নামে হুড়মুড়িয়ে। ১৬ ওভারেই অলআউট কেকেআর।
এই পরাজয় শুধু স্কোরলাইনে নয়, মানসিক দিক থেকেও বড় ধাক্কা। দুই ম্যাচের দুটোতেই হার—কেকেআরের জন্য এখন পরিস্থিতি কঠিন। আর সানরাইজার্স? বুঝিয়ে দিল—বড় রান তুললে, সেটা রক্ষা করতেও জানতে হয়। এবারের মরসুমে সেই বিদ্যা আপাতত তাদের আয়ত্তে।