আইপিএল ২০২৬-এ ইডেনের মাঠে কেকেআরকে হারিয়ে প্রথম জয় পেল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ব্যাট ও বল হাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিলেন অলরাউন্ডার নীতীশ কুমার রেড্ডি। ম্যাচের পর হায়দরাবাদের বোলিং নিয়ে কী বার্তা দিলেন নীতীশ?

নজরে নীতীশ
শেষ আপডেট: 3 April 2026 12:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আইপিএল বলে নয়, টি-২০ ফর্ম্যাটেই আলো সবসময় ব্যাটারদের উপর থাকে। সানরাইজার্স হায়দরাবাদ (SRH, IPL 2026) তার ব্যতিক্রম নয়। গতরাতে ইডেনের ময়দানে কথাটা আরও একবার প্রমাণিত হল। প্রথমে ‘ট্র্যাভিষেক’ ঝড়, স্কোরবোর্ডে ঝলমলে ২০০+ টার্গেট—সবই সত্য। কিন্তু ইডেনে ফ্লাডলাইটের আলোয় ছবিটা বদলে দিলেন যিনি, তিনি আদতে অলরাউন্ডার। নাম: নীতীশ কুমার রেড্ডি (Nitish Kumar Reddy)। ব্যাটে, বলে—দু’দিকেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে একটাই বার্তা দিলেন: ‘সবাই যতই দুর্বল ভাবুক, আমাদের বোলিং ইউনিট কিন্তু কম যায় না!’
ব্যাটে ভরসা, চাপ সামলে ম্যাচে ফেরা
হেড-অভিষেকের ঝড়ের পর মাঝপথে কিছুটা থমকে গিয়েছিল হায়দরাবাদ। সেই সময় পাল্টা আক্রমণে নীতীশ। হেনরিখ ক্লাসেনের (Heinrich Klaasen) সঙ্গে ৮২ রানের জুটি—ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। ব্যাট হাতে এল মাত্র ৩৯ রান। সংখ্যাটা ছোট মনে হতে পারে। কিন্তু নীতীশের পরিস্থিতি বুঝে খেলার জোরেই সানরাইজার্স ২২০ রানের গণ্ডি পেরতে পারল। শেষ পর্যন্ত ২২৬—ম্যাচ জেতার ভিত তৈরি হল তখনই।
বল হাতে আঘাত
তবে নীতীশের আসল ভূমিকা সামনে এল বল হাতে। যখন কেকেআর (KKR, Kolkata Knight Riders) ১১০/৩, ম্যাচ তখনও পুরোপুরি খোলা। ঠিক সেই সময় পরপর আঘাত হানলেন নীতীশ। প্রথমে অনুকূল রায় (Anukul Roy)। তারপর রিঙ্কু সিং (Rinku Singh)—সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। ২ ওভারে ১৭ রান, ২ উইকেট। ছোট কিন্তু কার্যকরী স্পেলেই খেলা শেষ। কামব্যাকের গন্ধ পাওয়া কেকেআরের কোমর ভেঙে দেন নীতীশ।
‘নেগেটিভ ভাবনা’ ভুলে ম্যাচ উইনার
এই পারফরম্যান্স হঠাৎ আসেনি। গত এক বছর নীতীশের জন্য সহজ ছিল না। চোট, খারাপ ফর্ম—সব মিলিয়ে জায়গা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। নিজেই মেনে নেন, দুর্যোগের দিনে মাথায় ঘুরছিল ‘নেগেটিভ চিন্তা’। বিশেষ করে গত আইপিএলে ব্যাট-বল—দুটোতেই প্রভাব ফেলতে ব্যর্থ নীতীশ রেড্ডি। তারপর কিছুদিনের বিরতি নিয়ে ফের শুরু। এই সময় বোলিংয়ে আলাদা করে কাজ করেছেন। এখন তার ফল মিলছে। নিজেই বললেন, ‘আমি এই ম্যাচটার অপেক্ষায় ছিলাম।’
‘আমাদের বোলিং দুর্বল নয়’
ম্যাচের পর নীতীশের মন্তব্যই আসল হেডলাইন। অনেক বিশেষজ্ঞের ধারণা, সানরাইজার্স হায়দরাবাদ মানেই শক্তিশালী ব্যাটিং, দুর্বল বোলিং। সরাসরি সেই তত্ত্ব খারিজ করেছেন নীতীশ। জানালেন, জয়দেব উনাদকাট (Jaydev Unadkat), ঈশান মালিঙ্গা (Eshan Malinga), হর্ষ দুবে (Harsh Dubey)—সবাই নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করেছেন। ডেভিড পেইন (David Payne) একটু রান খরচ করলেও বাকিরা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। কেকেআরকে ১৬ ওভারে ১৬১-এ গুটিয়ে দেওয়া… প্রশ্নের মুখে থাকা বোলিং ইউনিটের জোরালো জবাব।
সব মিলিয়ে, ইডেনের রাতটা শুধু হায়দরাবাদের প্রথম জয় নয়। এটা নীতীশ কুমার রেড্ডির প্রত্যাবর্তনের গল্প। আর সেই সঙ্গে একটা স্পষ্ট বার্তা—সানরাইজার্স শুধু ব্যাটিং দিয়ে নয়, বল হাতেও ম্যাচ জিততে জানে।