আইপিএলে লখনউয়ের জার্সিতে পুরনো দল সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মধুর প্রতিশোধ মহম্মদ সামির। ৪ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের কড়া বার্তা দিলেন তিনি। বিস্তারিত পড়ুন।

মহম্মদ সামি
শেষ আপডেট: 5 April 2026 17:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (Sunrisers Hyderabad) ব্যাটাররা নিছক এক অভিজ্ঞ বোলারের দুরন্ত বোলিং স্পেলের মুখে পড়েননি। আরেকটু তলিয়ে দেখলে, তাঁরা নিজেদেরই এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে লড়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছে্ন ও হার মেনেছেন। ম্যাচের লড়াই এখনও শেষ হয়নি। কিন্তু ঈশান, অভিষেকদের ব্যাটিং ইউনিট যেভাবে মহম্মদ সামির (Mohammed Shami) সামনে কার্যত আত্মসমর্পণ করল, তাতে চূড়ান্ত ফলাফলের আগেই ব্যক্তিগত যুদ্ধ জিতে নিলেন অভিজ্ঞ বোলার। সেই সামি, যাঁকে আইপিএলের আগে লখনউ সুপার জায়ান্টসে (Lucknow Super Giants) ট্রেড করা হয়েছিল। তিনি ফিরে এলেন হায়দরাবাদের মাঠে, কিন্তু অন্য জার্সিতে। আর প্রত্যাবর্তনেই বুঝিয়ে দিলেন, তাঁর প্রাক্তন দল ঠিক কী হারিয়েছে!
রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে (Rajiv Gandhi International Stadium) আজ সামির স্পেল ছিল নিখুঁত। ৪ ওভারে ২ উইকেট, খরচ মাত্র ৯ রান। ইকোনমি ২.২৫—টি-২০ ক্রিকেটে যা প্রায় অবিশ্বাস্য। শুধু উইকেট শিকারই নয়, শুরুতে ম্যাচের গতিপথও পাল্টে দেন তিনি।
অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) আউট হন প্রথম ওভারে। তারপর ট্র্যাভিস হেড (Travis Head)। এই জোড়া ধাক্কায় নিমেষে ৮/২ হয়ে যায় হায়দরাবাদ। দ্রুত ফেরেন ইশান কিষাণও (Ishan Kishan)। ৪ ওভারের মধ্যেই টপ অর্ডার ভেঙে পড়ে হুড়মুড়িয়ে। ৯ ওভার শেষে স্কোর ৩১/৪—যা কার্যত ব্যাটিং লাইন আপের ভিত নাড়িয়ে দেয়। এই ধাক্কা থেকে বেরোতে পারেনি হায়দরাবাদ। পাওয়ারপ্লেতে আসে মাত্র ২২ রান—দলের স্বভাববিরুদ্ধ ছবি!
এই ম্যাচের গুরুত্ব আলাদা। কারণ, সামি গত মরসুমে ছিলেন হায়দরাবাদে। ১০ কোটি টাকায় তাঁকে দলে নিয়েছিল এই ফ্র্যাঞ্চাইজি। কিন্তু পারফরম্যান্স হতাশাজনক। ৯ ম্যাচে মাত্র ৬ উইকেট। বোলিং গড় ৫৬.১৬, ইকোনমি ১১.২৩। এমনকি এক ম্যাচে ০/৭৫—আইপিএল ইতিহাসে অন্যতম খরুচে স্পেল। যার জেরে মহানিলামের আগে হায়দরাবাদ তাঁকে ছেড়ে দেয়। সুযোগ বুঝে লখনউ ঝুঁকি নেয়, একই দামের বিনিময়ে সই করানো হয় সামিকে। আর এই দলবদলের সিদ্ধান্তই যেন বুমেরাং হয়ে ফিরল। যাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, তিনিই ফিরে এসে ধস নামালেন পুরনো টিমের ব্যাটিং ইউনিটে।
এই পারফরম্যান্স শুধু আইপিএলের ম্যাচে আটকে নেই। আড়ালে লুকিয়ে বড় বার্তাও। জাতীয় দলে (Indian Team) ফেরার লড়াইয়ে থাকা সামি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিলেন—তিনি এখনও ফুরিয়ে যাওয়ার পাত্র নন। ভারতের অভিজ্ঞ বোলার আজ শুধু উইকেট নেননি। নতুন বলে নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছেন। রান আটকেছেন। ব্যাটারদের শট খেলতে দেননি। মেলে ধরেছেন সেই ‘নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন’, যা আধুনিক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রয়োজন। একই ইনিংসে অন্য বোলাররা ছন্দহারা, সেখানে সামি একাই ম্যাচের টোন সেট করেছেন।
সব মিলিয়ে—এটা শুধু একটা স্পেল নয়। একসঙ্গে যুগ্ম বার্তা। প্রাক্তন দলের জন্য আফসোস। আর নির্বাচকদের জন্য সতর্ক সংকেত—‘আমি এখন আরও প্রবলভাবে প্রস্তুত।’