লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে মহম্মদ সামির আগুনে স্পেলে শুরুতে কোণঠাসা হলেও হেনরিখ ক্লাসেন ও নীতীশ রেড্ডির মারকুটে ইনিংসে বড় লক্ষ্য খাড়া করল হায়দরাবাদ। বিস্তারিত ম্যাচ রিপোর্ট পড়ুন।

ক্লাসেন-নীতীশ
শেষ আপডেট: 5 April 2026 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুরুটা দুঃস্বপ্নের, তারপর পালটা ঘুরে দাঁড়ানো। একই ম্যাচে দুই ছবি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের (Sunrisers Hyderabad)। গোড়ায় ব্যাটিং ধস। তারপর হেনরিখ ক্লাসেন (Heinrich Klaasen) ও নীতীশকুমার রেড্ডির (Nitish Kumar Reddy) জুটি ম্যাচের চেহারা বদলে দিল। প্রথম ১০ ওভারে যেখানে স্কোর মাত্র ৩৫/৪, সেখান থেকে ১৭-তে পৌঁছে ১৩৪/৪। নির্ধারিত ২০ ওভারে যা দাঁড়াল ১৫৬।
ম্যাচের গোড়ায় মহম্মদ সামি (Mohammed Shami) নিখুঁত লাইন-লেন্থে আঘাত হানেন। প্রথম ওভারে অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) শূন্য রানে আউট। এরপর ট্র্যাভিস হেড (Travis Head) ও ঈশান কিষাণও (Ishan Kishan) দ্রুত সাজঘরের পথে হাঁটা দেন। প্রিন্স যাদবের (Prince Yadav) দুরন্ত ডেলিভারিতে স্ট্যাম্প উড়ে যায় কিষাণের। পাওয়ারপ্লে শেষে স্কোর দাঁড়ায় মাত্র ২২/৩—যা আইপিএলে হায়দরাবাদের অন্যতম সর্বনিম্ন পাওয়ারপ্লে স্কোরগুলোর একটি।
এরপর লিয়াম লিভিংস্টোন (Liam Livingstone) কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৭ ওভারের মধ্যেই ২৬/৪—ম্যাচ তখন পুরোপুরি লখনউয়ের মুঠোয়।
ঠিক এই জায়গা থেকেই পাল্টা লড়াই শুরু। ক্রিজে জুটি বাঁধেন ক্লাসেন ও নীতীশ। শুরুতে ধীরে, পরে গতি বাড়িয়ে খেলা—এই মিশ্রণেই এগনোর ছক। প্রিন্স যাদব ও আবেশ খানের (Avesh Khan) উপর চাপ বাড়ান। নীতীশ হাঁকান অর্ধশতরান। ক্লাসেনও ৩৩ বলে ফিফটি করেন। দু’জনের জুটিতে ১০০ রানের পার্টনারশিপ। বিশেষ করে ১১ থেকে ১৭ ওভারের মধ্যে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ ছ’ওভারে প্রায় ৯৭ রান তুলে নেয় হায়দরাবাদ। লখনউ বোলারদের তখন সম্পূর্ণ চাপে! এক সময় যেখানে ১২০-১৩০-ই কঠিন মনে হচ্ছিল, সেখানে ১৫৬ রান তোলাটা যথেষ্ট ভাল কামব্যাক।
লখনউয়ের শুরুটা নিখুঁত হলেও মিডল ওভারগুলোয় পরিকল্পনার অভাব স্পষ্ট। সহজ ক্যাচ ফেলাও বড় ফ্যাক্টর—ক্লাসেনের ক্যাচ ফেলে দেওয়া ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে। অধিনায়ক ঋষভ পন্থ (Rishabh Pant) বারবার বোলার বদল করেও ছন্দ ফেরাতে ব্যর্থ। সব মিলিয়ে—একতরফা সূচনা থেকে দাপুটে সমাপ্তি লড়াই। এই ম্যাচ এখন পুরোপুরি ‘গেম অন’ মোডে।