চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে ২৩ রানে হেরে ক্ষুব্ধ অক্ষর প্যাটেল! ক্যাচ মিস আর ব্যাটিং বিপর্যয়—পরাজয়ের জন্য কাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন অধিনায়ক? সঞ্জু স্যামসনের বিধ্বংসী ইনিংস আর দিল্লির লড়াইয়ের বিস্তারিত বিশ্লেষণ পড়ুন।

অক্ষর প্যাটেল
শেষ আপডেট: 12 April 2026 14:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরাজয় ২৩ রানের। কিন্তু আঘাত তার থেকেও বড়। নেপথ্যে আইপিএলের গতরাতের ম্যাচ। ঘরের মাঠে টানা হারের পর জয়ের খোঁজে থাকা চেন্নাই সুপার কিংসের (Chennai Super Kings) বিরুদ্ধে লড়াই দিল্লির হাতেই ছিল। এমনটা মনে করছেন অধিনায়ক অক্ষর প্যাটেল (Axar Patel)। কিন্তু অন্তিম লগ্নে ম্যাচ হাতছাড়া। আর তার জন্য সরাসরি নিজের দলকেই কাঠগড়ায় তুলছেন অক্ষর।
‘ছন্দ ভাঙল উইকেট পড়ার তোড়ে’
ম্যাচ শেষে অক্ষরের বিশ্লেষণ সোজাসাপ্টা। ‘শুরুটা ভাল হয়েছিল। কিন্তু পাওয়ারপ্লের পরপরই দু-তিনটে উইকেট পড়ে যায়। সেখান থেকেই ঘুরে যায় ম্যাচের মোড়!’ বলেছেন দিল্লি ক্যাপিটালসের অধিনায়ক। অক্ষরের নজরে, আসল সমস্যা ধারাবাহিকতায়। একটা উইকেট পড়লেই আরেকটা। এই ‘ক্লাস্টার’ ভাঙতে পারেনি দিল্লি। ফলে রান তাড়া করার গতি থমকে যায়।
ফিল্ডিং-ই আসল ভিলেন? অক্ষরের স্পষ্ট জবাব
তবে শুধু ব্যাটিং নয়, অক্ষর আঙুল তুলেছেন ফিল্ডিংয়ের দিকেও। একধাপ এগিয়ে তাকেই ম্যাচের ‘গেম-চেঞ্জার’ বলছেন তিনি। ‘আমার মতে, পার্থক্যটা গড়ে দিয়েছে ফিল্ডিং। আমরা যদি এক-দুটো ক্যাচ না ফেলতাম, ফল অন্যরকম হতে পারত!’ খোলাখুলি স্বীকারোক্তি অক্ষরের। আরও যোগ করেন, ‘২১৩-২১৫ রান তাড়া করা অসম্ভব নয়। পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য ভাল ছিল। আমাদের বোলাররা দারুণ কাজ করেছে।’ অর্থাৎ, বোলিং ঠিক। ব্যাটিং মোটামুটি। কিন্তু ফিল্ডিং তথৈবচ! আএ সেখানেই ম্যাচ হেরে গেল দিল্লি।
স্যামসনের ঝড়, ওভার্টনের ধাক্কা
চেন্নাইয়ের ইনিংসের ভরকেন্দ্র সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। ৫৬ বলে অপরাজিত ১১৫—ঝড় তুললেন একাহাতে। সঙ্গে তাল মিলিয়েছেন আয়ুষ মাত্রে (Ayush Mhatre)। করেছেন ৩৬ বলে ৫৯। শেষে শিবম দুবে (Shivam Dube) যোগ করেন ঝোড়ো ২০। সব মিলিয়ে মোট স্কোর দাঁড়ায় ২১২/২।
তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ ছিল না দিল্লির। পাথুম নিশঙ্কা (Pathum Nissanka) ও কেএল রাহুল (KL Rahul) মিলে গড়েন ৬২ রানের জুটি। কিন্তু তারপরই পতন। উইকেটের ধস। ১৮ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট নিয়ে একাই ম্যাচ ঘুরিয়ে দেন জেমি ওভার্টন (Jamie Overton)। অংশুল কাম্বোজ (Anshul Kamboj) নেন ৩টি। দিল্লির হয়ে স্টাবস (Tristan Stubbs) লড়াই চালান—৩০ বলে ৬০। কিন্তু যোগ্য সাপোর্ট মেলেনি। যে কারণে শেষমেশ ১৮৯ রানেই থেমে যেতে হয়।
এই ভুল কতদিন?
জয়ের সৌজন্যে চেন্নাই উঠে এল নবম স্থানে। চার ম্যাচে এক জয়, তিন পরাজয়। অন্যদিকে দিল্লি এখনও চতুর্থ স্থানে। চার ম্যাচে দুই জয়, দুই হার। সংখ্যা বলছে লড়াই এখনও খোলা। কিন্তু ছবিটা কি এত সহজ? উত্তর লুকিয়ে অক্ষরের কথায়—ক্যাচ ফেললে, উইকেট একসঙ্গে পড়লে, মোমেন্টাম হারালে—শুধু ম্যাচ নয়, ধীরে ধীরে ফসকে যেতে পারে পুরো টুর্নামেন্টও।