চিপকে হলুদ ঝড়! ৫৬ বলে ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংসে চেন্নাই সুপার কিংসকে মরসুমের প্রথম জয় এনে দিলেন সঞ্জু স্যামসন। ধোনির মতো শান্ত মেজাজ আর রজনীকান্ত স্টাইলে সেলিব্রেশন—সিএসকে-র জয় নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

সঞ্জু স্যামসন
শেষ আপডেট: 12 April 2026 11:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টানা ছয় ম্যাচে হার। ঘরের মাঠে জঘন্য ফর্ম। জেতার স্বাদ কী—ভুলে গিয়েছিল একদা অভেদ্য দুর্গ চিপক স্টেডিয়াম। ঘোর অমানিশা মুছবে কবে, কোনও হদিশ মিলছিল না। অবশেষে অন্ধকার ফুঁড়ে রংমশাল হয়ে জ্বলে উঠলেন সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson)। ছড়ালেন রোশনাই। একরাশ আশার আলো।
৫৬ বলে অপরাজিত ১১৫। চলতি আইপিএলের (IPL 2026) প্রথম সেঞ্চুরি। চেন্নাই সুপার কিংস (Chennai Super Kings) দিল্লিকে হারিয়ে জিতল ২৩ রানে। যার সুবাদে চিপকে জমল সেলিব্রেশন… 'পড়ায়াপ্পা' স্টাইলে!
ছয় ওভারে ৬১ রান—সদ্যসমাপ্ত টি-২০ বিশ্বকাপের স্মৃতি উসকে প্রথম পাওয়ারপ্লে-তে স্যামসনই হাঁকালেন ৪৫। গোড়া থেকে পরিষ্কার পরিকল্পনা। ফুটওয়ার্ক নিখুঁত, মাথা স্থির, ব্যাটের সুইং উন্মুক্ত! মুকেশ কুমারকে (Mukesh Kumar) মারা প্রথম বাউন্ডারিতে ইঙ্গিত দিলেন রাতটা কার হতে চলেছে!
শেষমেশ হল-ও তাই! ২৬ বলে পেরলেন পঞ্চাশ। গ্যালারির ৩০ হাজার দর্শক উঠে দাঁড়াল। ৫২ বলে শতক পূর্ণ হতেই স্টেডিয়াম মুখরিত। কুলদীপ যাদবকে (Kuldeep Yadav) এক্সট্রা কভারের উপর দিয়ে পাঠানো লম্বা ছক্কাটা রাতের সেরা।
এতকিছুর মধ্যে ভাগ্যও সাহায্য করছে খানিক। ৫৫ রানে ক্যাচ ছাড়েন পাথুম নিশঙ্কা (Pathum Nissanka)। কিন্তু স্যামসন সুযোগের সদ্ব্যবহার করলেন ঝড় তুলে—পাটা পিচে বড় টার্গেট দাঁড় করানোর গুরুদায়িত্ব ভুললেন না, শৈথিল্য নেই এতটুকু।
দুর্দান্ত সেঞ্চুরির পর প্রশংসায় ভাসালেন বোলিং কোচ এরিক সিমন্স (Eric Simmons)। তাঁর মন্তব্য, ‘মহেন্দ্র সিং ধোনির (MS Dhoni) মতো এত শান্ত ক্রিকেটার খুব কম দেখেছি। সঞ্জু ওর কাছাকাছি। কোনও আতঙ্ক নেই, মরিয়া ভাব নেই!’
আগের তিন ম্যাচে ব্যর্থ। রানের খরা: ৬, ৭, ৯। প্রশ্ন উঠছিল। কিন্তু সিমন্স জানালেন, তারকা ব্যাটারের মধ্যে কোনও প্যানিকের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। উলটে একরাশ বিশ্বাস ঝরে পড়ে অনুশীলনে। সেই আস্থাই শনিবারের রাতে চিপকে বারুদ হয়ে ফেটে পড়ল!
সেঞ্চুরির পর রজনীকান্তের (Rajnikanth) বিখ্যাত ছবি ‘পড়ায়াপ্পা’র (Padayappa) স্যালুট ভঙ্গিতে সেলিব্রেশনে মাতলেন সঞ্জু। পরে জানালেন, এটা ছিল কোচ স্টিফেন ফ্লেমিংয়ের (Stephen Fleming) জন্য। বললেন, ‘ফ্র্যাঞ্চাইজি চালানো কতটা কঠিন, আমি জানি। ফ্লেমিং কতটা চাপে থাকে, তা-ও বুঝি। এই জয়টা ওকে উৎসর্গ করতে চেয়েছিলাম!’
নতুন দলে, নতুন শুরু। রাজস্থান রয়্যালস থেকে মোটা টাকার বিনিময়ে চেন্নাইতে এসেছেন সঞ্জু। সেই বিশ্বাসের প্রতিদান দিতে মুখিয়ে ছিলেন। টিমকে জিতিয়ে বললেন, ‘প্রথম তিন ম্যাচে ব্যর্থ হলে মন অশান্ত হয়। কিন্তু আমি জানি কীভাবে কামব্যাক সম্ভব—বেসিককে ফিরে যাও। বলটা ভাল করে দেখো। ব্যাস!’
তাড়া করতে নেমে দিল্লি ক্যাপিটালস (Delhi Capitals) মাত্র পাঁচ ওভারে ৬১ রান তুলে জয়ের সম্ভাবনা উসকে দিয়েছিল। কিন্তু তারপর পেস আর বাউন্সের সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে অক্ষর ব্রিগেড। জেমি ওভার্টন (Jamie Overton) ৪ উইকেট ছিনিয়ে নিলেন মাত্র ১৮ রানে—এই মরসুমের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত সেরা বোলিং। একা লড়লেন ট্রিস্টান স্টাবস (Tristan Stubbs)। ৩৮ বলে হাঁকালেন ৬০ রান। কিন্তু সেটা যথেষ্ট ছিল না। শেষমেশ ১৮৯ তুলে ইনিংস খতম, ২৩ রানে পরাস্ত দিল্লি।
গতরাতে চেন্নাই পেল মরসুমের প্রথম জয়। সঞ্জু স্যামসন পেলেন তাঁর প্রথম সিএসকে সেঞ্চুরি। আর চিপক? তারা পেল সেলিব্রেশনের নতুন ধরন।