বিরাট যখনই ৩০ বা তার বেশি রান করেছেন, তাঁর দল হেরে গিয়েছে। মোট পাঁচটি প্লে অফ ম্যাচে এটি ঘটেছে। এর মধ্যে দু’টি ম্যাচে বিরাটের অর্ধশতকও রয়েছে। বিরাটের আরসিবি প্লে অফে ১৫টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে জিততে পেরেছে, হেরেছ ১০টিতে।
.png.webp)
বিরাট কোহলি
শেষ আপডেট: 29 May 2025 15:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লক্ষ্মীবারে লক্ষ্মীলাভের জন্য আইপিএল ২০২৫-এর (IPL 2025) কোয়ালিফায়ার-১-এ (Qualifier-1) নামবে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB) ও পাঞ্জাব কিংস (PBKS)। মুল্লানপুরে অনুষ্ঠিত হতে চলা এই ম্যাচের প্রধান আকর্ষণ এক এবং অদ্বিতীয় বিরাট কোহলি (Virat Kohli)।
সদ্য লাল বলের ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন কিং কোহলি। কিন্তু রানের খিদে তাঁর এখনও মেটেনি। চলতি আইপিলের প্রায় প্রতি ম্যাচেই কথা বলেছে তাঁর ব্যাট। বিরাটের ক্যাবিনেটে রয়েছে প্রচুর ট্রফি। কিন্তু আইপিএল ট্রফি সেখানে এখনও ঢোকেনি। এবার অধরা মাধুরী স্পর্শ করতে মরিয়া দেখাচ্ছে কোহলিকে।
চলতি আইপিএল মরশুমে ৬০০-এর বেশি রান করা পাঁচ ব্যাটারের মধ্যে কোহলিও রয়েছেন। আজ যদি তাঁর দল জিততে পারে, তাহলে সরাসরি ফাইনালে পৌঁছে যাবে। মরিয়া বিরাট এবার যে কোনও মূল্যে ট্রফি জিততে চাইছেন।
আরসিবি এর আগে বেশ কয়েকবার প্লে অফ (Play Off) এবং ফাইনাল খেললেও খেতাব জিততে পারেনি। এই সমীকরণটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে এমন আরেকটি বিষয় হল, যখনই বিরাট কোহলি প্লে অফে ৩০-এর বেশি রান করেছেন, তখনই তাঁর দল হেরেছে।
বিরাট আইপিএল প্লে অফে আরসিবির হয়ে ১৫টি ম্যাচ খেলেছেন। তিনি ১৫ ইনিংসে ৩৪১ রান করেছেন। যার মধ্যে রয়েছে মাত্র দু’টি ৫০+ স্কোর। এক্ষেত্রে কাকতালীয় বিষয় মনে হলেও একটি পরিসংখ্যানকে কিন্তু কোনওমতেই অস্বীকার করা যাবে না। বিরাট যখনই ৩০ বা তার বেশি রান করেছেন, তাঁর দল হেরে গিয়েছে।
মোট পাঁচটি প্লে অফ ম্যাচে এটি ঘটেছে। এর মধ্যে দু’টি ম্যাচে বিরাটের অর্ধশতকও রয়েছে। বিরাটের আরসিবি প্লে অফে ১৫টি ম্যাচের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে জিততে পেরেছে, হেরেছ ১০টিতে। বিরাট প্লে অফে ছয়বার দুই অঙ্কের গণ্ডি অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং এর মধ্যে রয়েছে খাতা না খুলেই আউট হয়ে যাওয়ার ঘটনাও রয়েছে।
কোহলির দল আরসিবি প্লে অফে যে ম্যাচগুলি জিতেছে:
২০০৯ সালে সিএসকের বিরুদ্ধে
২০১১ সালে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে
২০১৫ সালে রাজস্থানের বিরুদ্ধে
২০১৬ সালে গুজরাট লায়ন্সের
তবে, এটা নিশ্চিত যে এই বছর কোহলি এই কাকতালীয় ঘটনাটি পিছনে ফেলে তাঁর দলের হয়ে একটি বড় ইনিংস খেলতে চান এবং দলকে সরাসরি ফাইনালের টিকিট এনে দিতে চান। দলেরও আশা তাঁর এবং ফিল সল্টের ওপেনিং জুটির উপর নির্ভর করে এবার সাফল্য আসবেই।
তবে আরসিবির কাছে বড় চিন্তার বিষয় হল, যদি তাদের ওপেনিং জুটি ভাল ভিত গড়ে দিতে না পারে, তবে অনেক ক্ষেত্রেই ভেঙে পড়েছে মিডল অর্ডার। আরসিবির হয়ে ৯০০০+ রান করা বিরাট কোহলির উপর এবার অনেক দায়িত্ব। আইপিএলে সর্বাধিক রান ছাড়াও, কোহলির নামে সর্বাধিক বাউন্ডারি এবং সেঞ্চুরি-অর্ধশতক রয়েছে। যদি তাঁর ব্যাট আজ কথা বলে, তাহলে পাঞ্জাবকে কোয়ালিফায়ার-২ খেলতে হতে পারে।
আইপিএল ফাইনাল ও কোহলি:
বিরাট কোহলি তিনটি ফাইনাল খেলেছেন। ২০০৯ সালের ফাইনালে তিনি মাত্র সাত রান করেছিলেন, ২০১১ সালের ফাইনালে তিনি আট রান করেন এবং ২০১৬ সালে তিনি ৫৪ রান করেছিলেন।
আইপিএল প্লে অফ ও কোহলি:
অন্যদিকে, কোহলি দুই বার কোয়ালিফায়ার-১ খেলেছেন। ২০১১ সালে চেন্নাইয়ের বিপক্ষে তিনি ৪৪ বলে ৭০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন, আর ২০১৬ সালে গুজরাত লায়ন্সের বিপক্ষে তিনি খাতা খুলতে পারেননি। আরসিবি ২০১১ সালের কোয়ালিফায়ার-১ ম্যাচে হেরেছিল, যেখানে তারা ২০১৬ সালের ম্যাচে গুজরাটের বিপক্ষে জিতেছিল।
আইপিএল ফাইনাল ও প্লে অফে বিরাট কোহলির পরিসংখ্যান
সাল রান বিপক্ষ ফলাফল
২০০৯ ২৪* (১৭) চেন্নাই জয়
২০০৯ ৭ (৮) ডেকান চার্জার্স হার
২০১০ ৯ (৭) মুম্বই হার
২০১১ ৭০* (৪৪) চেন্নাই হার
২০১১ ৮ (১২) মুম্বই জয়
২০১১ ৩৫ (৩২) চেন্নাই হার
২০১৫ ১২ (১৮) রাজস্থান জয়
২০১৫ ১২ (৯) চেন্নাই হার
২০১৬ ০ (২) গুজরাত জয়
২০১৬ ৫৪ (৩৫) হায়দরাবাদ হার
২০২০ ৬ (৭) হায়দরাবাদ হার
২০২১ ৩৯ (৩৩) কলকাতা হার
২০২২ ২৫ (২৪) লখনউ জয়
২০২২ ৭ (৮) রাজস্থান হার
২০২৪ ৩৩ (২৪) রাজস্থান হার
২০২৫ ?? পাঞ্জাব ??