বিসিসিআইয়ের (BCCI) 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স'কে (COE) নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, মায়াঙ্ককে ফিটনেস সার্টিফিকেট (Fitness Certificate) কীভাবে দেওয়া হল।

মায়াঙ্ক যাদব
শেষ আপডেট: 16 May 2025 13:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোট (Injury) যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না স্পিডস্টার মায়াঙ্ক যাদবের (Mayank Yadav)। দলের নির্ভরযোগ্য এই বোলারের ইনজুরির কারণে আইপিএল-২০২৫-এর (IPL 2025) বাকি ম্যাচ শুরুর আগে বিপাকে লখনউ সুপার জায়েন্টস (LSG)। দলটি এখনও প্লে অফের দৌড়ে রয়েছে।
যখন আইপিএল ২০২৫ স্থগিত করা হয়েছিল, তখন অবশ্য এলএসজির জন্য স্বস্তির খবর ছিল যে, তাদের সমস্ত খেলোয়াড়ই ফিট ছিলেন। কিন্তু ফের আইপিএল শুরুর আগে জানা গিয়েছে, ভারতের দ্রুততম বোলার মায়াঙ্ক যাদব পিঠের চোটের কারণে বাকি ম্যাচগুলি থেকে ছিটকে গিয়েছেন। এর ফলে, বিসিসিআইয়ের (BCCI) 'সেন্টার অফ এক্সিলেন্স'কে (COE) নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন, মায়াঙ্ককে ফিটনেস সার্টিফিকেট (Fitness Certificate) কীভাবে দেওয়া হল।
আইপিএলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, "মায়াঙ্ক যাদব পিঠের চোটে ভুগছেন এবং বাকি মরশুমের জন্য ছিটকে গিয়েছেন।" পাশাপাশি এলএসজি ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, টুর্নামেন্টের বাকি সময় লখনউ সুপার জায়ান্টসে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন নিউজিল্যান্ডের উইলিয়াম ও'রুর্ক।
এবার চোটের জন্য এলএসজির হয়ে প্রথমদিকের ম্যাচগুলিতে নামতে পারেননি মায়াঙ্ক। এরপর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে ছয় মাস পুনর্বাসনের পর ফিরে এসে তিনি লখনউয়ের জার্সিতে দু’টি ম্যাচে আট ওভারে ১০০ রান দিয়ে দু’টি উইকেট নেন। সব মিলিয়ে তিনি ৪৮টি বল করেছিলেন। সিওই থেকে ফিটনেস সার্টিফিকেট পাওয়ার পর ১৬ এপ্রিল লখনউ দলে যোগ দেন মায়াঙ্ক। তারপর ২৭ এপ্রিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। এরপর ৪ মে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষেও মাঠে নামেন। কিন্তু লখনউয়ের হয়ে সেটাই ছিল এই স্পিডস্টারের শেষ ম্যাচ। কারণ এরপরই ৯ মে আইপিএল স্থগিত করা হয়। এখন যখন ১৭ মে থেকে দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে, তখন মায়াঙ্ক আবারও চোটের সঙ্গে লড়াই করছেন।
চলতি মরশুমে তাঁর গতি কমপক্ষে ১৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা কমেছে ও মায়াঙ্কের বোলিং অ্যাকশনেও পরিবর্তন এসেছে। মায়াঙ্ক ৩০ মার্চ, ২০২৪ থেকে ৪ মে, ২০২৫ এর মধ্যে মাত্র নয়টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। এক বছরের মধ্যে তিনি তিনবার পিঠের চোটে ভুগেছেন। মায়াঙ্কের এই নয়টি ম্যাচের মধ্যে গত বছর লখনউয়ের হয়ে খেলা চারটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচও রয়েছে।
ঘণ্টায় ১৫০ কিমি বেগে ধারাবাহিকভাবে বোলিং করে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন মায়াঙ্ক। তবে, গত বছরের এপ্রিলে চোট পেয়ে তিনি ছয় মাসের জন্য মাঠের বাইরে চলে যান। এরপর, অজিত আগারকার এবং গৌতম গম্ভীর তাঁকে বাংলাদেশ সিরিজের জন্য ভারতের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক দলে অন্তর্ভুক্ত করেন।
ওই সিরিজ শেষে তাঁর পিঠের চোট আবার দেখা দেয় এবং এনসিএ (NCA) ও তারপর নবগঠিত সিওই-তে পুনর্বাসনের কারণে তিনি ঘরোয়া মরসুমে খেলতে পারেননি। এখন সেই চোট আবার ভোগাচ্ছে তাঁকে। এর ফলে সিওই-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে দিয়েছে, কীভাবে তাঁকে ফিট ঘোষণা করা হয়েছিল।
এনসিএতে কাজ করা একজন স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং প্রশিক্ষক বলেন, "এখন যেহেতু নীতিন প্যাটেল চলে গিয়েছেন, তাই মায়াঙ্কের পুনর্বাসনের বিষয়ে আমরা জানি না।" পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, মায়াঙ্ককে কি সময়ের আগে ফিটনেস সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছিল? না হলে ফের দু’টি ম্যাচ খেলার পড়েই কেন ফিরে এল চোট?
মায়াঙ্কের বয়স মাত্র ২২ বছর এবং তাঁর সামনে অনেক বছর ক্রিকেট খেলার সুযোগ আছে। কিন্তু এই ক্রমাগত আঘাত তাঁকে মূল স্রোতের ক্রিকেট থেকে পিছিয়ে দিচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন, মায়াঙ্কের উচিত বিদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া। যদিও সিওই এ ক্ষেত্রে তীব্রআপত্তি জানিয়েছে।
এর আগেও অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় এবং কোচ এনসিএর কাজের ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। রোহিত শর্মা থেকে শুরু করে তৎকালীন ভারতীয় দলের কোচ রাহুল দ্রাবিড়, সকলেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, একজন খেলোয়াড় যিনি অর্ধেক ফিট বা শতভাগ ফিট নন, তাঁকে কীভাবে ভারতীয় দলের হয়ে খেলার অনুমতি দেওয়া যেতে পারে।