খোঁচা খাওয়া পাঞ্জাব কতটা আক্রমণাত্মক—সেটা গতকাল হাড়ে হাড়ে বুঝেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সেই আক্রমণে ‘প্রতিহিংসা’ জুড়ে গেলে ফল কী দাঁড়ায়—আমদাবাদের ফাইনালে সেটা সম্ভবত দেখতে চাইবে না বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু বাহিনী।

শ্রেয়স আইয়ার
শেষ আপডেট: 2 June 2025 11:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাব কিংসের সমর্থকেরা শ্রেয়স আইয়ারকে ‘সরপঞ্চ’ নামে ডাকে। আদত অর্থ: গ্রামের মুখিয়া বা প্রধান। যে কায়দায় দল পরিচালনা করেন, যেভাবে সামনে দাঁড়িয়ে পারফর্ম করে সতীর্থদের দিশা দেখিয়ে এগিয়ে নিয়ে যান, সেই দক্ষতাকে কুর্নিশ জানাতেই এই অভিধা!
গতকাল আইপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা পাকা করার পর শ্রেয়স বুঝিয়ে দিলেন অনুরাগীদের নামকরণে ছিটেফোঁটা অতিরেক নেই। তিনি সত্যিই দলের প্রধান, টিমের মুখিয়া… তিনিই পাঞ্জাবের সরপঞ্চ!
তিনটি আলাদা দলের অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালে ওঠার বিরল নজির হাসিল করলেন বলে নয়, এই প্রথম কোনও দল দুশো বা দুশোর উপরে রান তোলা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারাল বলেও নয়, পাঞ্জাব ১১ বছর বাদে আইপিএল ফাইনালে উঠল… সেটাও কারণ নয়… শ্রেয়সের ইনিংস… বা শুধু ইনিংস কেন, চলতি আইপিএলে এখনও পর্যন্ত সার্বিক পারফরম্যান্স ও ধারাবাহিকতার সুবাদে শ্রেয়স আইয়ার বুঝিয়ে দিলেন কোথায় তিনি বাকিদের থেকে আলাদা।
তাঁর অতিরিক্ত আগ্রাসী ব্যাটিং শৈলী নির্বাচকদের ঠিক মনে ধরেনি। তাই ইংল্যান্ড সিরিজের জন্য মনোনীত হননি শ্রেয়স। ওয়ান ডে টিমে ঠিক আছে। কিন্তু লাল বলের ক্রিকেটে শীর্ষ ছুঁতে যে স্কিল ও স্থৈর্য জরুরি—সূত্রের মতে, সেটা নাকি শ্রেয়সের নেই! অন্তত, এমনটাই দাবি নির্বাচকদের!
২০৪ রান তাড়া করতে নেমে ৪১ বলে ৮৭ রান—কোনওভাবেই চোখধাঁধানো ইনিংস নয়। একে ‘বিধ্বংসী’, ‘বিস্ফোরক’ উপমা দেওয়া যায় না। তাও ম্যাচের শেষ লগ্নে হাত খুলে না খেললে বল আর রানের ব্যবধান হয়তো আরও একটু বাড়ত। কিন্তু তাতেও পাঞ্জাবের রান তাড়ার গতি এতটুকু থমকাত না। যেভাবে ধূর্ত শিকারীর মতো ওঁত পেতে রান চুরি করেছেন, বুমরাহর নিশানাভেদী ডেলিভারিকে সম্মান জানিয়েছেন, একটু লুজ বলে পাল্টা আক্রমণ হেনেছেন—তাতে দেশের যে কোনও ক্রিকেট অনুরাগীর পদে পদে মনে হওয়া স্বাভাবিক—ইংল্যান্ডে শ্রেয়সকে না নিয়ে গিয়ে হয়তো বড়সড় ভুল করল দেশের ক্রিকেট বোর্ড।
যে সংযমের ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, ভিন্ন ফর্ম্যাটে হলেও সেই সওয়ালের জবাব দিলেন পাঞ্জাব অধিনায়ক। ১৩তম ওভারে রিচি টপলিকে পরপর তিনখানা ছক্কা হাঁকিয়ে নিজস্ব স্কিল ও মেজাজের ঠিক বিপরীত মেরুকে সামনে আনলেন শ্রেয়স। আর সেখানেই লেখা হয়ে থাকল ম্যাচের ভবিতব্য!
দুশোর উপরে টার্গেট তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ করেনি পাঞ্জাব। প্রিয়াংশ আর্য (১০ বলে ২০) এবং জশ ইংলিস (২১ বলে ৩৮) রানের গতি বেঁধে দেন। স্কোরবোর্ড চালু থাকে। তার উপর ‘ফিয়ার ফ্যাক্টর’ বুমরাহর প্রথম ওভারে ২০ রান তুলে পেসারের বিষদাঁত যেন অনেকটাই ভেঙে দেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান। মিডল অর্ডারে রান চেজের গতি অব্যহত রাখেন ‘লুধিয়ানার যুবরাজ’ নেহাল ওয়াধেরা ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। ৪৭ বলে ৮৪ রানের পার্টনারশিপ পাঞ্জাবকে টার্গেটের দিকে শেষের কয়েক কদম এগিয়ে দেয়।
মুল্লানপুরে প্রথম কোয়ালিফায়ারে আরসিবির বিরুদ্ধে হেরে তেতেছিল পাঞ্জাব। যার ফল ভুগতে হল মুম্বইকে। এবার লড়াই ফাইনালে। সামনে সেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
খোঁচা খাওয়া পাঞ্জাব কতটা আক্রমণাত্মক—সেটা গতকাল হাড়ে হাড়ে বুঝেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। সেই আক্রমণে ‘প্রতিহিংসা’ জুড়ে গেলে ফল কী দাঁড়ায়—আমদাবাদের ফাইনালে সেটা সম্ভবত দেখতে চাইবে না বিরাট কোহলির বেঙ্গালুরু বাহিনী।