প্রশ্নটা সহজ নয়। প্রতিভাকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ কথা বলে ফলাফল। ভারত কি সাহসী সিদ্ধান্ত নেবে? নাকি আস্থা রেখেই নামাবে অভিষেককে?

অভিষেক শর্মা
শেষ আপডেট: 6 March 2026 11:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ে (Wankhede Stadium) ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টি-২০ বিশ্বকাপের (T20 World Cup 2026) ফাইনালে পৌঁছে গিয়েছে ভারত (India)। সামনে নিউজিল্যান্ড (New Zealand)। রবিবার চূড়ান্ত লড়াই। ভেন্যু আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়াম (Narendra Modi Stadium)। কিন্তু ফাইনালের আগে ভারতীয় শিবিরে ঘুরপাক খাচ্ছে অস্বস্তিকর প্রশ্ন—অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) কি সেদিন প্রথম একাদশে থাকবেন?
টুর্নামেন্টের শুরুতে ‘নতুন যুগের আক্রমণাত্মক ওপেনার’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে অভিষেকের ব্যাট এখনও সেই প্রতিশ্রুতির ছাপ রাখতে পারেনি। ফলে ফাইনালের আগে দল পরিচালনায় বড় সিদ্ধান্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
পরিসংখ্যান যা বলছে
বিশ্লেষণ শুরু করলে প্রথমেই সামনে আসে একগুচ্ছ সংখ্যা। পুরো টুর্নামেন্টে অভিষেকের স্কোরলাইন ওঠানামা করেছে অদ্ভুত ছন্দে—০, ০, ০, ১৫, ৫৫, ১০, ৯। জিম্বাবোয়ের (Zimbabwe) বিরুদ্ধে ৫৫ রানের ইনিংস ছাড়া বাকি ম্যাচগুলোয় বিরাট কোনও প্রভাব নেই। আরও বড় উদ্বেগ অফ-স্পিনের বিরুদ্ধে তাঁর দুর্বলতা। এই বিশ্বকাপে অফ-স্পিনারদের বিরুদ্ধে ২৭ বল খেলেছেন তিনি। রান মাত্র ২৯। তিনবার আউট। গড় ৯.৬৬। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই পরিসংখ্যান বিপজ্জনক!
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেমিফাইনালেও একই ছবি। ইনিংসের সপ্তম বলে আউট। শুরুতেই উইকেট পড়ে যাওয়ায় চাপ চলে যায় মিডল অর্ডারের উপর। সঞ্জু স্যামসন (Sanju Samson), শিবম দুবে (Shivam Dube) ও হার্দিক পাণ্ডিয়ারা (Hardik Pandya) ম্যাচ বাঁচাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু এই ধাক্কা বারবার দেখা দিলে ঘোর বিপদ।
‘স্লগার’ বিতর্ক
এতকিছুর মধ্যে টিম ইন্ডিয়ার ওপেনারের মনোবল কিছুটা হলেও টলিয়ে দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রাক্তন পেসার মহম্মদ আমির (Mohammad Amir)। যিনি টুর্নামেন্টের শুরুতেই অভিষেককে ‘স্লগার’ বলে দেগে দেন। তখন অনেকে মন্তব্যটিকে পক্ষপাতদুষ্ট বলে উড়িয়ে দিলেও টুর্নামেন্ট যত এগিয়েছে, ততই এই বিশেষ প্রাসঙ্গিক হয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের বিচারে, আক্রমণাত্মক ওপেনার আর স্লগারের পার্থক্যটা সূক্ষ্ম। একজন শট বেছে নেয়। আরেকজন বল দেখলেই মারতে চায়। অভিষেকের ব্যাটিংয়ে সেই তাড়াহুড়োর ছাপ স্পষ্ট। যে কারণে ক্রিজে স্থিরতা কমে গেলে শটের নিয়ন্ত্রণও কমে যায়। তৈরি হয় মনস্তাত্ত্বিক চাপ। সমালোচনা বাড়লে অনেক ব্যাটার নিজের খেলা প্রমাণ করতে গিয়ে আরও ঝুঁকি নেন। ফলে ভুলের চক্র ভাঙা কঠিন হয়ে ওঠে।
বিকল্প যথেষ্ট?
অভিষেক না হয় ছন্দহীন। কিন্তু তাঁর বিকল্প? এই জায়গাতেই সামনে আসছে রিঙ্কু সিংয়ের (Rinku Singh) নাম। টিম ম্যানেজমেন্ট যদি পরিবর্তনের কথা ভাবে, তাহলে তিনিই বাস্তব বিকল্প। রিঙ্কুর ব্যাটিংয়ের মূল শক্তি পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা। চাপের মুহূর্তে শান্ত থাকা। আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিনি বারবার দেখিয়েছেন, কঠিন পরিস্থিতিতে ইনিংস ধরে রাখাটা তাঁর আয়ত্তে। ফাইনালের মতো ম্যাচে এই ধরনের ব্যাটার গুরুত্বপূর্ণ। পাওয়ারপ্লেতে দ্রুত উইকেট পড়লে রিঙ্কু ইনিংস সামলে দিতে পারেন। আবার শেষের দিকে গতি বাড়ানোর ক্ষমতাও তাঁর রয়েছে।
তবে সমস্যা হল কম্বিনেশন। অভিষেক বাম হাতি ওপেনার। তাঁকে সরালে দলের ব্যাটিং কাঠামো বদলে যাবে। ফলে পরিবর্তন মানেই নতুন ভারসাম্য খুঁজে নেওয়া কঠিন চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।
সিদ্ধান্তের দ্বন্দ্ব
হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) বারবার বলেছেন—তাঁরা খেলোয়াড়দের পাশে। কয়েকটা খারাপ ম্যাচের জন্য কাউকে বাদ দেওয়া ঠিক নয়। এই দর্শন দলের অন্দরে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করে ঠিকই। কিন্তু ফাইনাল অন্য মঞ্চ। এখানে ছোট ভুলের বড় মাশুল চোকাতে হতে পারে, আবেগের কোনও জায়গা নেই। অভিষেককে খেলানো তাই এক ধরনের বাজি ধরা। হয়তো তিনি এক ঝটকায় ম্যাচ ঘুরিয়ে দেবেন। আবার দ্রুত আউট হলে চাপ বাড়বে। পরিবর্তন করলে দল পাবে নতুন স্থিরতা।
ফলে প্রশ্নটা সহজ নয়। প্রতিভাকে সমর্থন করা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বিশ্বকাপ ফাইনালে শেষ কথা বলে ফলাফল। ভারত কি সাহসী সিদ্ধান্ত নেবে? নাকি আস্থা রেখেই নামাবে অভিষেককে? রবিবার জবাব মিলবে আমদাবাদে।