১৫ মিনিটের ভিডিও। আর সেখান থেকেই টিম ইন্ডিয়া ফিরল ছন্দ। কখনও কখনও সমাধান নতুন ফর্মুলায় নয়, অতীত-স্মরণে লুকিয়ে থাকে। হরিপ্রসাদের ভিডিও সেশন এটা বুঝিয়ে দিল সহজে৷

শেষ আপডেট: 28 February 2026 10:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোচিং মানে নিছক পুরনো শিক্ষার চর্বিতচর্বণ নয়, বরং পুরনো পাঠ মনে করানো। চেন্নাইয়ের চিপকে (Chepauk) জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে ভারতীয় ড্রেসিংরুমে ঠিক সেটাই হল। মাত্র ১৫ মিনিটের ভিডিও সেশন। আর ঠিক তার পরেই বদলে গেল ছন্দহারা তারকাদের ব্যাটিং ফর্ম! অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ও তিলক বর্মা (Tilak Varma) আর হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya)—তিনজনই ধরা দিলেন পুরনো চেহারায়।
আয়নায় নিজের ভুল দেখা
ভিডিও অ্যানালিস্ট হরিপ্রসাদ মোহন (Hari Prasad Mohan) কয়েকটি ছোট ক্লিপ জুড়ে তৈরি করেছিলেন একটি গুচ্ছ ভিডিও স্লাইড। সেখানে দেখা যাচ্ছিল—অভিষেক অফ স্টাম্পের বাইরে বল তাড়া করছেন, ব্যাট ঘুরছে আড়াআড়ি, ক্যাচ উঠছে। এক ম্যাচ নয়, বারবার একই ভুল।
তিলক দেখছিলেন নিজেকে—আগেভাগে শট খেলতে গিয়ে টাইমিং নষ্ট করছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় (South Africa) যিনি দেরিতে বল মেরে স্কোয়ারে খেলে রান তুলেছিলেন, তিনি এখানে তাড়াহুড়োয় ভুল করছেন। বাদ নেই পাণ্ডিয়াও। দেখলেন—যেখানে টাইমিং যথেষ্ট, সেখানে অযথা জোর খাটাচ্ছেন।
যদিও এই নিয়ে কোনও বড় বক্তৃতা হয়নি। হেডকোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir) ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) চুপচাপ বসে ছিলেন। বার্তা সহজ—তোমরা কোথায় ছিলে, আর এখন কী করছ, সেটা নিজেরাই দেখো।
ছোট বদল, বড় ফল
ভিডিও সেশনের ফল পরের দিন মাঠে স্পষ্ট ধরা পড়ল। অভিষেক গার্ড বদলালেন। অফ স্টাম্প নয়, লেগ-মিডল স্টাম্পে দাঁড়ালেন। ফলে চতুর্থ স্টাম্পের বল আর শরীর থেকে দূরে নয়, রইল তাঁর আর্কের মধ্যে। আর তাই প্রথম লুজ বলে সুযোগ পেয়েই সোজা লাইনে ছক্কা। বাইরে বল তাড়া করা নয়। নিজের জোনে ডেলিভারি এলেই আঘাত। না এলে ছেড়ে দেওয়া।
তিলকের ব্যাটিংয়েও বদল লক্ষ্যণীয়। আগেভাগে ঝাঁপিয়ে পড়া নয়। বল আসতে দেওয়া। স্কোয়ার কাট, পুল—সব পরিচিত শট। ১৬ বলে অপরাজিত ৪৪।
পাণ্ডিয়ার ২৩ বলে ৫০-ও একই দর্শনের ফল। অযথা শক্তি নয়, নিখুঁত টাইমিং।
ম্যাচে ভারত মারল ১৭টি ছক্কা। চিপকে টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ রান। কয়েক দিন আগেও যে দলকে ছন্নছাড়া লাগছিল, তারাই হঠাৎ স্বাভাবিক ছন্দে।
স্পিনের বিরুদ্ধে নতুন ভাবনা
আরেকটি সূক্ষ্ম বদল অফস্পিনের বিরুদ্ধে। আগে বাঁ-হাতিরা বলের ঘূর্ণির বিপরীতে মারতে গিয়ে আউট হচ্ছিলেন। এবার পরিকল্পনা—স্পিনের অভিমুখে শট। কভার দিয়ে। ঝুঁকি কম, শতাংশ বেশি। ছোট ছোট এই সমন্বয়ই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
মনে করিয়ে দেওয়া, প্রেরণা নয়
ম্যাচের পর তিলক বলেন, ‘ভিডিও দেখে আত্মবিশ্বাস ফিরেছে।’ সূর্যকুমারও একই মতে বিশ্বাসী৷ আসলে এই সেশন অনুপ্রেরণা নয়, হয়ে ওঠে আত্মপরিচয় পুনরুদ্ধার। চেন্নাইয়ে ভারত সেটাই কাজে লাগাল। আগামিকাল কলকাতায় (Kolkata) কঠিন পরীক্ষা। কিন্তু যদি অভিষেক লাইনে খেলেন, তিলক দেরিতে বল মারেন আর পাণ্ডিয়া ভরসা রাখেন টাইমিংয়ে—তাহলে আশা থাকবেই।
১৫ মিনিটের ভিডিও। আর সেখান থেকেই টিম ইন্ডিয়া ফিরল ছন্দ। কখনও কখনও সমাধান নতুন ফর্মুলায় নয়, অতীত-স্মরণে লুকিয়ে থাকে। হরিপ্রসাদের ভিডিও সেশন এটা বুঝিয়ে দিল সহজে৷