সুপার ওভারে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র তিন রানের। প্রথম বলেই তিন রান নিয়ে দলকে জিতিয়ে দিলেন সূর্যকুমার যাদব।
.png.webp)
টিম ইন্ডিয়া
শেষ আপডেট: 27 September 2025 00:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয় কাপে (Asia Cup 2025) শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সুপার ওভারে (Super Over) জিতে জয়ের ধারা অব্যাহত রাখল টিম ইন্ডিয়া (India beat Sri Lanka)। সেই সঙ্গে পকিস্তানের বিরুদ্ধে ফাইনালে নামার আগে প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাসও বাড়িয়ে রাখল গৌতম গম্ভীরের ছাত্ররা। দুরন্ত ব্যাট করেও দলকে জয় এনে দিতে পারলেন না শ্রীলঙ্কার ওপেনার পাথুম নিশাঙ্কা।
শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ১২ রান। নিজের প্রথম তিন ওভারে ৪৪ রান দিয়েছিলেন হর্ষিত রানা। কিন্তু নিজের ও দলের শেষ ওভার করতে এসেই ফেরালেন পাথুম নিশাঙ্কাকে (৫৪ বলে ১০৩)। এরপর শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৩ রান। কিন্তু হল দুই রান। তাই ম্যাচ গড়াল সুপার ওভারে।
সুপার ওভারের প্রথম বলেই কুশল পেরেরাকে ফেরালেন অর্শদীপ সিং। কিন্তু চতুর্থ বলেই দেখা গেল চরম নাটকীয়তা। কামিন্দু মেন্ডিসের বিরুদ্ধে ক্যাচ বিহাইন্ডের আবেদন করেছিলেন অর্শদীপ। এদিকে, সঞ্জু করে দিয়েছিলেন রান আউট। বলে ব্যাটে না লাগায় ক্যাচ আউটের আবেদন নাকচ হয়ে যায়। এদিকে ডেড বল হয়ে যাওয়ার জন্য রান আউটের আবেদনও গ্রাহ্য হয়নি। যদিও পরের বলেই শানাকা পরিবর্ত ফিল্ডার জিতেশ শর্মার হাতে ক্যাচ তুলে আউট হয়ে যান। সুপার ওভারে ভারতের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র তিন রানের। প্রথম বলেই তিন রান নিয়ে দলকে জিতিয়ে দিলেন সূর্যকুমার যাদব।
চলতি এশিয়া কাপে প্রথমবার ২০০ রান উঠল ভারতের হাত ধরে। সুপার ফোরের ম্যাচে ভারত শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ২০ ওভারে তুলল ৫ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান। অভিষেক শর্মার বিধ্বংসী ইনিংসের পর দলকে টানলেন তিলক বর্মা ও সঞ্জু স্যামসন।
বড় লক্ষ্যমাত্র তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। খাতা না খুলেই হার্দিক পান্ডিয়ার বলে স্লিপে শুভমন গিলের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফিরলেন কুশল মেন্ডিস। তবে এরপরই ভারতীয় বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা শুরু করেন পাথুম নিশাঙ্কা ও কুশল পেরেরা। পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কা তুলল এক উইকেট হারিয়ে ৭২ রান। ২৫ বলে অর্ধশতক হাঁকালেন নিশাঙ্কা। কোনও ভারতীয় বোলারকেই এদিন রেয়াৎ করেননি তিনি।
শ্রীলঙ্কার ১০০ রান এল ৮.২ ওভারে। পঞ্চাশ বলে অর্ধশতক করলেন কুশল পেরেরা। অবশেষে ভারতকে সাফল্য এনে দিলেন বরুণ চক্রবর্তী। তাঁর বলে কুশল পেরেরাকে স্টাম্প করেন সঞ্জু। কুশল ৩২ বলে করলেন ৫৮ রান। কুশল-নিশাঙ্কার জুটিতে উঠল ১২৭ রান। ১৫৭ রানে পড়ল শ্রীলঙ্কার তৃতীয় উইকেট। কুলদীপ যাদবের বলে গিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক আসালাঙ্কা (৫)। চার ওভারে ৩১ রান দিয়ে কুলদীপ নিলেন এক উইকেট। যার মধ্যে শেষ দুই ওভারে দিলেন মাত্র ৭ রান। চলতি এশিয়া কাপে ১৩ উইকেট হয়ে গেল কুলদীপের।
১৬৩ রানে শ্রীলঙ্কার চতুর্থ উইকেটের পতন হল অক্ষর প্যাটেলের দুরন্ত ক্যাচে। অর্শদীপের বলে কামিন্দু মেন্ডিস ফিরলেন মাত্র তিন রান করে। পরপর উইকেটের পতন হলেও অবিচল ছিলেন নিশাঙ্কা। ৫২ বলে এল তাঁর দুরন্ত শতক, চলতি এশিয়া কাপে যা এখন পর্যন্ত একমাত্র সেঞ্চুরি।
টসে জিতে এদিন প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক চারিথ আসালাঙ্কা। ভারত এদিন দুটি পরিবর্তন করেছে। শিবম দুবে ও জসপ্রীত বুমরাহর পরিবর্তে প্রথম একাদশে এসেছেন অর্শদীপ সিং ও হর্ষিত রানা।
ভারতের ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র চার রান করে থিকসানার বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ তুলে ফিরলেন শুভমন গিল। দ্রুত এক উইকেট পড়ে গেলেও রান রেট কমতে দেননি অভিষেক শর্মা ও সূর্যকুমার যাদব। প্রথম চার ওভারে উঠল এক উইকেট হারিয়ে ৪৪। ভারতের প্রথম পঞ্চাশ রান এল ৪.৩ ওভারে। এদিন অভিষেক শর্মার অর্ধশতক এল মাত্র ২২ বলে। পরপর তিন ম্যাচে হাফসেঞ্চুরি পেলেন শর্মাজিকা বেটা। পাওয়ার প্লেতে ভারত করল এক উইকেটের বিনিময়ে ৭১ রান।
১২ বলে ২ রান করে ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার বলে ফিরলেন সূর্য। ডিআরএস নিয়েও কাজ হয়নি। ভারতের দ্বিতীয় উইকেটের পতন হল ৭৪ রানে। চলতি এশিয়া কাপে একটিও ম্যাচে নিজের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারলেন না ভারত অধিনায়ক। দলীয় ৯২ রানে ফিরে গেলেও অভিষেক শর্মাও। আটটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকয়ে ৩১ বলে ৬১ রান করে আসালাঙ্কার শিকার হন তিনি। ভারতের ১০০ রান এল ১০ ওভারে।
ভারতের ১৫০ রান এল ১৫ ওভারে। এরপরেই দলীয় ১৫৮ রানে ফিরে যান সঞ্জু স্যামসন। একটি চার ও তিনটি ছক্কা হাঁকিয়ে ২৩ বলে ৩৯ রান করে দাশুন শানাকার বলে আউট হন তিনি। রান পেলেন না হার্দিকও (২)। দুষ্মন্ত চামিরার বলে তাঁরই হাতে ক্যাচ তুলে ফিরলেন পান্ডিয়া। অনেকটা দৌড়ে গিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নিলেন চামিরা। এরপর আর অবশ্য কোনও উইকেট পড়েনি। ২০ ওভারে ভারত তুলল পাঁচ উইকেট হারিয়ে ২০২ রান। তিলক বর্মা করলেন ৩৪ বলে অপরাজিত ৪৯ রান আর অক্ষর প্যাটেল অপরাজিত থাকলেন ১৫ বলে ২১ রান করে।