একদিকে ঘরের মাঠে দু'বারের ফাইনাল হার (২০০৫ ও ২০১৭)-এর ক্ষত ভুলে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্নে ভারত, অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে (Women's World Cup Final) ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা এ বারই ইতিহাস লিখছে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 2 November 2025 12:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবি মুম্বইয়ের ডি ওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে আজ যে মহারণ, তাতে ইতিহাসের ভারও কম নয়। আইসিসি মহিলা বিশ্বকাপ ২০২৫-এর ফাইনালে মুখোমুখি ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা (India VS South Africa)। একদিকে ঘরের মাঠে দু'বারের ফাইনাল হার (২০০৫ ও ২০১৭)-এর ক্ষত ভুলে প্রথম শিরোপা জয়ের স্বপ্নে ভারত, অন্যদিকে প্রথমবার বিশ্বকাপ ফাইনালে (Women's World Cup Final) ওঠা দক্ষিণ আফ্রিকা, যারা এ বারই ইতিহাস লিখছে।
অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসে উজ্জীবিত হারমনপ্রীত কাউররা জানে, আর এক ধাপ দূরেই ইতিহাস। অন্যদিকে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকা ইতিমধ্যেই একবার এই টুর্নামেন্টেই ভারতকে পরাজিত করেছে। অর্থাৎ, মুম্বইয়ে রবিবারের সন্ধ্যায় অপেক্ষা এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের।
টসই হতে পারে নির্ণায়ক
ফাইনাল ম্যাচটি হবে সন্ধ্যায়, তাই শিশির ভেজা মাঠের ফ্যাক্টরই হয়ে উঠতে পারে বড় ভূমিকা। আগের ম্যাচগুলিতে দেখা গেছে, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করা দলগুলো স্পষ্ট সুবিধা পেয়েছে। তাই টস জেতা মানেই বড় মানসিক সুবিধা।
স্মৃতি মন্ধানা বনাম মারিজানে কাপ
দক্ষিণ আফ্রিকার অভিজ্ঞ পেসার মারিজানে কাপ তাঁর নিখুঁত লাইন-লেংথ ও লেট সুইং দিয়ে যে কোনও ব্যাটারকে বিপদে ফেলতে পারেন। অন্যদিকে মন্ধানা ভারতের ইনিংসের গতি নির্ধারণ করেন। কাপের প্রথম স্পেল সামলাতে পারলে ভারতীয় ইনিংস বড় রানের দিকে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।
জেমাইমা রদ্রিগেজ বনাম এমলাবা-ট্রায়ন জুটি
ভারতের মধ্য ওভারের ব্যাটিং মাঝে মাঝে ধীর হয়ে যায়। সেখানেই দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিন জুটি এমলাবা (বাঁ হাতি) ও ট্রায়ন (অফ-স্পিন) আক্রমণ শানাবে। জেমাইমার কাজ হবে— উইকেট না হারিয়ে রান রোটেট করে যাওয়া। তাঁর ব্যাট যদি চলে, তবে ভারতকে থামানো মুশকিল।
হারমনপ্রীত কাউর বনাম মিডল ওভারের চাপ
ক্যাপ্টেন হারমনপ্রীতের উপর থাকবে বিপুল চাপ, বিশেষত প্রথম সারির উইকেট পড়ে গেলে। সুনে লুসের অফ-স্পিন তাঁর বড় পরীক্ষা নেবে। সঠিক সময়ে গিয়ার বদলে যদি হারমনপ্রীত আগ্রাসনে যান, তাহলে ভারতীয় ইনিংস পাবে সঠিক গতি।
দীপ্তি শর্মা বনাম নাদিন ডি ক্লার্ক
সাম্প্রতিক ম্যাচে নাদিন ডি ক্লার্কের ৮৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস ভারতীয় বোলিংয়ের দুর্বলতা উন্মোচন করেছিল। তাই এবার দীপ্তি ও বাকি বোলারদের নজর থাকবে ডেথ ওভারে নিখুঁত ইয়র্কার ও ভ্যারিয়েশনে।
মুখোমুখি পরিসংখ্যান
ওডিআই হেড-টু-হেড: ভারত এগিয়ে ২০-১৩ (১টি বাতিল)
বিশ্বকাপ নকআউট হেড-টু-হেড: ১-১
টুর্নামেন্টে দুই দলের পথচলা
ভারত: গ্রুপ পর্বে চতুর্থ। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৩৩৯ রান তাড়া করে ঐতিহাসিক জয়।
দক্ষিণ আফ্রিকা: গ্রুপ পর্বে তৃতীয়। ইংল্যান্ডকে ১২৫ রানে হারিয়ে প্রথমবার ফাইনালে।
কে এগিয়ে?
ঘরের মাঠ, অভিজ্ঞতা, ও জেমাইমা–হারমনপ্রীতের দুরন্ত ফর্ম ভারতকে সামান্য এগিয়ে রাখছে। দীপ্তি শর্মার স্পিন আক্রমণ দক্ষিণ আফ্রিকার দুর্বল জায়গায় আঘাত হানতে পারে। তবুও দক্ষিণ আফ্রিকাকে খাটো করে দেখা ভুল হবে। লরা উলভার্টের ধারাবাহিক ফর্ম ও মারিজানে কাপের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স যে কোনও দলকে হারানোর মতো শক্তিশালী।