ফলো অন চাপিয়ে জেতা এই টেস্ট শুধু সিরিজ জয় নয়, বরং এক নয়া শুরুয়াতের প্রতীক, শুভমান-যুগের সূচনা! ঠান্ডা মাথার স্ট্র্যাটেজি আর তীক্ষ্ণ ক্রিকেটবুদ্ধি মিলে তৈরি করেছে ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন স্বর।

শুভমান গিল
শেষ আপডেট: 14 October 2025 11:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জোমেল ওয়ারিকানের (Jomel Warrican) শর্ট ডেলিভারি মিড–উইকেট পাঠালেন কেএল রাহুল (KL Rahul)। বল গড়িয়ে সীমানা ছুঁতেই উচ্ছ্বাসে মেতে উঠল অরুণ জেটলি স্টেডিয়াম (Arun Jaitley Stadium)। সাত উইকেটে ম্যাচ পকেটে, সিরিজে ২–০, আর তার সঙ্গে শুভমান গিলের (Shubman Gill) অধিনায়কত্বে ভারতের (India) প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়!
শেষ দিনের সকালটা যেমন অনুমান করা গেছিল, ঠিক তেমনই পেশাদারভাবে কাজ সেরে ফেলল ভারত। দরকার ৫৮ রান, হাতে ৯ উইকেট। কেএল রাহুল ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে শেষ করলেন লড়াই। পাশে ধ্রুব জুরেল (Dhruv Jurel)। সিরিজ জয়টা আত্মবিশ্বাসের রাংতা দিয়ে নিখুঁতভাবে মোড়া রইল!
তবে এই আধিপত্য যেমন অনিবার্য ছিল, তেমনই মনে রাখার মতো এর আগের লড়াই। দিল্লির গরমে, চতুর্থ দিনে, যখন ফলো অনে (Follow-On) তাড়া খেয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের (West Indies) পরাজয় সময়ের অপেক্ষা, তখনই দৃশ্যপট বদলে দেন জন ক্যাম্পবেল (John Campbell) আর শাই হোপ (Shai Hope)। দুই সেঞ্চুরিয়ানের জুটি ভারতীয় বোলারদের হতাশ করে তোলে। এক বছরের মধ্যে এই প্রথম ৩০০ পার করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ—তা-ও ভারতের মাটিতে!
ক্যাম্পবেল পেলেন টেস্ট কেরিয়ারের প্রথম শতরান, হোপ আট বছর পর দেখলেন তিন অঙ্কের মুখ। তাঁদের লড়াইয়ে একসময় ম্যাচ গড়াল এমন জায়গায়, যেখানে চতুর্থ দিনের শেষ ঘণ্টা কাটল দমবন্ধ উত্তেজনায়। শেষ পর্যন্ত মহম্মদ সিরাজের (Mohammed Siraj) নতুন বলে ভেঙে যায় জুটি, তারপর কুলদীপ যাদব হানেন (Kuldeep Yadav) জোড়া আঘাত, আর বুমরাহর (Jasprit Bumrah) ‘ফিনিশিং টাচে’ ৩৯০-এ শেষ হয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ দ্বিতীয় ইনিংস।
লক্ষ্য দাঁড়ায় ১২১। চতুর্থ দিনের শেষবিকেলে যশস্বী জয়সওয়াল (Yashasvi Jaiswal) ফেরেন দ্রুত, কিন্তু দ্বিতীয় উইকেটে রাহুল–সাই সুদর্শনের (Sai Sudharsan) ধৈর্য আর স্ট্রোক প্লে ম্যাচটাকে খুব দ্রুত ক্যারিবিয়ান বাহিনীর থেকে ছিনিয়ে নেয়। আজ, অন্তিম দিন, প্রথম সেশনে ওয়ারিকানের এক ওভারেই খেল খতম। রাহুলের ব্যাটে শেষ চার—আর তাতেই ২–০ ব্যবধানে সিরিজ ভারতের দখলে। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে শুভমান গিলের প্রথম সিরিজ জয়—সেই সঙ্গে ভবিষ্যতের ভারতের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা।
তবে প্রশ্ন থেকে গেল একটা—নীতীশ রেড্ডিকে (Nitish Reddy) কেন পুরো টেস্টে এক ওভারও বল দেওয়া হল না? সোশ্যাল মিডিয়া তাই নিয়ে সরগরম। গিল ও থিঙ্কট্যাঙ্কের রণকৌশল নিয়েও বিতর্ক শুরু। কিন্তু শেষমেশ ফলাফলে তা আর প্রভাব ফেলতে পারেনি। কারণ মাঠে শেষ কথা বলেছে ব্যাট আর বল—রাহুলের মাপা ক্লাস আর কুলদীপের দাপট। ফলো অন চাপিয়ে জেতা এই টেস্ট শুধু সিরিজ জয় নয়, বরং এক নয়া শুরুয়াতের প্রতীক, শুভমান-যুগের সূচনা! ঠান্ডা মাথার স্ট্র্যাটেজি আর তীক্ষ্ণ ক্রিকেটবুদ্ধি মিলে তৈরি করেছে ভারতের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন স্বর।