ব্যর্থ হল দুরন্ত লড়াই, অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে মহিলাদের বিশ্বকাপে খাদের কিনারায় ভারত

ভারত বনাম অস্ট্রেলিয়া
শেষ আপডেট: 12 October 2025 22:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহিলা ওডিআই বিশ্বকাপের ভারত-অস্ট্রেলিয়া (India vs Australia) ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে বল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন অজি অধিনায়ক অ্যালিসা হিলি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যে দল নিয়ে ভারত মাঠে নেমেছিল সেই স্কোয়াড নিয়েই এদিন নেমেছে টিম ইন্ডিয়া।
মহিলাদের চলতি ওডিআই বিশ্বকাপে (Women’s ODI World Cup) ভারত তাদের প্রথম দুই ম্যাচে হারিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানকে। অপেক্ষাকৃত সহজ দুই প্রতিপক্ষকে হারালেও চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন ভারতীয় টপ অর্ডার ব্যাটাররা। একমাত্র কথা বলেছিল বাংলার উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষের ব্যাট। লোয়ার ডাউনে নেমে তিনি ভারতকে পৌঁছে দিচ্ছিলেন সম্মানজনক স্কোরে। তবে তৃতীয় ম্যাচে রিচার ৯৪ রান সত্ত্বেও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে যায় হরমনপ্রীত ব্রিগেড। আগের ম্যাচগুলিতে ভারতের টপ ও মিডল-অর্ডার ব্যর্থ হলেও এদিন সবাই রান পেলেন। ৫০ ওভারে ভারত তুলল ৩৩০ রান।
জিততে গেলে করতে হবে ৩৩১ রান। এই অবস্থায় ব্যাট করতে নেমে প্রথম পাঁচ ওভারে অস্ট্রেলিয়া করে ২৫ রান। ৭.২ ওভারে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৫০ পার করে অস্ট্রেলিয়া। ম্যান্ডেটারি ওভার শেষে অজিদের রান দাঁড়ায় বিনা উইকেটে ৮২। এরপরই অবশ্য প্রথম উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। নিজের প্রথম ওভারেই ফোয়েবে লিচফিল্ডকে (৪০) আউট করেন বাঁহাতি অর্থোডক্স স্পিনার শ্রী চারাণি।
অজি অধিনায়ক অ্যালিসা হিলির অর্ধশতক এল ৩৫ বলে। অস্ট্রেলিয়ার ১৫০ রান এল ২৩.১ ওভারে। ২৩ ওভারের শেষ বলে ৩২ রান করে অবসৃত হন এলিসে পেরি। অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয় ১৬৮ রানে। চার রান করে দীপ্তি শর্মার বলে জেমাইমার হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান বেথ মুনি।
১৬৮ রানে মুনি আউট হওয়ার পর ১৭০ রানে পড়ল অস্ট্রেলিয়ার তৃতীয় উইকেট। খাতা খোলার আগেই অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেটটি নিলেন চারাণি।
তাহিল ম্যাকগ্রাথকেট আউট করে ভারতকে পঞ্চম সাফল্য এনে দিলেন দীপ্তি। দলীয় ২৭৯ রানে ১২ রান করে ফিরে যান অজি অলরাউন্ডার। অস্ট্রেলিয়র ষষ্ঠ উইকেটের পতন হল ২৯৯ রানে। ৪৬ বলে ৪৫ রান করে মনজ্যোৎ কউরের বলে বোল্ড হন অ্যাশলে গার্ডনার। এরপর সোফিয়েকেও ফেরান আমনজ্যোৎ। যদিও এরপরও জিততে অসুবিধা হয়নি অস্ট্রেলিয়ার। সাত বল বাকি থাকতেই জয় এল অজিদের। ৫২ বলে ৪৭ রান করে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন অ্যালিসা পেরি।
ব্যাট করতে নেমে এদিন প্রথম থেকে তাড়াহুড়োর পথে হাঁটেননি ভারতের দুই ওপেনার প্রতিকা রাওয়াল ও স্মৃতি মান্ধানা। প্রথম পাঁচ ওভারে ওপেনিং জুটিতে উঠল ২১ রান। অষ্টম ওভারে গিয়ার বদলে স্মৃতি ও প্রতিকা সোফিয়ে মোলিনেয়াক্সের এক ওভারে নিলেন ১৬ রান। দশ ওভারে ভারতের রান কোনও উইকেট না হারিয়ে ৫৮। পরের পাঁচ ওভারে এল আরও ২৫ রান।
স্মৃতি মান্ধানার অর্ধশতক এল ৪৬ বলে। হাফসেঞ্চুরি করার পথে ভারতের এই ওপেনার হাঁকালেন সাতটি চার ও একটি ছক্কা। ১৮.৪ ওভারে ভারত পার করল ১০০ রানের সীমা। স্মৃতির পর এবার অর্ধশতক হাঁকালেন প্রতিকা। তাঁর অর্ধশতক এল ৬৯ বলে। ভারতের টপ-অর্ডারের ব্যর্থতা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে বেশ আলোচনা চলছিল। এমনকি অধিনায়ক হরমনপ্রীতও টপ-অর্ডার ব্যাটারেদর দুষেছিলেন। এদিন দুই ওপেনারই সমস্ত সমালোচনার জবাব দিলেন।
২৪ ওভারেই কোনও উইকেট না হারিয়ে দেড়শ পার করল ভারত। অবশেষে ২৪.৩ ওভারে এসে প্রথম সাফল্য পেল অস্ট্রেলিয়া। দলীয় ১৫৫ রানে সোফিয়ের বলে ৮০ রান করে ফিরলেন স্মৃতি। মাত্র ২০ রানের জন্য তিনি মিস করলেন ওডিআই ক্রিকেটের ১৪তম শতক।
দলীয় ১৯২ রানে ভারতের দ্বিতীয় উইকেটের পতন হয়। ৯৬ বলে ৭৫ রান করে অ্যানাবেল সাদারল্যান্ডের বলে আউট হন প্রতিকা। তাঁর ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও একটি ছক্কা। এদিন ওডিআই ক্রিকেটে নিজের কেরিয়ারের ১০০০ রান করলেন হারলিন দেওল। তাঁর ও হরমনপ্রীতের জুটিতে ভারত তুলল ৪২ রান। হরমনপ্রীত আউট হলেন ১৭ বলে ২২ রান করে। আর হারলিন করলেন ২২ বলে ৩৮ রান।
৪০ ওভারে ভারত তুলল চার উইকেট হারিয়ে ২৬১ রান। নেমেই ঝড় তুললেন জেমাইমা রড্রিগেজ ও রিচা ঘোষ। দলের ২৯৪ রানে ২২ বলে ৩২ করে আউট হন রিচা। তবে তিনটি চার ও দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে নিয়ে রানের গতি অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়ে যান। রিচা ও জেমাইমার জুটিতে ওঠে ৫৪ রান।
রিচা ফিরে যাওয়ার পরপরই ফিরলেন জেমাইমা (২১ বলে ৩৩)। তাঁকে আউট করে নিজের তৃতীয় শিকারটি তুলে নিলেন অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। ৩২০ রানে ভারতের সপ্তম উইকেটের পতন হয়। মাত্র ১ রান করে সোফিয়ের শিকার হন ভারতের এই অলরাউন্ডার। এরপরই ১২ বলে ১৬ রান করে অ্যাশলে গার্ডনারের বলে আউট হন আমনজ্যোৎ কউর। এরপর ৪৮.৫ ওভারে ৩৩০ রানে শেষ হয়ে যায় ভারতের ইনিংস।