গোটা টেস্ট জুড়ে দাপট বজায় রেখেও টেস্টের শেষ চার সেশনের ব্যর্থতায় ঐতিহাসিক লর্ডসে ভারত হেরেছে ২২ রানে। চতুর্থ ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটাররা ন্যুনতম প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেননি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 July 2025 21:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংল্যান্ড-ভারত চলতি টেস্ট সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ (England vs India Third Test) জিতে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বেন স্টোকস ব্রিগেড। চলতি সিরিজের প্রথম ম্যাচে লিডসে পাঁচ উইকেটে হেরে গিয়েছিল ভারত। কিন্তু বার্মিংহাম টেস্টে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন ঘটিয়ে ইংল্যান্ডকে ৩৩৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ১-১ করে টিম ইন্ডিয়া। কিন্তু লর্ডসে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্টে চতুর্থ দিনের প্রথম তিন সেশন পর্যন্ত এগিয়ে থেকেও হারতে হল গৌতম গম্ভীরের ছাত্রদের।
গোটা টেস্ট জুড়ে দাপট বজায় রেখেও টেস্টের শেষ চার সেশনের ব্যর্থতায় ঐতিহাসিক লর্ডসে ভারত হেরেছে ২২ রানে। চতুর্থ ইনিংসে ভারতীয় ব্যাটাররা ন্যুনতম প্রতিরোধও গড়ে তুলতে পারেননি। একমাত্র লোকেশ রাহুল কিছুটা চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ৩৯ রানে তিনি আউট হতেই সমস্ত আশা শেষ হয়ে যায় গিল ব্রিগেডের। শেষ দিকে রবীন্দ্র জাদেজা অবশ্য কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন, তাতে অবশ্য হার এড়ানো যায়নি।
আসলে চতুর্থ দিনই হয়তো ক্রিকেটের ভাগ্যদেবতা দেওয়াল লিখন লিখে দিয়েছিলেন। জয়ের জন্য দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতকে তুলতে হতো ১৯৩ রান। কিন্তু চতুর্থ দিন গৌতম গম্ভীরের ছাত্ররা শেষ করে চার উইকেট হারিয়ে ৫৮ রানে। ততক্ষণে ড্রেসিংরুমে ফিরে গিয়েছেন যশস্বী জয়সওয়াল, করুণ নায়ার, অধিনায়ক শুভমান গিল ও নাইটওয়াচম্যান আকাশ দীপ। তখনই হয়তো ক্রিকেটের ভাগ্যদেবতা লিখে দিয়েছিলেন, এই টেস্ট ভারতের জন্য নয়।
তবুও আশায় বুক বাঁধছিলেন ভারতের ১৪০ কোটি জনতা। ক্রিজে যে তখনও রয়েছেন লোকেশ রাহুল ও ভয়ডরহীন ঋষভ পন্থ। কিন্তু পঞ্চম দিন জোফরা আর্চার যে ভাবে বল শুরু করলেন, তাতে ক্ষীণ হয়ে যায় ভারতের জয়ের সমস্ত আশা। চোট সারিয়ে চার বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেছেন আর্চার। কিন্তু তাঁর আগুনে পেস আর সুইংয়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ভারতের সমস্তা প্রতিরোধ। পাশাপাশি পঞ্চম দিনে লর্ডসের বাইশ গজও যেন ব্যাটারদের বধ্যভূমি হয়ে উঠেছিল।
প্রথম সেশনেই ভারত হারায় ঋষভ পন্থ (৯ রান) ও কেএল রাহুলের (৩৯ রান) উইকেট। পন্থকে আর্চার যে বল আউট করেন তার কোনও উত্তর ছিল না ভারতের সহ-অধিনায়কের কাছে। প্রথম ইনিংসে কিপিং করার সময় হাতে চোট পেয়ে বেরিয়ে যান ঋষভ। এরপর শুধু প্রথম ইনিংসেই নয়, দ্বিতীয় ইনিংসেও তিনি উইকেটরক্ষকের গ্লাভস হাতে পড়েননি। তাঁর পরিবর্তে উইকেটরক্ষকের দায়িত্ব সামলান ধ্রুব জুরেল। কিন্তু প্রথম ইনিংসে চোট উপেক্ষা করেই দুরন্ত ব্যাটিং করেন পন্থ। এদিন আর্চারের বলে আউট হয়ে তিনি যখন ফিরছেন, তখন রাহুলকে নিজের চোট পাওয়া আঙুল দেখান। হয়তো বলতে চেয়েছিলেন অসুবিধা হচ্ছিল।
রাহুলকে এলবিডব্লিউ করে প্যাভালিয়ানে ফেরত পাঠান ইংল্যান্ড অধিনায়ক বেন স্টোকস। এর পর ওয়াশিংটন সুন্দরও খাতা খুলতে পারেননি। তাঁকে আউট করেন জোফরা আর্চারই। নীতিশকুমার রেড্ডি থিতু হওয়ার চেষ্টা করলেও ৫৩ বলে ১৩ রান করে ক্রিস ওকসের বলে উইকেটরক্ষক জেমি স্মিথের হাতে ক্যাচ তুলে প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। লাঞ্চের আগেই ভারতের আট উইকেট হারিয়ে ১১২ রান তুলে হারের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়।
ইংল্যান্ডের ব্যাটিং কোচ ট্রেসকথিক বলেছিলেন, তিনি প্রথম সেশনে ছয় উইকেট নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তবে তাঁর ছাত্ররা লাঞ্চের আগে ছয় উইকেট তুলতে না পারলেও চারটি শিকার করেছেন।
তবে শেষ বেলায় রবীন্দ্র জাদেজা ও জসপ্রীত বুমরাহ যে চোয়াল চাপা লড়াইটা করলেন, তা অন্য ব্যাটাররা করতে পারলে এই টেস্ট হারতে হতো না ভারতকে। এই জুটিতে উঠল ৩৫ রান। মনে হচ্ছিল কিছু একটা অঘটন ঘটতে চলেছে। শেষপর্যন্ত ধৈর্য হারিয়ে বড় শট খেলতে গিয়ে স্টোকেসের শিকার হন বুমরাহ (৫৪ বলে ৫ রান)।
এরপরও মহম্মদ সিরাজকে নিয়ে লড়াই জারি রাখেন জাদেজা। কিন্তু সিরাজ চার রান করে বশিরের বলে আউট হতেই ভারতের ইনিংস শেষ ১৭০ রানে। ১৮১ বলে ৬১ রান করে অপরাজিত থেকে ট্র্যাজিক নায়ক রবীন্দ্র জাদেজা। ২২ রানে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ল গম্ভীর-গিলের টিম ইন্ডিয়া।