২০২৪-এর ক্ষত ভুলে নতুন অধ্যায় লিখতে মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত চাইছে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। সুপার এইটের আজকের লড়াই শুধু পয়েন্টের নয়—মানসিক দ্বৈরথও বটে।

দক্ষিণ আফ্রিকা
শেষ আপডেট: 22 February 2026 11:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আবার ভারত বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা (India vs South Africa)। আবার টি-২০ বিশ্বকাপের লড়াই (T20 World Cup 2026)। তবে এবার ফাইনাল নয়, সুপার এইট। তবু আবহে চাপা উত্তেজনা। নেপথ্যে ২০২৪ সালের সেই হৃদয়ভাঙা ফাইনাল, যা প্রোটিয়াদের স্মৃতি থেকে এখনও মুছে যায়নি। ভারতের লক্ষ্য অবশ্য মুখোমুখি লড়াইয়ে ফের একবার শেষ হাসি হেসে টি-২০ ক্রিকেটের বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আধিপত্য আরও পোক্ত করা।
‘আমরা ওটা নিয়ে কথাই বলি না’
দক্ষিণ আফ্রিকার ওপেনার কুইন্টন ডি কক (Quinton de Kock) স্পষ্ট সুরে জানিয়েছেন, ২০২৪ ফাইনাল নিয়ে তাঁরা কেউই আর আলোচনা করেন না। তাঁর কথায়, ‘সত্যি বলতে, আমরা ম্যাচটা ভুলে গিয়েছি। খেলা শেষে কেউ কথা বলতে চায়নি। সবাই নিজের মতো করে সামলেছি!’
বার্বাডোজের সেই লড়াইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ৩০ বলে ৩০ রান দরকার ছিল। হাইনরিখ ক্লাসেন (Heinrich Klaasen) অক্ষর প্যাটেলকে (Axar Patel) এক ওভারে বেদম ঠেঙিয়ে ম্যাচ হাতের মুঠোয় এনে দেন। কিন্তু হার্দিক পান্ডিয়া (Hardik Pandya) তাঁকে আউট করতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। শেষ পর্যন্ত কয়েক রানে হেরে যায় প্রোটিয়ারা। যার জেরে প্রথম টি-২০ বিশ্বকাপ হাতছাড়া।
নীরব প্রস্তুতি, স্পষ্ট পরিকল্পনা
আমদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে (Narendra Modi Stadium) গতকাল দক্ষিণ আফ্রিকার অনুশীলন অনেকটাই সংযত। পুরোদস্তুর নেট সেশন নয়। তবে কৌশলগত প্রস্তুতিতে জোর নজরে এসেছে। অধিনায়ক এডেন মার্করাম (Aiden Markram) অফস্পিন ও পেস আক্রমণ—এই দুই অস্ত্রেই ভারতীয় টপ অর্ডারকে চাপে ফেলতে চান। দলের অভিজ্ঞ মুখ ডি কক। এই মাঠে তাঁর গড় প্রায় ৫০। সঙ্গে মার্করামের ফর্ম—ভারতের জন্য বড় সতর্কবার্তা। দু’পক্ষই জানে, এখানে স্পিনাররা তেমন সাহায্য পেতে নাও পারেন। কালো মাটির পিচে পেসারদের ভূমিকাই বেশি।
আত্মবিশ্বাসী টিম ইন্ডিয়া
ভারতীয় শিবিরে আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav) জানিয়ে দিয়েছেন, অভিষেক শর্মার (Abhishek Sharma) ফর্ম নিয়ে দল চিন্তিত নয়। ‘ওর ফর্ম নিয়ে যারা ভাবছে, আমি তাদের নিয়েই ভাবছি!’—হালকা চালের মন্তব্য প্রেস কনফারেন্সে হাসির রোল তুলেছে।
আজ প্রথম একাদশে অক্ষর প্যাটেলের প্রত্যাবর্তন একরকম পাকা। অর্শদীপ সিং (Arshdeep Singh) নেটে দীর্ঘ সময় বল করেছেন। কালো মাটির উইকেটে হয়তো এক স্পিনার কমিয়ে অতিরিক্ত পেসার খেলাতে পারে ভারত। হার্দিক, ঈশান কিষাণ (Ishan Kishan), তিলক বর্মাদের (Tilak Varma) ব্যাটিং অনুশীলনে মনযোগ প্রোটিয়াদের পালস রেট বাড়াবে।
আবহাওয়া, পিচ ও সম্প্রচার
আমদাবাদে দুপুরে তাপমাত্রা চড়া। সন্ধ্যায় হালকা হাওয়া। শিশিরের সম্ভাবনা কম। পিচ কালো মাটির। তাতে বাউন্স থাকবে, টার্ন কম। ফলে হাই-স্কোরিং লড়াইয়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
ম্যাচ শুরু সন্ধ্যা ৭টা। সম্প্রচার স্টার স্পোর্টস নেটওয়ার্কে (Star Sports Network)। লাইভ স্ট্রিমিং জিওহটস্টারে (JioHotstar)।
সব মিলিয়ে ২০২৪-এর ক্ষত ভুলে নতুন অধ্যায় লিখতে মরিয়া দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারত চাইছে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে। সুপার এইটের আজকের লড়াই শুধু পয়েন্টের নয়—মানসিক দ্বৈরথও বটে।