২০২৬ সালে কলম্বো কি আবার দেখবে কিষাণ-ঝড়? ঘুম উড়বে পাকিস্তানের? সমস্ত সওয়ালের জবাব মিলবে বাইশ গজেই।

ঈশান কিষাণ
শেষ আপডেট: 15 February 2026 11:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তাপ, মনস্তাত্ত্বিক চাপ। আর সেই চাপ সামলে হঠাৎই ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারেন একজন। ২০২৩-এ পাল্লেকেলেতে যিনি ছিলেন টিম ইন্ডিয়ার ‘নীরব নায়ক’, ২০২৬-এ কি সেই তিনিই হয়ে উঠবেন ‘এক্স-ফ্যাক্টর’?
কথা হচ্ছে ঈশান কিষাণকে (Ishan Kishan) নিয়ে। টি-২০ বিশ্বকাপে (T20 World Cup 2026) কলম্বোয় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আবারও স্পটলাইট বাঁ-হাতি ব্যাটারের উপর। অতিসম্প্রতি ভারতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনই সবচেয়ে বড় গল্প। সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফিতে দুরন্ত পারফরম্যান্সের পর সুযোগ পান। যার সদ্ব্যবহার করেছেন পুরোদমে। ছ’ম্যাচে ২৯৬ রান, স্ট্রাইক রেট ২২২.৫৫। একটি শতরান, দুটি অর্ধশতরান। কিন্তু অনুরাগীদের কাছে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাঁর অতীত। অনেকেরই স্মরণে আসছে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে তাঁর মারকাটারি ইনিংস, আজ থেকে পাক্কা তিন বছর আগে সেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স!
পাল্লেকেলের অমলিন স্মৃতি
হঠাৎ করে জেগে উঠেছে পাল্লেকেলের রাত। ২০২৩ সালের এশিয়া কাপ (Asia Cup 2023)। ভারত ৬৬ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে বেজায় চাপে। সেই ম্যাচে পাঁচ নম্বরে নেমে হার্দিক পান্ডিয়ার (Hardik Pandya) সঙ্গে ১৩৮ রানের জুটি গড়েছিলেন ঈশান। নিজে হাঁকান ৮২ রান। সেই ইনিংস তখন খুব আলোচনায় না এলেও ম্যাচ বাঁচিয়েছিল।
এখন সময় বদলেছে, তাঁর ভূমিকাও গিয়েছে পালটে। আমূল। মিডল অর্ডার নয়ম ঈশান আপাতত ওপেনিংয়ে নামেন ‘ডেস্ট্রয়ারে’র ভূমিকায়। নিজেই জানিয়েছেন, আগের মতো সারাক্ষণ হালকা মেজাজে নয়, এখন বেশি মনোযোগ ব্যাটিং ও কিপিংয়ে। নামিবিয়ার বিরুদ্ধে ২৪ বলে ৬১—তার জ্বলন্ত প্রমাণ। বুঝে খেলেছেন, তারপর গিয়ার বদলাচ্ছেন। মারছেন চার বলে টানা চার ছয়। পরিণত, নিয়ন্ত্রিত আগ্রাসন।
স্পিন-অস্ত্র ভাঙার চাবিকাঠি?
কলম্বোর উইকেটে স্পিন বড় ফ্যাক্টর হতে পারে। পাকিস্তানের আক্রমণে শাদাব খান (Shadab Khan), মহম্মদ নওয়াজ (Mohammad Nawaz), আবরার আহমেদ (Abrar Ahmed) এবং উসমান তারিক (Usman Tariq)। প্রথম দুই ম্যাচেই স্পিনারদের বিরুদ্ধে খানিক অস্বস্তিতে দেখা গিয়েছে টিম ইন্ডিয়ার ব্যাটারদের।
এখানেই ঈশানের আসল গুরুত্ব। কেরিয়ারে স্পিনের বিরুদ্ধে তাঁর স্ট্রাইক রেট ১৫৫। কিন্তু চলতি বছর সেটা লাফিয়ে ২৪৪.১৮! মাত্র চার ইনিংসে স্পিনারদের বিরুদ্ধে ১০টি বাউন্ডারি, ৮টি ছয়। আগের বছরগুলিতে যেখানে স্ট্রাইক রেট ছিল ১৬৯ (২০২১), ১৪০ (২০২২), ১২৭ (২০২৩)—সেখানে এই উন্নতি চোখে পড়ার মতো। অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma) ফিট থাকলে নামবেন। স্পিন ভালো খেলেন তিনিও। কিন্তু অভিষেকের একার পক্ষে সবকিছু সম্ভব নয়। ঈশানকেও শুরুতেই চাপ সামলাতে হবে।
কিষাণের মাপা আগ্রাসন
ভারতের টি-২০ ব্যাটিং অনেক সময় রক কনসার্টের মতো—চললে ঝড়, না চললে ধস। আমেরিকার বিরুদ্ধে তাড়াহুড়োয় ভুল শট খেলেছিলেন ঈশান। কিন্তু নামিবিয়া ম্যাচে দেখালেন ধৈর্য। বুঝলেন পিচ কেমন, তারপর হানলেন আক্রমণ। এই ভারসাম্য কলম্বোতেও দরকার। বাউন্ডারি মারার শক্তি তাঁর আছে—এই বছরে ছ’ম্যাচে ২৯টি চার, ২৩টি ছয়। ছোট শটেও বল সীমানা পার। লক্ষ্য একেবারে স্পষ্ট—শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তুলে নেওয়া।
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচে ইতিহাস অনেক সময় কাউকে হঠাৎ নায়ক বানিয়ে তোলে। ২০২৩-এ পাল্লেকেলে যেমনটা হয়েছিল। ২০২৬ সালে কলম্বো কি আবার দেখবে কিষাণ-ঝড়? ঘুম উড়বে পাকিস্তানের? সমস্ত সওয়ালের জবাব মিলবে বাইশ গজেই।