সঞ্জু স্যামসনের পারফরম্যান্স খারাপ বলা না গেলেও তিনি সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। জমকালো শুরু, কিন্তু দাপট নেই। ফলে মিডল অর্ডারকে তাড়াহুড়ো করে গতি বাড়াতে হচ্ছে।

ঈশান কিষাণ ও গম্ভীর
শেষ আপডেট: 25 January 2026 12:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গুয়াহাটিতে ভারতের শেষ টি–২০। সিরিজ জয়ের হিসেব যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ দল বাছাইয়ের কয়েকটা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়ে। বিশেষ করে ওপেনিং জুটি। আগের ম্যাচে ঝড় তুলেছেন ঈশান কিষান (Ishan Kishan)। ফলে জোর প্রশ্ন—আজ কি তাঁকেই ওপেনে নামিয়ে ‘পরীক্ষা’ চালাবেন গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir)? নাকি ধৈর্য দেখিয়ে সঞ্জু স্যামসনের (Sanju Samson) উপরই ভরসা রাখবে টিম ম্যানেজমেন্ট?
ওপেনিং ধাঁধা: ফর্ম বনাম ধৈর্য
দ্বিতীয় টি–২০-তে ঈশান কিষানের ইনিংসটা শুধুই রান নয়, বড় বার্তা। পাওয়ারপ্লেতে আগ্রাসন, দু’দিকেই শট খেলার ক্ষমতা, বোলারকে শুরু থেকে চাপে ফেলা—টিম ইন্ডিয়ার টপ অর্ডারে এর খোঁজ চলেছে দীর্ঘদিন। স্বাভাবিকভাবেই কিষাণের ইনিংস ওপেনার বিতর্ককে নতুন করে উসকে দিয়েছে।
অন্যদিকে সঞ্জু স্যামসনের পারফরম্যান্স খারাপ বলা না গেলেও তিনি সেভাবে প্রভাব ফেলতে পারেননি। জমকালো শুরু, কিন্তু দাপট নেই। ফলে মিডল অর্ডারকে তাড়াহুড়ো করে গতি বাড়াতে হচ্ছে। নির্বাচক ও কোচিং স্টাফের সামনে দ্বিধা—চলতি ফর্মকে পুরস্কৃত করবেন, নাকি দীর্ঘদিনের বিনিয়োগকে সময় দেবেন!
ঈশানের পক্ষে যুক্তি শক্ত। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওপেনার হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে। আইপিএল (Indian Premier League) থেকে জাতীয় দল—জায়গাটা তাঁর চেনা। আর স্যামসনের পক্ষে যুক্তির বেশিরভাগটাই আবেগচালিত। দীর্ঘ বছর অপেক্ষার পর নিয়মিত খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তার উপর তাঁকে সরিয়ে দিলেন জয়ী টিমের কম্বিনেশন ভাঙার ঝুঁকিও আছে। গম্ভীর কোন পথে হাঁটেন, সেটাই আজকের ম্যাচের সবচেয়ে বড় কৌতূহল।
অক্ষর প্যাটেলের ফিটনেস ও দলের ব্যালান্স
ওপেনিংয়ের পাশাপাশি নজর অক্ষর প্যাটেলের (Axar Patel) ফিটনেসে। প্রথম ম্যাচে হাতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেননি। যদি আজ ফিট হন, দলে তাঁর প্রত্যাবর্তন প্রায় নিশ্চিত। বাঁ-হাতি স্পিন, লোয়ার অর্ডারে নির্ভরযোগ্য ব্যাটিং—সব মিলিয়ে টি–২০-তে অক্ষর ভারতের ব্যালান্সের বড় স্তম্ভ। ২০২৪ টি–২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে বিরাট কোহলির (Virat Kohli) সঙ্গে তাঁর ঠান্ডা মাথার ব্যাটিং এখনও টিম ম্যানেজমেন্টের স্মৃতিতে সজীব। বড় টুর্নামেন্টের আগে তাঁকে ম্যাচ ফিট রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
অক্ষর না খেললে কুলদীপ যাদবের (Kuldeep Yadav) রাস্তা খোলা। সেক্ষেত্রে ব্যাটিং গভীরতা কমবে, কিন্তু বাড়বে উইকেট নেওয়ার অপশন। পেস বিভাগে নিশ্চিত নাম জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah)। শেষ পেসার অপশন হর্ষিত রানা (Harshit Rana) না অর্শদীপ সিং (Arshdeep Singh)—পিচ ও ডেথ ওভার পরিকল্পনার উপর তা নির্ভর করবে।
নিউজিল্যান্ডের ভাবনা ও সম্ভাব্য একাদশ
নিউজিল্যান্ডও (New Zealand) চাপে। সিরিজ বাঁচাতে হলে আজ জিততেই হবে। ব্যাটিংয়ে ভারসাম্য থাকলেও শেষদিকে আগ্রাসনের অভাব চোখে পড়ছে। তাই বেভন জ্যাকবসের (Bevon Jacobs) মতো পাওয়ার-হিটারকে দলে নেওয়ার ভাবনা রয়েছে। মার্ক চ্যাপম্যান (Mark Chapman) বা ড্যারিল মিচেলের (Daryl Mitchell) পজিশন নড়বড়ে।
বোলিংয়ে জ্যাক ফাউলকস (Zak Foulkes) প্রত্যাশা মেটাতে ব্যর্থ। যে কারণে গতি বাড়াতে লকি ফার্গুসন (Lockie Ferguson) বা কাইল জেমিনের (Kyle Jamieson) কামব্যাক প্রায় অনিবার্য। ভারতীয় ব্যাটারদের বিরুদ্ধে শুধু মিডিয়াম পেসে ভরসা রাখা যে ঝুঁকির, সেটা পরিষ্কার।
সম্ভাব্য একাদশ (Predicted XI)
ভারত: অভিষেক শর্মা (Abhishek Sharma), সঞ্জু স্যামসন/ঈশান কিষাণ (Sanju Samson/Ishan Kishan), সূর্যকুমার যাদব (Suryakumar Yadav – অধিনায়ক), শিবম দুবে (Shivam Dube), হার্দিক পাণ্ডিয়া (Hardik Pandya), রিঙ্কু সিং (Rinku Singh), অক্ষর প্যাটেল/কুলদীপ যাদব (Axar Patel/Kuldeep Yadav), জসপ্রীত বুমরাহ (Jasprit Bumrah), হর্ষিত রানা/অর্শদীপ সিং (Harshit Rana/Arshdeep Singh), বরুণ চক্রবর্তী (Varun Chakravarthy)
নিউজিল্যান্ড: ডেভন কনওয়ে (Devon Conway), টিম সাইফার্ট (Tim Seifert), রাচিন রবীন্দ্র (Rachin Ravindra), গ্লেন ফিলিপস (Glenn Phillips), ড্যারিল মিচেল/মার্ক চ্যাপম্যান (Daryl Mitchell/Mark Chapman), মিচেল স্যান্টনার (Mitchell Santner – অধিনায়ক), লকি ফার্গুসন/কাইল জেমিসন (Lockie Ferguson/Kyle Jamieson), ম্যাট হেনরি (Matt Henry), জ্যাকব ডাফি (Jacob Duffy), ঈশ সোধি (Ish Sodhi)