ভারতের বিরুদ্ধে ৩৯টি টেস্ট ম্যাচে অ্যান্ডারসন ২৫.৪৭ গড়ে ১৪৯ উইকেট নিয়েছেন। ব্রড ভারতের বিরুদ্ধে ২৪টি টেস্টে ৭৪টি উইকেট নিয়েছেন।

জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড
শেষ আপডেট: 19 June 2025 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু’জনের জুটি একসময় বিশ্বত্রাস ছিল। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্টে নামার আগ ক্রিকেট-বিশ্বের যে কোনও দলই পরিকল্পনা শুরু করে দিত কী ভাবে জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রডকে (James Anderson and Stuart Broad) সামলাবে। ঘাতক হয়ে এই জুটি বহু ম্যাচেই ইংল্যান্ডকে স্মরণীয় জয় এনে দিয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে দু’জনের প্রাপ্ত উইকেট সংখ্যার দিকে তাকালেও চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। দু’জনে মিলে নিয়েছেন ১,৩০৮টি টেস্ট উইকেট। তবে কালের নিয়মে সবাইকেই একদিন সরে যেতে হয়। অবসর নিয়ে নিয়েছেন অ্যান্ডারসন ও ব্রড।
শুভমান গিলের নেতৃত্বাধীন অপেক্ষাকৃত অনভিজ্ঞ ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার ইংল্যান্ড দলে স্টুয়ার্ট ব্রড এবং জেমস অ্যান্ডারসনের নাম না দেখে স্বস্তি পেতে পারেন। কারণ এই দুই ফাস্ট বোলার গত দু’দশক ধরে ভারত-ইংল্যান্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নিয়মিত অংশ ছিলেন।
অ্যান্ডারসন ২০০৭ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তাঁর প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলেন। ২০২১/২২ সালে শেষবারের মতো ইংল্যান্ড সফর করেছিল টিম ইন্ডিয়া। সেবারও অ্যান্ডারসনকে সামলাতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছিল ভারতীয় ব্যাটারদের। পাশাপাশি ব্রড ২০১১ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর প্রথম টেস্ট সিরিজ খেলেন এবং ২০২১/২২ সালে ভারতীয় দলের শেষ সফরে ইংল্যান্ডের অংশ ছিলেন।
ইংল্যান্ড সফরে এই দুই বোলার মানেই ভারতীয় ব্যাটারদের কাছে রীতিমতো আতঙ্ক। ২০০৭ সালে ভারত শেষবার ইংল্যান্ডে টেস্ট সিরিজ জিতেছিল। এর পরে, টিম ইন্ডিয়া তিনটি টেস্ট সিরিজ সেখানে হেরেছে ও একটি (২০২১/২২) ড্র হয়েছিল। গত সফরে অ্যান্ডারসন এবং ব্রড অবশ্যই ইংল্যান্ডের অংশ ছিলেন। তবে ব্রড মাত্র দু’টি টেস্ট খেলেছিলেন, যেখানে অ্যান্ডারসন পাঁচটি টেস্টই খেলেছেন। এবার অন্তত অ্যান্ডারসন এবং তাঁর সঙ্গী ব্রডকে খেলতে হবে না শুভমানদের, যা টিম ইন্ডিয়ার জন্য স্বস্তির বিষয়।
এই দুই দুর্দান্ত ফাস্ট বোলার তাঁদের শেষ সিরিজ পর্যন্ত বিশ্বের প্রতিটি ব্যাটারকে সমস্যায় ফেলেছেন। শচীন তেন্ডুলকরের সঙ্গে অ্যান্ডারসনের লড়াই হোক বা গত দশকে বিরাট কোহলির সঙ্গে আরও উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই, সমস্ত স্মৃতিই মানুষের মনে তাজা।
এদিকে, ব্রডের রিভার্স সুইং প্রতিটি ব্যাটারকে বিস্মিত করেছে। ধোনি, রাহানে থেকে কোহলি এবং কেএল রাহুল, সবাই পরাস্ত হয়েছেন এই ইংলিশ পেসারের বলে।
দুই দলের মধ্যে টেস্ট সিরিজের ট্রফিটি অ্যান্ডারসন এবং শচীন তেন্ডুলকরের নামে নামকরণ করা হয়েছে। টেস্ট ক্রিকেটে অ্যান্ডারসন নয়বার তেন্ডুলকরকে আউট করেছেন। অ্যান্ডারসন কেবল বয়সকে অগ্রাহ্য করে দীর্ঘ সময় ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেননি, বরং তাঁর কেরিয়ারের বিশেষত্ব ছিল ধারাবাহিকভাবে সঠিক বোলিং এবং উভয় দিকে বল সুইং করার ক্ষমতার উপর দুর্দান্ত নিয়ন্ত্রণ।
ভারতের বিরুদ্ধে ৩৯টি টেস্ট ম্যাচে অ্যান্ডারসন ২৫.৪৭ গড়ে ১৪৯ উইকেট নিয়েছেন। সেরা ফাস্ট বোলারদেরও ভারতীয় পিচে লড়াই করতে হয়েছে। কিন্তু অ্যান্ডারসন তাঁর দক্ষতার কারণে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ১৭টি টেস্ট ম্যাচে ৪৪ উইকেট নিয়েছেন ভারতের বাইশ গজে। অ্যান্ডারসন তাঁর নিজের দেশের মাটিতে ভারতের বিরুদ্ধে ২২টি ম্যাচে নিয়েছেন ১০৫টি উইকেট।
ব্রড ভারতের বিরুদ্ধে ২৪টি টেস্টে ৭৪টি উইকেট নিয়েছেন। ঘরের মাঠে ভারতের বিরুদ্ধে ১৬টি টেস্টে ব্রড নিয়েছেন ৬৪টি উইকেট।
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন ওপেনার নিক নাইট বলেছেন, কোহলি এবং রোহিত শর্মার অনুপস্থিতিতে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডার অ্যান্ডারসনকে মাঠের বাইরে দেখে খুশি হবে। তবে ইংল্যান্ড ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নাইট বলেছেন, “ইংল্যান্ড এখন এগিয়ে যাবে। অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছে, প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু আমি নিশ্চিত যে ভারত এখন অ্যান্ডারসনের অবসর নিয়ে খুশি হবে।”