ডাকেটের উইকেট তুলে নেওয়ার পর আকাশ দীপ এগিয়ে গিয়ে তাঁর কাঁধে হাত রাখেন এবং কানে কানে কিছু বলে বসেন, যা ইংরেজ ওপেনার মোটেও ভালভাবে নেননি।

মার্কাস ট্রেসকথিক
শেষ আপডেট: 3 August 2025 10:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লড়াইটা বাইশ গজ হোক, চায় বাইশ গজের বাইরে, ভারত-ইংল্যান্ড দ্বৈরথের আঁচ সিরিজের শেষ টেস্টেও এতটুকু ফিকে হয়নি। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের স্লেজিং, তর্কাতর্কি আগেই চোখে পড়েছে। এবার নজরে শরীরী তরজা! যা উত্তেজনার পারদ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
ওভাল টেস্টে (Oval Test) আউট হওয়ার পর বেন ডাকেটকে (Ben Duckett) যেভাবে ‘সেন্ড-অফ’ (Send Off) দিলেন আকাশ দীপ (Akash Deep), তা দেখে অবাক ইংল্যান্ড শিবির। বিষয়টি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন দলের সহকারী কোচ মার্কাস ট্রেসকোথিকও (Marcus Trescothick)। জানিয়েছেন, আকাশ দীপ ভাগ্যবান যে, ডাকেট বড় কোনও পদক্ষেপ নেননি। শুধু মুখের জবাবেই থেমে গিয়েছেন। তাঁদের আমলে এমন ঘটনা হলে জল অনেক দূর গড়াতেই পারত!
ঘটনার সূত্রপাত দ্বিতীয় দিনের খেলায়। ডাকেটের উইকেট তুলে নেওয়ার পর আকাশ দীপ এগিয়ে গিয়ে তাঁর কাঁধে হাত রাখেন এবং কানে কানে কিছু বলে বসেন, যা ইংরেজ ওপেনার মোটেও ভালভাবে নেননি। ইংল্যান্ডের বাঁহাতি ব্যাটার শান্তভাবেই প্যাভিলিয়ন যাচ্ছিলেন। সেই সময় চাপা স্বরে তর্কে জড়িয়ে পড়েন দুজন। যা নিয়ে ধারাভাষ্যকার ও ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের অনেকে আকাশের সমালোচনাও জুড়ে দেন।
এবার মজার ছলে হলেও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারি ছুড়ে দিলেন ট্রেসকোথিক। জানালেন, অতীতে হলে এমন আচরণ হয়তো আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া ডেকে আনত। প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি তো মজা করেই বলছিলাম, আমার সময়ে হলে অনেক খেলোয়াড়ই হয়তো ওকে কনুই দিয়ে গুঁতো মারত। জীবনে কোনও বোলারকে এরকম করতে দেখিনি!’
যদিও ডাকেট যে এমন কিছু করেননি, তার জন্য দলের ওপেনারের সংযমের প্রশংসা শোনা গিয়েছে ট্রেসকোথিকের গলায়। বলেছেন, ‘বেন আসলে আউট হলে খুব বেশি কিছু করে না। মাথা নিচু করে হেঁটে চলে যায়। ওই সময় ব্যাটারের কাজ শেষ। এরকমভাবে কাউকে মাঠ থেকে বিদায় দেওয়ার দরকার নেই!’
প্রসঙ্গত, ডাকেটের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং তাঁকে শেষমেশ বিপদে ফেলে। আকাশ দীপের বল খেলতে গিয়েই উইকেট হারান। তাতেই হালকা ঝামেলা। যদিও এখানেই শেষ নয়। কিছুক্ষণ পর আরও এক উত্তেজনার ছবি মাঠে ধরা পড়ে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন জো রুট। এতটাই যে, পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসতে হয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনাকে।
ম্যাচের পর কৃষ্ণ অবশ্য বিষয়টি লঘু করেই দেখলেন। তিনি বলেন, ‘খুব ছোটখাটো ব্যাপার। আসলে তখন খেলার লড়াইয়ের উত্তাপটাই বেরিয়ে এসেছিল। মাঠের বাইরে ওর সঙ্গে আমার দারুণ সম্পর্ক। একটু ঠাট্টা-মশকরি চলছিল, যা দু’জনেই উপভোগ করেছি!’