এখন নজর আইসিসির দিকে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উঠলে পাক স্পিনারকে অ্যাকশন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে। কিন্তু দলকে আপাতত স্বস্তি জোগাবে তারিকের ফর্ম।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 11 February 2026 14:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের স্পিনার উসমান তারিক (Usman Tariq)। আমেরিকার বিরুদ্ধে মাঠে তিন উইকেট নিয়ে ম্যাচ জেতালেন। কিন্তু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে গেল তাঁর বোলিং অ্যাকশন। আইসিসি টি-২০ বিশ্বকাপে (ICC Men's T20 World Cup 2026) যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ম্যাচের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় উঠল অভিযোগ—তিনি নাকি ‘চাকিং’ করছেন! বিতর্ক চড়তেই মুখ খুললেন ভারতের প্রাক্তন অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন (R Ashwin)।
১৫ ডিগ্রির নিয়ম আর ‘গ্রে এরিয়া’
তারিকের অ্যাকশনে হাতের বাঁক এবং ডেলিভারির আগে সামান্য থেমে যাওয়ার বিষয়টি নিয়েই আপত্তি তোলেন একাংশ। কিন্তু অশ্বিনের সাফ বক্তব্য, ‘কারও অ্যাকশন বৈধ কি না, তা কেবল আইসিসির বোলিং অ্যাকশন টেস্টিং সেন্টারেই (ICC Bowling Action Testing Centre) নির্ধারণ করা সম্ভব।’স্মরণ করিয়ে দেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ১৫ ডিগ্রি-র নিয়ম (15-degree rule)। যা মোতাবেক বোলারের কনুই ডেলিভারির সময় ১৫ ডিগ্রির বেশি সোজা হওয়া চলবে না। অশ্বিনের যুক্তি, অন-ফিল্ড আম্পায়ারের পক্ষে চোখে দেখে তা নির্ণয় করা কার্যত অসম্ভব। তাই ‘ধূসর অঞ্চল’-কে হাতিয়ার করে কাউকে অভিযুক্ত করা ঠিক নয়!
পাশাপাশি ক্রিজে থামার প্রসঙ্গে অশ্বিন বলেন, যদি সেটাই তারিকের স্বাভাবিক অ্যাকশন হয়, তবে তা আইনের চোখে বৈধ। তাঁর মন্তব্যে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হলেও ক্রিকেটমহলের একাংশে স্বস্তি।
ম্যাচের গল্প: ফারহানের ঝড়, তারিকের দাপট
বিতর্কের আড়ালে চাপা পড়ে গিয়েছে ম্যাচের আসল ছবি। কলম্বোর ময়দানে (Sinhalese Sports Club) পাকিস্তান ১৯০ তোলে। ৭৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান (Sahibzada Farhan)। অধিনায়ক বাবর আজমের (Babar Azam) সঙ্গে তাঁর জুটি পাকিস্তানকে মজবুত ভিত দেয়।
জবাবে আমেরিকা ১৫৮/৮-তে থমকে যায়। শায়ান জাহাঙ্গীর (Shayan Jahangir) ও শুভম রঞ্জানে (Shubham Ranjane) লড়াই চালালেও লক্ষ্য ছোঁয়া যায়নি। তিন উইকেট ছিনিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তারিক।
সামনে কী?
এখন নজর আইসিসির দিকে। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উঠলে পাক স্পিনারকে অ্যাকশন পরীক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে। কিন্তু দলকে আপাতত স্বস্তি জোগাবে তারিকের ফর্ম। ম্যাচ জেতাচ্ছেন, সমর্থন পাচ্ছেন অশ্বিনের মতো অভিজ্ঞ বোলারের। এমনিতে ক্রিকেটে ‘চাকিং’ বিতর্ক নতুন নয়। কিন্তু প্রযুক্তি আর নিয়মের এই যুগে শেষ কথা বলবে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা। ততদিন বিতর্ক চলবেই।