Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশু

ময়দানে ব্রাত্য, দেশের জার্সিও পরেননি! তবু কোন রহস্যে বোর্ডের চেয়ারে মিঠুন মানহাস?

জন্ম জম্মুতে, ১৯৭৯ সালে। খেলেছেন মূলত দিল্লির হয়ে। ১৯৯৭ থেকে ২০১৬—দীর্ঘ ১৮ বছরের ফার্স্ট ক্লাস কেরিয়ার। ১৫৭ ম্যাচে ৯,৭১৪ রান, গড় ৪৫.৮২। ২৭টি শতরান, ৪৯টি অর্ধশতরান। ২০০৭–০৮ মরশুমে দিল্লিকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছেন রঞ্জি ট্রফি।

ময়দানে ব্রাত্য, দেশের জার্সিও পরেননি! তবু কোন রহস্যে বোর্ডের চেয়ারে মিঠুন মানহাস?

মিঠুন মানহাস

রূপক মিশ্র

শেষ আপডেট: 28 September 2025 16:33

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) শীর্ষপদ মানেই আলো। গ্ল্যামার। আলোচনার কেন্দ্র। সেই আলোয় এককালে ছিলেন সৌরভ গাঙ্গুলি, অতিসম্প্রতি বিশ্বকাপজয়ী রজার বিনি। এবার তালিকার সর্বশেষ সংযোজন মিঠুন মানহাস (Mithun Manhas)।

নামটা দেশের তামাম ক্রিকেটপ্রেমীদের বৃত্তে তেমনভাবে শোনা যায়নি। কারণটা কি জাতীয় দলের জার্সি গায়ে না ওঠা? ময়দানে ব্রাত্য থাকা? যদি তাই হয়, তাহলে এই অবহেলিত, অনামা প্রাক্তন ক্রিকেটারই আজ বোর্ডের সভাপতি হলেন কোন জাদুতে? প্রশ্ন জাগাটা স্বাভাবিক। সৌরভ গাঙ্গুলি বা হরভজন সিংয়ের মতো হেভিওয়েট নাম থাকতেও কুর্সি তাঁর হাতে যাওয়াটা বিস্ময়ের, অবশ্যই!

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীর্ষপদে মিঠুনকে বসানোর অন্যতম কারণ বিসিসিআইয়ের অঘোষিত নীতি! ২০১৯ সাল থেকে একটা অলিখিত প্রথা চলছে। যার দৌলিতে চেয়ার বাগিয়েছেন প্রাক্তন ক্রিকেটাররা। সৌরভ গাঙ্গুলি থেকে রজার বিনি, এবার মিঠুন মানহাস। ভোটাভুটি, গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, নাটক—সব কিছুই আজ ইতিহাস। এখন আর নেই কোনও ‘প্যালেস ইন্ট্রিগ’। বরং, বোর্ডের ক্ষমতাকেন্দ্র যাঁকে মনোনীত করেন, তিনিই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়, বিনা বাধায় জয়ী। এ যাত্রায় সৌরভ গাঙ্গুলি বা হরভজন সিংয়ের মতো নাম ভেসে উঠলেও তাঁরা কেউ মাঠে নামেননি। মনোনয়নই জমা দেননি। ফলে শেষ পর্যন্ত প্রতিযোগিতায় রইলেন শুধু মানহাস।

জন্ম জম্মুতে, ১৯৭৯ সালে। খেলেছেন মূলত দিল্লির হয়ে। ১৯৯৭ থেকে ২০১৬—দীর্ঘ ১৮ বছরের ফার্স্ট ক্লাস কেরিয়ার। ১৫৭ ম্যাচে ৯,৭১৪ রান, গড় ৪৫.৮২। ২৭টি শতরান, ৪৯টি অর্ধশতরান। ২০০৭–০৮ মরশুমে দিল্লিকে নেতৃত্ব দিয়ে জিতিয়েছেন রঞ্জি ট্রফি। সেই দলে ছিলেন এক প্রতিভাবান তরুণ। দুনিয়া চেনে বিরাট কোহলি নামে। সেই আমলে যদিও প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে বিরাট অনামা, বদলে মানহাসই ছিলেন আস্থা আর ধারাবাহিকতার স্তম্ভ!

আইপিএলে খেলেছেন দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, পুণে ওয়ারিয়র্স, চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে। পরে কোচিং-স্টাফ হিসেবেও কাজ করেছেন পাঞ্জাব কিংস, আরসিবি, গুজরাট টাইটানসে। জাতীয় দলের দরজা না খুললেও, ঘরোয়া ও ফ্র্যাঞ্চাইজি স্তরে দীর্ঘ অভিজ্ঞতার সুবাদে আজ মিঠুন মানহাস সর্বার্থে ভরসাযোগ্য ক্রিকেট-অ্যাডমিন।

অনেকেরই মনে থাকবে, ২০২১ সালে যখন জম্মু–কাশ্মীর ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন কার্যত ভেঙে পড়েছিল, তখন বিসিসিআই সেখানে তত্ত্বাবধায়ক কমিটি গঠন করে। সামরিক প্রশাসনিক দায়িত্বে আনা হয় ব্রিগেডিয়ার অনিল গুপ্তকে। আর ক্রিকেট সংক্রান্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় মিঠুন মানহাসের হাতে। সেই ভূমিকাই তাঁকে বোর্ডের ভোটার তালিকায় জায়গা করে দেয়। আর তবে থেকেই সভাপতি হওয়ার পথ যায় খুলে!

একথা সত্যি, যে সৌরভ গাঙ্গুলির নাম হাওয়ায় ভেসেছিল। অভিজ্ঞতা সবচেয়ে বেশি, হয়তো যোগ্যতাও। কিন্তু তাঁকে নিয়ে বোর্ডে সংশয় ছিল। অতিরিক্ত প্রভাবশালী হয়ে পড়ার আশঙ্কাই কি কাল হল? সৌরভের নম্বর কাটল?

অন্যদিকে হরভজন সিং। সৌরভের মতোই জনপ্রিয় মুখ, তবে তাঁর তুল্য প্রতিবাদী নন৷ সংসদ সদস্যও বটে, কিন্তু প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা কার্যত শূন্য। কর্ণাটকের রঘুরাম ভাট ছিলেন আরেক প্রার্থী, কিন্তু তাঁকে পাঠানো হল কোষাধ্যক্ষের পদে। ফলে মানহাস হয়ে গেলেন ‘কমন গ্রাউন্ড’—কারও আপত্তি নেই, বোর্ডেরও সুবিধা!

একসময় বিসিসিআই আর দলাদলি ছিল সমার্থক। শারদ পওয়ার বনাম এন শ্রীনিবাসন, আদালতের নির্দেশে শ্রীনিবাসনের সরে যাওয়া, তারপর জগমোহন ডালমিয়ার কাস্টিং ভোটে সভাপতি নির্বাচনের নাটক… সেই ইতিহাস আজ অতীত। লোধা কমিটির সংস্কারের পর থেকে বোর্ডে আগের মতো লড়াই নেই। এখন ক্ষমতার ভরকেন্দ্র এক। সিদ্ধান্তও এককেন্দ্রিক। ফলে নির্বাচন সেরে ফেলা হয় কোনও ঝুটঝামেলা ছাড়াই।

একথা সত্যি, মিঠুন মানহাস আগে সেভাবে আলোচনাতেই ছিলেন না। মাত্র এক সপ্তাহ আগে দিল্লিতে বোর্ডের বৈঠকে তাঁর নাম প্রস্তাবিত হয়। অথচ অবাক করার মতো বিষয়, কেউ আপত্তি তোলেননি। বোর্ড চেয়েছিল প্রাক্তন ক্রিকেটার, যাঁর তীব্র ক্যারিশমা নেই, অতীত বিতর্ক নেই। সেই জায়গায় মিঠুন খাপে খাপ, নিখুঁত পছন্দ!

বাস্তব বলছে, বোর্ড সভাপতির কুর্সি মানে শুধু গ্ল্যামার নয়, দায়িত্বও বিপুল। সামনে ঠাসা ক্যালেন্ডার। টি-২০ বিশ্বকাপ, একদিনের বিশ্বকাপ—প্রস্তুতির বোঝা এখন মানহাসের কাঁধে। এর বাইরে বোর্ডকে আধুনিক ও স্বচ্ছ রাখার দাবি, খেলোয়াড়দের স্বার্থ রক্ষা, রাজনীতির চাপ সামলানো—সবই তাঁর পরীক্ষার খাতা।

মাঠে জাতীয় দলের হয়ে একটিও ম্যাচ খেলেননি। কিন্তু ঘরোয়া ক্রিকেটে অবদান, বোর্ডের প্রতি আনুগত্য, আর কোনও বিতর্কহীন ইমেজ তাঁকে বিসিসিআই সভাপতির চেয়ারে বসিয়ে দিল। সৌরভের ঝলক, হরভজনের জনপ্রিয়তা—সব ডিঙিয়ে আজ কুর্সি বাগালেন ঠিকই। কিন্তু সত্যি বলতে, এই স্বীকৃতি বা অর্জন নিছক কাকতালীয় নয়। এটাই বোর্ড রাজনীতির নতুন বাস্তব—যেখানে আলো নয়, বরং সমঝোতা আর ‘লো-প্রোফাইল’ হয়ে ওঠে কুর্সি দখলের সেরা হাতিয়ার।


```