৪৫ বছরের মানহাসকে ‘অভাগা প্রতিভা’ বলাটা ভুল নয়। জাতীয় দলে সুযোগবঞ্চিত এই প্রাক্তন ব্যাটসম্যান ঘরোয়া ক্রিকেটের সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। আপাতত তিনি আলোচনার কেন্দ্রে—বিসিসিআইয়ের সম্ভাব্য নতুন সভাপতি হিসেবে।

মিঠুন মানহাস
শেষ আপডেট: 21 September 2025 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হঠাৎ করেই চমক। বড় চমক! ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (BCCI) পরবর্তী সভাপতি হিসেবে ভেসে উঠেছে অপ্রত্যাশিত নাম—মিঠুন মানহাস (Mithun Manhas)। জম্মুতে জন্ম, ঘরোয়া ক্রিকেটে দিল্লির হয়ে খেলা, আইপিএলে (IPL) চেনা মুখ আর এখন আচমকাই দেশের ক্রিকেট পরিসরে সবচেয়ে ক্ষমতাশালী প্রশাসনিক আসন দখলের দৌড়ে প্রথম সারিতে উঠে আসা মানহাসকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনার ঝড়।
সাম্প্রতিক বৈঠকে তাঁর নামই বাকিদের ছাপিয়ে শীর্ষে উঠে এসেছে। ‘বাকি’ বলতে একাধিক হেভিওয়েট প্রতিদ্বন্দ্বী। পরবর্তী বোর্ড প্রেসিডেন্ট হওয়ার তালিকায় ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় (Sourav Ganguly), হরভজন সিংয়ের (Harbhajan Singh) মতো দাপুটে ‘প্রাক্তনী’। কিন্তু নির্বাচনী সমীকরণ মানহাসকেই এগিয়ে রাখছে। এখনও সরকারি সিলমোহর পড়েনি। ২১ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২৮ তারিখ চূড়ান্ত নির্বাচন। তবু তার আগে দিল্লির প্রাক্তন ক্রিকেটারই যে ফ্রন্টরানার—তা অনেকেই একবাক্যে মেনে নিয়েছেন। আর এই সূত্রেই দানা বেঁধেছে প্রশ্ন: কে এই মিঠুন মানহাস?
এককথায় বললে: ঘরোয়া ক্রিকেটের অন্দরমহলে নামকরা কিন্তু আড়ালে থাকা চরিত্র মানহাস। খানিক ভাগ্যবিড়ম্বিতও! ১৯৯৭-৯৮ মরশুমে দিল্লির হয়ে পেশাদার ক্রিকেটে অভিষেক। যখন ভারতীয় ক্রিকেটে শচীন তেন্ডুলকর, রাহুল দ্রাবিড়, ভিভিএস লক্ষ্মণরা কেরিয়ারের মধ্যগগনে। মূলত এই কারণেই তারকা ব্যাটারদের পাশ কাটিয়ে জাতীয় দলে ডাক পাননি কখনও। তবু ঘরোয়া ক্রিকেটে ছাপ রেখেছেন বিলক্ষণ। দিল্লি দলের অধিনায়ক। এমনকি প্রথম জীবনে বিরাট কোহলিও (Virat Kohli) খেলেছেন মানহাসের নেতৃত্বে। ২০০৭-০৮ মরশুমে ৯২১ রান, গড় ৫৭.৫৬। সেই মরশুমেই দিল্লি জিতে নেয় রঞ্জি ট্রফি। ২০১৫ সালে জম্মু-কাশ্মীরে ফিরে যান।
পরিসংখ্যান মতে, প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৫৭ ম্যাচে ৯৭১৪ রান, ২৭ সেঞ্চুরি। লিস্ট এ ক্রিকেটে ৪১২৬ রান, টি২০-তে ১১৭০। সংখ্যাগুলোই জানান দিচ্ছে, জাতীয় দলে না খেলেও ঘরোয়া সার্কিটে কীভাবে মিঠুন মানহাস হয়ে ওঠেন নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ। এই ছন্দ বজায় রাখেন আইপিএলেও। ২০০৮ সালে দিল্লি ডেয়ারডেভিলস (এখনকার দিল্লি ক্যাপিটালস)-এর হয়ে আত্মপ্রকাশ। তারপর খেলেছেন পুণে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া (Pune Warriors India), ২০১৪ সালে সিএসকের (Chennai Super Kings) জার্সিতে। ৫৫ ম্যাচে ঝুলিতে সাকুল্যে ৫১৪ রান।
খেলোয়াড় জীবন শেষ করে মানহাস কোচিংয়ে নাম লেখান। ২০১৭ সালে পাঞ্জাব কিংসের (Punjab Kings) সহকারী কোচ। পরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ব্যাটিং পরামর্শদাতা। তারপর ফের আইপিএলে প্রত্যাবর্তন—এবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (Royal Challengers Bengaluru)-এর সহকারী কোচের কুর্সিতে!
৪৫ বছরের মানহাসকে ‘অভাগা প্রতিভা’ বলাটা ভুল নয়। জাতীয় দলে সুযোগবঞ্চিত এই প্রাক্তন ব্যাটসম্যান ঘরোয়া ক্রিকেটের সবিশেষ পরিচিতি লাভ করেন। আপাতত তিনি আলোচনার কেন্দ্রে—বিসিসিআইয়ের সম্ভাব্য নতুন সভাপতি হিসেবে। নির্বাচনী লড়াইয়ের ফয়সালা না এলেও অনেকের ধারণা, অদৃশ্য ভরসার হাত ইতিমধ্যেই তাঁকে বাকিদের চাইতে কয়েক কদম এগিয়ে রেখেছে! ক্রিকেট বোর্ড প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসা মানে ক্ষমতা, বিতর্ক, রাজনীতি, আন্তর্জাতিক দরকষাকষির বলয়ে ঢুকে পড়া। জম্মুর ছেলে, দিল্লির জার্সিতে বড় হওয়া মিঠুন মানহাস কি সেই চক্রব্যূহের প্রবেশের ছাড়পত্র ছিনিয়ে নিতে পারবেন? উত্তর মিলবে ২৮ সেপ্টেম্বর।