হাত না মেলানোর বিতর্ক এখন ভাবাবেগে আঘাত ছাড়িয়ে আইনের ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর বোর্ড-স্তরের লড়াইয়ের পাকে জড়িয়ে গিয়েছে। গিঁট জটিল। সেটা কে খুলবে, কবে খুলবে, আদৌ খুলবে তো?—প্রশ্ন একাধিক। উত্তর অধরা!

ভারত বনাম পাকিস্তান
শেষ আপডেট: 16 September 2025 10:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেট ম্যাচ শেষে দু’দলের ক্রিকেটারদের হাত মেলানো কি আদৌ বাধ্যতামূলক? আইনে কিন্তু স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই! আত্মপক্ষ সমর্থনে এই যুক্তিই সামনে আনল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (BCCI)। আর এভাবেই ভারতীয় দলের (Team India) বিরুদ্ধে পাকিস্তানের (Pakistan) অভিযোগকে কার্যত বাউন্ডারির বাইরে পাঠাল বিসিসিআই।
এশিয়া কাপের (Asia Cup 2025) ভারত–পাক দ্বৈরথের পর থেকেই ঝড় তুলেছে হ্যান্ডশেক-বিতর্ক (Handshake Row)। টসের সময় থেকে ম্যাচ শেষ হওয়া পর্যন্ত সলমন আঘা বাহিনীর (Salman Ali Agha) সঙ্গে হাত মেলাননি সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav)। লড়াই খতম হওয়ার পর পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা সাজঘরের বাইরে অপেক্ষা করলেও কোনও সাড়া মেলেনি। উলটে মুখের উপর দরজা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর পরই পিসিবি (PCB) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (ACC) কাছে।
চলতি বিতর্ক প্রসঙ্গে গতকাল বিসিসিআইয়ের তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যদিও এবার মুখ খুলেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিসিসিআই কর্তা সংবাদসংস্থাকে জানান, খেলোয়াড়দের হাত মেলানোর কোনও আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। তাঁর সাফ মন্তব্য, ‘রুলবুকে যদি খুঁজে দেখো, কোথাও লেখা নে্, যে ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে করমর্দন করতেই হবে। এটা নিছক সৌজন্যের অংশ। আইন নয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘যদি আইন না থাকে, তবে ভারতীয় দলকে কোনওভাবেই বাধ্য করা যাবে না। বিশেষত এমন প্রতিপক্ষের সঙ্গে, যাদের সঙ্গে সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে তিক্ত।’
অন্যদিকে পাকিস্তানও থেমে নেই। শুধু ভারত নয়, সলমন আঘারা নিশানা করেছেন ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকেও (Andy Pycroft)। অভিযোগ, তিনি নাকি টসের সময় পাক অধিনায়ককে সূর্যকুমারের সঙ্গে হাত না মেলানোর পরামর্শ দেন। এরপর ম্যাচ শেষে ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেট’ (Spirit of Cricket) লঙ্ঘনের দায়ে তাঁকে সরানোর দাবি তোলে পিসিবি। পাক বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) টুইট করে জানান, বিষয়টি নিয়ে সরাসরি আইসিসির (ICC) দরবারেও অভিযোগ গিয়েছে।
সব মিলিয়ে, হাত না মেলানোর বিতর্ক এখন ভাবাবেগে আঘাত ছাড়িয়ে আইনের ব্যাখ্যা, রাজনৈতিক টানাপোড়েন আর বোর্ড-স্তরের লড়াইয়ের পাকে জড়িয়ে গিয়েছে। গিঁট জটিল। সেটা কে খুলবে, কবে খুলবে, আদৌ খুলবে তো?—প্রশ্ন একাধিক। উত্তর অধরা!