প্রশ্ন উঠছে—এর প্রভাব কি পড়বে পরবর্তী লড়াইয়েও? নাকি কোনও সমাধানসূত্র বের করবে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল?

পাকিস্তান টিম
শেষ আপডেট: 15 September 2025 18:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারত–পাকিস্তান ম্যাচে (India vs Pakistan, Asia Cup 2025) হ্যান্ডশেক-বিতর্কের আঁচ এবার ছড়িয়ে পড়ল টুর্নামেন্টের অঙ্গন ছাড়িয়ে প্রশাসনিক দফতরে। সোজা কথায়, ফুঁসছে পাকিস্তান (Pakistan)! আর তার জন্য চলতি এশিয়া কাপে বয়কটের রাস্তাতেও হাঁটতে পারে তারা। ইতিমধ্যে ক্রোধ প্রশমনে সাময়িকভাবে গদিছাড়া পাক ক্রিকেট বোর্ডের এক শীর্ষ কর্তা। আয়োজক সংস্থার কাছে ব্যবস্থাগ্রহণের আর্জিও জমা পড়েছে।
সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পিসিবি-র (PCB) স্পষ্ট দাবি—যদি ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফটকে (Andy Pycroft) সরানো না হয়, তবে মঙ্গলবারের আমিরশাহির (UAE) বিরুদ্ধে ম্যাচ বয়কট করবে তারা। ক্রিকেটবাজ (Cricbuzz)-এর খবর, এই দাবি জানিয়ে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে (ACC) চিঠি দিয়েছে পাক ক্রিকেট বোর্ড।
গতকাল টস থেকে শুরু করে ম্যাচ শেষে পর্যন্ত সূর্যকুমার যাদবরা (Suryakumar Yadav) পাকিস্তান দলের সঙ্গে হাত মেলাননি। প্রচলিত প্রথা ভেঙে করমর্দন এড়িয়ে যায় ভারতীয় শিবির। এতে ক্ষুব্ধ পাক অধিনায়ক সলমন আঘা (Salman Ali Agha) ম্যাচ-পরবর্তী প্রেজেন্টেশন বয়কট করেন। ক্ষোভে ফেটে পড়ে পিসিবি।
প্রথমে টিম ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু তাতে না থেমে এবার নিশানায় ম্যাচ রেফারি পাইক্রফট। অভিযোগ, তিনি নাকি আঘাকে টসের সময় সূর্যের সঙ্গে হাত না মেলানোর উপদেশ দিয়েছিলেন। আবার ম্যাচ শেষে হ্যান্ডশেক এড়ানোর প্রোটোকল পাকিস্তান দলকে জানাতেও ভুলে যান। পরে নাকি এর জন্য আঘাদের কাছে পাইক্রফট দুঃখপ্রকাশও করেন।
এমন পরিস্থিতিতে পিসিবি চেয়ারম্যান তথা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বর্তমান প্রধান মহসিন নকভি (Mohsin Naqvi) সরাসরি জানিয়ে দেন—পাইক্রফটের আচরণ ‘স্পিরিট অফ ক্রিকেটে’র (Spirit of Cricket) পরিপন্থী। তাই তাঁকে অবিলম্বে সরাতে হবে। একই সঙ্গে আইসিসির (ICC) কাছেও আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানানো হয়েছে।
বিতর্ক আরও গাঢ় করেছে পাক বোর্ডের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত। পদ হারিয়েছেন পাকিস্তানের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বিভাগের ডিরেক্টর উসমান ওয়াহলা (Usman Wahla)। তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। অভিযোগ, তিনি সময়মতো রেফারির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করতে ব্যর্থ হন। সোমবার রাতেই ওয়াহলার পদ থেকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয় পিসিবি।
সব মিলিয়ে, হ্যান্ডশেক বিতর্ক এখন শুধু মাঠের নাটক নয়, প্রশাসনিক টালমাটালেরও কেন্দ্রবিন্দু। সামনে সুপার ফোর (Super 4) রাউন্ডে ফের ভারত–পাক সংঘর্ষের সম্ভাবনা থাকায় প্রশ্ন উঠছে—এর প্রভাব কি পড়বে পরবর্তী লড়াইয়েও? নাকি কোনও সমাধানসূত্র বের করবে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল?