আগামী বছর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বক্সিং ডে টেস্ট এবং ২০২৭ সালের মার্চে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেড়শো বছর পূর্তির টেস্ট—এই দুই মহাদ্বৈরথের দিকে তাকিয়ে শুরু হবে প্রস্তুতি।

এমসিজি পিচ
শেষ আপডেট: 29 December 2025 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বক্সিং ডে মানেই মেলবোর্নের ক্রিকেট-উৎসব। কিন্তু এবারের অ্যাশেজে সেই ঐতিহ্যই প্রশ্নের মুখে। অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডের (Australia vs England) চতুর্থ টেস্ট যে মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে খেলা হল, তার পিচকে ‘আনস্যাটিসফ্যাক্টরি’ বা অসন্তোষজনক বলে রেট করল আইসিসি (International Cricket Council)।
ফলস্বরূপ, এমসিজির (Melbourne Cricket Ground) ঝুলিতে যোগ হল এক ডিমেরিট পয়েন্ট। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, পাঁচ বছরে কোনও ভেন্যু ছ’খানা ডিমেরিট পয়েন্ট পেলে এক বছরের জন্য আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজনের অধিকার হারাতে পারে। আপাতত এমসিজির প্রাপ্তি এক—সতর্কবার্তা স্পষ্ট।
কী বলছে রিপোর্ট?
আইসিসির ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রো সাফ সাফ জানিয়েছেন, পিচ ছিল অতিরিক্ত বোলার-বান্ধব। তাঁর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ‘প্রথম দিনে ২০টি, দ্বিতীয় দিনে আরও ১৬টি উইকেট পড়েছে। দু’দিনে মোট ৩৬ উইকেট। কোনও ব্যাটারই অর্ধশতরান ছুঁতে পারেননি। গাইডলাইনের বিচারে এই পিচ “আনস্যাটিসফ্যাক্টরি”।’ আইসিসির চার ধাপের পিচ রেটিং ব্যবস্থায় এই রেটিংয়ের অর্থ—ব্যাট ও বলের ন্যায্য প্রতিযোগিতা নেই, পিচ একতরফাভাবে বোলারদের পক্ষে।
দু’দিনেই খেলা শেষ, হতাশ দর্শক
মাত্র ১৪২ ওভারেই ম্যাচ খতম। বক্সিং ডে টেস্টে এমন দৃশ্য বিরল। প্রথম দিনে ২০ উইকেট, দ্বিতীয় দিনে বাকি ১৬—ব্যাপারটা শুধু ক্রিকেটীয় আলোচনাতেই থামেনি, প্রভাব পড়েছে ব্যবসাতেও। তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের টিকিট কেটে রাখা হাজার হাজার দর্শক ম্যাচই দেখার সুযোগ পেলেন না।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার স্বীকারোক্তি
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (Cricket Australia) চিফ অফ ক্রিকেট জেমস অলসপ স্বীকার করে নিয়েছেন হতাশার কথা। তাঁর বক্তব্য, ‘দিন তিন ও চারের টিকিটধারী দর্শকদের জন্য আমরা সত্যিই হতাশ। এমসিজিতে সাধারণত ব্যাট–বলের যে ভারসাম্য থাকে, সেটা এবার পিচ দিতে পারেনি।’ এমসিজির কিউরেটর ম্যাট পেজও বিস্ময় লুকোননি। প্রথম দিনেই ২০ উইকেট পড়তে দেখে পিচ প্রস্তুতকারক নিজেই ‘শক’-এ ছিলেন বলে জানিয়েছেন!
খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া
যে পিচে চার উইকেটে জিতে ২০১১ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় পেল ইংল্যান্ড, তাকে নম্বর দেননি বেন স্টোকস। ইংরেজ অধিনায়ক স্পষ্ট জানিয়েছেন, উইকেট ‘ভাল’ ক্রিকেটের পক্ষে ছিল না। অন্যদিকে ম্যাচ হাতছাড়া হলেও খুব বেশি চিন্তিত নয় অজিরা। সিরিজের প্রথম তিন টেস্ট জিতে অ্যাশেজ আগেই ধরে রেখেছে কামিন্স বাহিনী।
সামনে কী?
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া আশাবাদী, মেলবোর্ন ক্রিকেট ক্লাব (MCC) আবার মান ফিরে পাবে। আগামী বছর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বক্সিং ডে টেস্ট এবং ২০২৭ সালের মার্চে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দেড়শো বছর পূর্তির টেস্ট—এই দুই মহাদ্বৈরথের দিকে তাকিয়ে শুরু হবে প্রস্তুতি।