ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ব্রডকাস্টারদের সোনার খনি। সেই ম্যাচ না হলে ক্ষতি কার? লতিফের উত্তর স্পষ্ট—‘আইসিসির।’

জয় শাহ ও রশিদ লতিফ
শেষ আপডেট: 2 February 2026 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টি-২০ বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক এক সপ্তাহ আগে নতুন করে আগুনে ঘি ঢালল পাকিস্তান। ভারতের বিরুদ্ধে ম্যাচ না খেলার সরকারি সিদ্ধান্তে কিছুটা হলেও চাপে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল। আর এই উত্তপ্ত আবহে আইসিসির বিরুদ্ধে একেবারে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করে বসলেন প্রাক্তন পাকিস্তান অধিনায়ক রশিদ লতিফ (Rashid Latif)। তাঁর দাবি: আইসিসি (ICC) ভয় পেয়ে গিয়েছে। সেই সঙ্গে হুঙ্কার: সাহস থাকলে পাকিস্তানকে সাসপেন্ড করে দেখাক!
কেন এই বয়কট?
পাকিস্তান সরকারের ঘোষণা—আসন্ন বিশ্বকাপে দল খেলবে, কিন্তু ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবে না। কারণ হিসেবে প্রকাশ্যে কিছু বলা না হলেও, বিষয়টা ঘুরেফিরে বাংলাদেশে গিয়ে ঠেকছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (Bangladesh Cricket Board) ভারত সফরে অস্বীকৃতি এবং তার পর আইসিসির তরফে স্কটল্যান্ডকে ঢুকিয়ে দেওয়া—এই ‘ডবল স্ট্যান্ডার্ড’-ই ক্ষুব্ধ করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (Pakistan Cricket Board)।
লতিফের কথায়, ‘এই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেওয়া হয়েছিল। ঘোষণা ইচ্ছাকৃতভাবে দেরিতে এসেছে। বিশ্বকাপের মুখে দাঁড়িয়ে এটা একটা কৌশলগত চাল!’ তাঁর মতে, এখানে বোর্ড নয়, সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরাসরি পাকিস্তান সরকার।
‘আইসিসি স্পষ্টতই প্যানিক করেছে’
পাকিস্তানের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আইসিসির কড়া বিবৃতি—এই বিষয়টা চোখে পড়েছে লতিফের। তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আইসিসি সাধারণত এত দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেয় না। রবিবার অফিস বন্ধ থাকার পরেও যদি তড়িঘড়ি বিবৃতি বেরোয়, তাহলে বুঝতে হবে তারা আতঙ্কিত।’আরও জানান, পাকিস্তান এখানে ভারত বা বিসিসিআইকে (BCCI) আক্রমণ করেনি, সরাসরি আইসিসিকেই প্রশ্নের কাঠগড়ায় তুলেছে। মন্তব্য, ‘আইসিসি থেকে পাকিস্তান যে রাজস্ব পায়, সেটা আটা-নুনের মতো। আমাদের কোনও দামই নেই। তাহলে ভয় কোথায়?’
ব্রডকাস্টার, টাকা আর ক্ষমতার লড়াই
ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই ব্রডকাস্টারদের সোনার খনি। সেই ম্যাচ না হলে ক্ষতি কার? লতিফের উত্তর স্পষ্ট—‘আইসিসির।’ তাঁর দাবি, সম্প্রচারকারী সংস্থাগুলি পিছিয়ে গেলে পুরো বোঝা এসে পড়বে আইসিসির ঘাড়ে। ভারত সফরে নিরাপত্তার অজুহাতে পাকিস্তান না গেলে সেটা মানা হয়, কিন্তু বাংলাদেশ একই কথা বললে তা অগ্রাহ্য—এটাই সমস্যা। বলেছেন, ‘সমতা নেই। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সেই ভারসাম্য ফেরানোর চেষ্টা হচ্ছে।’
‘সাসপেনশন? আইসিসিরই বেশি ক্ষতি’
আইসিসি যদি নিষেধাজ্ঞা চাপায়? রশিদ লতিফের জবাব প্রায় চ্যালেঞ্জের মতো শোনায়—‘লাগাতে হলে লাগাক। পাকিস্তান সব ভেবেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে!’ তাঁর মতে, বাদ গেলে ক্ষতি পাকিস্তানের যতটা হবে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি ক্ষতি আইসিসির। কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন রাজস্ব বণ্টন ও বিশ্বক্রিকেটের কাঠামোর প্রসঙ্গ। বলেন, ‘ইতালি, জার্মানি, ব্রাজিলের মতো দেশগুলোকে আইসিসি যেভাবে ফান্ড দেয়, সেটা এই অর্থ থেকেই আসে। পাকিস্তান আর বাংলাদেশ সরে গেলে সেই মডেল ভেঙে পড়বে।’
এতকিছুর মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান মহসিন নাকভির (Mohsin Naqvi) ভূমিকাকেও সাধুবাদ জানান লতিফ। আগে তাঁর সমালোচক হলেও, এই সিদ্ধান্তকে তিনি ‘গেমচেঞ্জার’ বলছেন। লতিফের কথায়, ‘এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানকে নতুন করে শক্ত অবস্থানে এনে দিয়েছে।’