নভেম্বরে ইডেন টেস্টে মাত্র আড়াই দিনেই শেষ হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার দল ৩০ রানে জয় ছিনিয়ে নেয়।

ছবি: গুগল
শেষ আপডেট: 30 December 2025 18:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সের (Eden Gardens) উইকেট নিয়ে বিতর্ক থামেনি, কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (ICC) রায়ে আপাতত স্বস্তিতে বোর্ড ও আয়োজকেরা। ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকার (South Africa) বিরুদ্ধে টেস্ট হারের পর যে পিচকে কাঠগড়ায় তুলে বিস্তর সমালোচনা শুরু হয়েছিল, সেই বাইশ গজকে ‘সন্তোষজনক’ (satisfactory) রেটিং দিয়েছে আইসিসি। যা কোচ গৌতম গম্ভীরের (Gautam Gambhir) মূল্যায়নের পক্ষে সিলমোহর।
ম্যাচ শেষ আড়াই দিনে, শুরু বিতর্ক
নভেম্বরে ইডেন টেস্টে মাত্র আড়াই দিনেই শেষ হয়ে যায়। দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমার (Temba Bavuma) দল ৩০ রানে জয় ছিনিয়ে নেয়। ম্যাচের প্রথম দিন থেকেই বল ঘোরার প্রবণতা ও অসম বাউন্স চোখে পড়ে। দুই দলই ২০০ রান ছুঁতে ব্যর্থ। ভারতের দ্বিতীয় ইনিংস গুটিয়ে যায় মাত্র ৯৩ রানে—টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে এই প্রথম ১০০-এর নীচে অলআউট। লড়াই হারের জেরে সিরিজে ২–০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে টিম ইন্ডিয়া।
মেলবোর্নে কড়া রায়, কলকাতায় নমনীয় আইসিসি
ইডেনের পিচকে ‘সন্তোষজনক’ বললেও মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডের (Melbourne Cricket Ground) উইকেট নিয়ে আইসিসি অনেক বেশি অনমনীয়। বক্সিং ডে অ্যাশেজ টেস্টের (Ashes Test) উইকেটকে ‘অসন্তোষজনক’ (unsatisfactory) রেটিং দেওয়া হয়—আইসিসির স্কেলে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। সেই টেস্টও দু’দিনের মধ্যেই শেষ হয়েছিল এবং ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (Cricket Australia) আর্থিক ক্ষতির কথাও সামনে আসে। কিছু দিন আগেই সুনীল গাভাসকর (Sunil Gavaskar) ইঙ্গিত দেন, মেলবোর্নের পিচ হয়তো কড়া রায় এড়াতে পারে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো—এমসিজি-তে লাল পেন, কলকাতা পেল পাস মার্ক।
গম্ভীরের যুক্তি বনাম প্রাক্তনদের সমালোচনা
ম্যাচের পর গৌতম গম্ভীর স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ইডেনের পিচে কোনও জুজু নেই। তাঁর বক্তব্য, ভারতীয় ব্যাটাররা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ। এমনকী টিম ইন্ডিয়ার হেডকোচ জানান, টিম ম্যানেজমেন্টই নাকি এমন বাইশ গজ চেয়েছিল। সেই মতামতকে সুনীল গাভাসকরও সমর্থন জানান। তবে সকলেই একমত ছিলেন না। চেতেশ্বর পূজারা (Cheteshwar Pujara) ও হরভজন সিং (Harbhajan Singh) প্রকাশ্যেই পিচকে ‘খেলার যোগ্য নয়’বলে মন্তব্য করেন। ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের (Cricket Association of Bengal) সভাপতি সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও (Sourav Ganguly) স্বীকার করেন, টেস্ট ক্রিকেটের জন্য ইডেনের উইকেট আদর্শ নয়।
পালটা গাভাসকর ভারতের ব্যাটিং ব্যর্থতার দিকেও আঙুল তোলেন। বিশেষ করে বাভুমার তৃতীয় ইনিংসের ব্যাটিংয়ের কথা সামনে আনেন তিনি। ১৩৬ বল খেলে অপরাজিত ৫৫ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন দলের অধিনায়ক, ছুড়ে দেন ১২৪ রানের কঠিন লক্ষ্য।
ভারতের সামনে কী?
এই সিরিজে গুয়াহাটির বর্ষাপাড়া স্টেডিয়ামের (Barsapara Stadium) পিচ পেয়েছে সর্বোচ্চ ‘ভেরি গুড’ (very good) রেটিং। সেখানে ভারত হেরেছে ৪০৮ রানে—যা দেখিয়ে দেয়, ভালো পিচ মানেই যে ইতিবাচক ফল, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। বর্তমানে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (World Test Championship) ভারত রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে। চলতি চক্রে ৯টি টেস্টে ৪টি হার। সামনে অগস্টে শ্রীলঙ্কা সফর (Sri Lanka tour) ও পরে নিউজিল্যান্ড সফর (New Zealand tour)। ২০২৭-এর শুরুতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার (Australia) বিরুদ্ধে পাঁচ টেস্টের সিরিজ দিয়েই শেষ হবে এই সাইকেল।