ক্রিকেট মাঠে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন নতুন নয়। কিন্তু কখনও কখনও কোনও একটা ছোট্ট লেখা, শুনতে সামান্য বার্তা গোটা খেলার আবহ বদলে দেয়।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 13 January 2026 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেট মাঠে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন নতুন নয়। কিন্তু কখনও কখনও কোনও একটা ছোট্ট লেখা, শুনতে সামান্য বার্তা গোটা খেলার আবহ বদলে দেয়। বরোদার কোটাম্বি স্টেডিয়ামে (Kotambi Stadium) ভারত বনাম নিউজিল্যান্ড ম্যাচে ঠিক সেটাই হল। গ্যালারিতে এক খুদে অনুরাগীর হাতে প্ল্যাকার্ড—‘বিরাট কোহলি (Virat Kohli) সেঞ্চুরি না করলে আমি এক সপ্তাহ খাব না!’ মুহূর্তে ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায়। যাকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনায় ‘বিরাট-প্রভাব’, ‘বিরাট-প্রত্যাশা’।
প্রত্যাশার পাহাড়ে দাঁড়িয়ে বিরাট
এই প্ল্যাকার্ড দেখে বিস্মিত প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার মহম্মদ কাইফ (Mohammed Kaif)। নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি বলেন, ‘শুধু ভাবুন, একটা বাচ্চা সরাসরি সেঞ্চুরির দাবি করছে। ৩০-৫০ নয়, সরাসরি ১০০। এটাই বিরাট কোহলির জাদু!’ কাইফের কথায়, অন্য ব্যাটারদের ক্ষেত্রে ভালো ইনিংস মানে হয়তো দলের প্রয়োজন মেটানো। কিন্তু বিরাটের ক্ষেত্রে মানদণ্ড আলাদা। ৯০, ৯৩ কিংবা ম্যাচ জেতানো ইনিংসও অনেকের চোখে অসম্পূর্ণ—যদি সেঞ্চুরি না আসে।
এই প্রত্যাশার ভারই আসলে বিরাটকে আলাদা করে তুলেছে। বছরের পর বছর ধারাবাহিকতা, বড় ম্যাচে পারফরম্যান্স, চাপের মুখে দাঁড়িয়ে লড়াই—সব মিলিয়ে দর্শকের মনে তৈরি হয়েছে এক অদ্ভুত বিশ্বাস। আর সেই আস্থা থেকেই লেখা হয় এমন প্ল্যাকার্ড।
সেঞ্চুরি এল না, বার্তা কিন্তু স্পষ্ট
নিউজিল্যান্ডের (New Zealand) দেওয়া ৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বিরাট শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক। কভার ড্রাইভ, পুল, এগিয়ে এসে মার—সবই ছিল। ৯৩ রানে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, সময়ের অপেক্ষা। কিন্তু মুহূর্তের ভুলে কাইল জেমিসনের (Kyle Jamieson) বলে মিড-অফে ক্যাচ তুলে দিলেন। সেঞ্চুরি এল না। অধরা রইল খুদে অনুরাগীর প্ল্যাকার্ডে লেখা শর্ত।
তবু এই ইনিংসের সুবাদে বিরাট ছুঁলেন বড় মাইলস্টোন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮ হাজার রান পূর্ণ করলেন দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে। মাত্র ৬২৪ ইনিংসে—সচিন তেন্ডুলকরের (Sachin Tendulkar) থেকেও দ্রুততর। পাশাপাশি টপকে গেলেন কুমার সাঙ্গাকারাকেও (Kumar Sangakkara)। পরিসংখ্যান বলছে, সেঞ্চুরি না পেলেও এই ইনিংস ইতিহাসে জায়গা পাবে।
সেঞ্চুরি ছাড়াও কেন বিরাট ‘পরিপূর্ণ’?
কাইফের বিশ্লেষণটা এখানেই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর মতে, ‘এই প্রত্যাশা চাপ নয়, বরং বিরাটের অর্জনের ফল।’এত বছর ধরে বিরাট এমন মানদণ্ড তৈরি করেছেন, যে দর্শক অজান্তেই তাঁকে অন্য স্কেলে মাপেন। অন্য কেউ ৭০ করলে বাহবা পায়। বিরাট ৭০ করলে প্রশ্ন ওঠে—কেন ১০০ হল না? যা বোঝায়, বিরাট আসলে শুধু ব্যাটার নন। তিনি নামলে মানুষ রান গোনে না, ইতিহাস বিচার করে। সেই কারণেই একটা প্ল্যাকার্ড এত বড় আলোচনার জন্ম দেয়।
শেষ পর্যন্ত ভারত ম্যাচ জিতেছে। বিরাট সেঞ্চুরি পাননি। কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময়ও প্রমাণ করে দিলেন—সেঞ্চুরি হোক বা না হোক, প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দুতে এখনও তিনিই।