সোজা কথায় বললে, কলকাতায় তাঁর মতামত সম্পূর্ণভাবে কানে নেওয়া হয়নি, ছিলেন পার্শ্বচরিত্র। কিন্তু পাঞ্জাবে তিনিই মূল নায়ক। খেলোয়াড় হিসেবে অবদান রাখার পাশাপাশি নেতৃত্বে নিজের ভূমিকা দেখানোটাও যে তাঁর কাছে সমান জরুরি—বুঝিয়ে দিয়েছেন শ্রেয়স।

শ্রেয়স আইয়ার
শেষ আপডেট: 9 September 2025 12:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কেকেআর (KKR) ছেড়ে যাওয়ার পর এতদিন চুপ ছিলেন। অবশেষে মুখ খুললেন শ্রেয়স আইয়ার (Shreyas Iyer)। জানালেন, কলকাতা নাইট রাইডার্সে সেই স্বাচ্ছন্দ্য, সেই সম্মান তিনি পাননি, যা এখন পাচ্ছেন পাঞ্জাব কিংসে (Punjab Kings)। আর সেই কারণেই আইপিএল ২০২৪ মরশুমের পর তিনি দল বদলের সিদ্ধান্ত নেন।
গত এক বছর ধরে শ্রেয়স অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিডল-অর্ডার ব্যাটার। টিম ইন্ডিয়ার ওয়ান ডে দল হোক কিংবা ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে আইপিএল—ধারাবাহিকতায় নজর কেড়েছেন। অধিনায়ক হিসেবেও সমান সফল।
এতকিছুর পরেও তাঁর কেরিয়ার গ্রাফ কিন্তু অসম। উঁচুনিচু। ব্যাট হাতে দুর্দান্ত খেললেও কখনও চোট-আঘাতে ভুগেছেন, কখনও নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন। এর মধ্যে গত মরশুমের পর কেকেআর ছেড়ে পাঞ্জাব কিংসে নাম লেখানো ছিল কেরিয়ারে বড়সড় মোড়। এবার সেই সিদ্ধান্তের আড়ালের কথা নিজেই মেলে ধরলেন।
সাম্প্রতিকতম একটি সাক্ষাৎকারে শ্রেয়স স্পষ্ট বলেছেন, ‘অধিনায়ক আর খেলোয়াড় হিসেবে আমি অনেক কিছু দিতে পারি। যদি সম্মান পাই, তাহলে সবকিছু সম্ভব। পাঞ্জাবে সেটা পেয়েছি। ওরা আমায় সবদিক থেকে সমর্থন দিয়েছে—কোচ, ম্যানেজমেন্ট, টিমমেট সবাই। ভারতের হয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জেতার পর যখন দলে এলাম, সবাই চাইছিল আমি যেন ভরপুর অবদান রাখি। ফলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠে এবং মাঠের বাইরে—সব জায়গাতেই সক্রিয় ছিলাম। এই স্বাধীনতাই আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি!’
ঠিক এখানেই তৃপ্তি আর অতৃপ্তির দোলাচল প্রসঙ্গে উঠে আসে কেকেআর প্রসঙ্গ। আর শ্রেয়সের গলায় ঝরে পড়ে আক্ষেপের সুর। বলেন, ‘আমি আলোচনার অংশ ছিলাম ঠিকই। কিন্তু পুরোপুরি পরিকল্পনার মধ্যে ছিলাম না। আজ যে জায়গায় পৌঁচেছি, সেখানে আসতে আমাকে লড়াই করে উঠতে হয়েছে!’
অর্থাৎ, সোজা কথায় বললে, কলকাতায় তাঁর মতামত সম্পূর্ণভাবে কানে নেওয়া হয়নি, ছিলেন পার্শ্বচরিত্র। কিন্তু পাঞ্জাবে তিনিই মূল নায়ক। খেলোয়াড় হিসেবে অবদান রাখার পাশাপাশি নেতৃত্বে নিজের ভূমিকা দেখানোটাও যে তাঁর কাছে সমান জরুরি—বুঝিয়ে দিয়েছেন শ্রেয়স। কেকেআর যে সুযোগ দেয়নি, পাঞ্জাব সেটাই মেলে দিয়েছে। স্রেফ ব্যাট হাতে নন, ড্রেসিংরুমের প্রতিটি সিদ্ধান্তেও শ্রেয়স সামনের সারিতে।