একই সিরিজ থেকে নাকি পূজারাকে বাদ দেওয়ার কথা উঠেছিল। আর সেটা আগাম জেনেছিলেন ব্যাটসম্যান নিজে। তাও এক অদ্ভুত উপায়ে!

সস্ত্রীক পূজারা
শেষ আপডেট: 25 May 2025 12:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে (Australia) কিস্তিমাত করা এক জিনিস। আর বাঘের ডেরায় গিয়ে বাঘকে জালে বন্দি করা… অজিদের ঘরে তাদের পরাস্ত করে দর্পহরণ আরেক বিষয়। এর জন্য বিস্তর এলেম লাগে।
সেই এলেম দেখিয়েছিল টিম ইন্ডিয়া (Team India)। ২০১৮-১৯ সফরে ক্যাঙারুদের বধ করে ইতিহাসের পাতায় নাম লেখান অজিঙ্কা রাহানে, ঋষভ পন্থরা। দলগত সাফল্য। এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু এই অসাধ্য সাধন, ইতিহাসের প্রথম এবং এখনও পর্যন্ত একবারই অস্ট্রেলিয়াকে ঘরের ময়দানে হারানোর অন্যতম কাণ্ডারী হয়ে ওঠেন চেতেশ্বর পূজারা (Cheteshwar Pujara)। অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান দেখান দক্ষতা। একাই দুর্গ হয়ে সামলান অস্ট্রেলীয় সিমারদের বিষাক্ত সুইং, ইয়র্কার!
কিন্তু অবাক করার মতো বিষয় হচ্ছে, ওই একই সিরিজ থেকে নাকি পূজারাকে বাদ দেওয়ার কথা উঠেছিল। আর সেটা আগাম জেনেছিলেন ব্যাটসম্যান নিজে। তাও এক অদ্ভুত উপায়ে! দলের এক সদস্য নাকি অন্য কাউকে ফোনে পূজারাকে বাদ দেওয়ার খবর দিচ্ছিলেন। আর সেই সময় একটু দূরেই দাঁড়িয়েছিলেন দলের ‘ইন ফর্ম’ মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান। কথাটা তিনি নিজের কানে শোনেন। হজম করেন। তারপর কাউকে কিছু না বলে মাঠে পারফর্ম করেন। দলকে জেতান। এটাও এমন সময় যখন পূজারার বাবা শয্যাশায়ী। হাসপাতালে ভর্তি!
কিছুদিন আগে এই ঘটনার খোলসা করেছেন চেতেশ্বরের স্ত্রী পূজা (Puja Pujara)। লিখেছেন আত্মজীবনী। নাম ‘দ্য ডায়েরি অফ আ ক্রিকেটার্স ওয়াইফ’। সেখানে ক্রিকেটারের ঘরণী হওয়ার ভাল-মন্দ, দাম্পত্যের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নিয়েছেন। বইয়ের একটি অধ্যায়ে এসেছে আঠারোর সেই ঐতিহাসিক অস্ট্রেলিয়া সফর। যেখানে পূজারার পারফরম্যান্স, দলের বাকি ক্রিকেটারদের স্ত্রীদের সঙ্গে তাঁর (পূজার) সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরার ফাঁকে ফোন কলে বাদ দেওয়ার বিষয়টি ফাঁস করেছেন।
সম্প্রতি দুজনের একটি সাক্ষাৎকার সামনে এসেছে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া ওই ইন্টারভিউয়ের পূজার কাছে রাখা হয় প্রশ্ন: কেন আত্মজীবনীতে শুধুমাত্র প্রসঙ্গের উল্লেখ করেই চুপ থাকলেন তিনি? কেন ওই ব্যক্তির নাম সামনে আনলেন না?
কঠিন সওয়ালের জবাব ধীরস্থির মেজাজেই দিয়েছেন পূজারার স্ত্রী। বলেছেন, ‘ঘটনা বর্ণনা করার জন্য প্রসঙ্গটা তুলিনি। আসলে কীভাবে পূজারা মাথা ঠান্ডা রেখে পরিস্থিতি সামাল দিল, সাহস দেখাল, অসম্ভব ধৈর্যের পরিচয় রাখল, সেটাই বলতে চেয়েছি। কাউকে অসম্মান করা আমার উদ্দেশ্য ছিল না। আসলে আমি সবাইকে অনুপ্রেরণা দিতে চেয়েছিলাম।‘
আর পূজারার বক্তব্য? স্বাভাবসিদ্ধ শান্ত মেজাজেই তিনি বলেন, ‘মনে হয় না আর কেউ সেই ঘটনা জানে বলে। উদ্দেশ্যটা স্রেফ দু’লাইনের ঘটনার; কী হয়েছে সেটা বিস্তারে বলা নয়।‘
ঠিক এরপরই পূজারা জুড়ে দেন, ‘আমরা চাইলেই লোকটার পরিচয় জানাতে পারতাম। কিন্তু এই নিয়ে ঝামেলায় জড়াতে ইচ্ছে হয়নি। ক্রিকেটার হিসেবে আমি এগিয়ে যেতে চাই, বড় ভবিষ্যতের দিকে তাকাতে চাই। দেশের হয়ে খেলতে নামা মানে দেশকে জেতানো। আমার হাতে একটা দায়িত্ব ছিল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবার সিরিজ জিতেছিলাম আমরা। মেলবোর্ন টেস্ট খেলছি যখন, আমার ফোকাস ছিল দলের সাফল্য নিয়ে। কীভাবে নিজের ছাপ রাখতে পারি, এই নিয়ে ভেবে যাচ্ছিলাম। ভাল ফর্মে ছিলাম। সেঞ্চুরি করি। দলও ওই ম্যাচ জেতে। সবকিছু শান্ত হয়। টিম ইন্ডিয়ার হয়ে ইতিহাস রচনা করা মাথায় ছিল।‘