রান তোলার সময় কোন কোন বিষয় মাথায় রাখা জরুরি? সিম আর সুইং বশে আনতে গেলে কীভাবে প্রস্তুতি চালাতে হবে?

শচিন তেন্ডুলকর
শেষ আপডেট: 20 June 2025 14:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেস্ট ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত সাকুল্যে ২ হাজার ৫৮৬টি ম্যাচ খেলা হয়েছে। আর ভাবতে অবাক লাগলেও সত্যি—তার মধ্যে শচীন তেন্ডুলকর এবং জেমস অ্যান্ডারসন মিলিয়ে নেমেছেন ৩৮৮টি টেস্টে। অর্থাৎ, হিসেবমতো মোট টেস্টের ১৫ শতাংশ দুই দেশের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার মিলে খেলে ফেলেছেন!
আবেগ, ঐতিহ্য ও ইতিহাসের সশ্রদ্ধ স্বীকৃতিকে দূরে সরালে, শুধুমাত্র পরিসংখ্যানকে সামনে টানলে তেন্ডুলকর-অ্যান্ডারসন ট্রফির প্রচলন নিয়ে দ্বিমত বা আপত্তি থাকার কথা নয়। তা ছাড়া ইংল্যান্ডের ময়দানে শচীনের স্মরণীয় অর্জন, ঈর্ষণীয় সাফল্য তাতে ভারতীয় শিবির থেকে তিনি ছাড়া অন্য কেউ যোগ্যতর বিকল্প হতেই পারেন না!
কী বলছে ইতিহাস? বলছে: ইংল্যান্ডের জমিতেই কেরিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক শতরান হাঁকান শচীন। ১৯৯০ সালে, ম্যাঞ্চেস্টারের ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। আর লিডসের যে ময়দানে আজ নামতে চলেছেন শুভমান গিল, করুণ নায়াররা, সেখানেই কেরিয়ারের ২৯তম সেঞ্চুরি করে ভেঙেছিলেন স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের রেকর্ড। সালটা ২০০২। আর সেখান থেকে যদি দশ বছর পেছনো যায়, তাহলে ১৯৯২ সালে প্রথম অ-ইংরেজ ক্রিকেটার হিসেবে ইয়র্কশায়ারের হয়ে কাউন্টিতে নামার বিরল নজির স্থাপন করেন লিটল মাস্টার! বয়স? মাত্র উনিশ বছর।
কেমন ছিল সেই সময়? কীভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়, যখন তিনি সর্বার্থে অপরিচিত মুখ? শচীনের কথায়, ‘বেশ সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। কিন্তু লোকজন আমায় সাদরে আপ্যায়ণ জানান। সেই সফরেই ক্রিকেটার হিসেবে আমি নিজেকে গড়ে তুলি। খেলি এমন পরিবেশে যা আমার পরিচিত নয়।’
এবার ভারতীয় দলের অধিকাংশ ক্রিকেটারই প্রথমবার, কেউ কেউ দ্বিতীয়বারের জন্য ইংল্যান্ডের বাইশ গজে নামতে চলেছেন। তাঁদের উদ্দেশে কোনও পরামর্শ? ‘এই দল বেশ প্রতিভাবান। ব্যাটসম্যানরা রান তুলতে পারলে স্পেশাল কোনও সাফল্য অর্জনের সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।’ বলেছেন শচীন তেন্ডুলকর।
কিন্তু রান তোলার সময় কোন কোন বিষয় মাথায় রাখা জরুরি? সিম আর সুইং বশে আনতে গেলে কীভাবে প্রস্তুতি চালাতে হবে? শচীনের পরামর্শ: ‘ব্যাটসম্যান হিসেবে খুব দ্রুত লেন্থটা বুঝে ফেলা জরুরি। সবাই লাইনের কথা বলে। কিন্তু আমার মতে, লেন্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ইংল্যান্ডের পরিবেশে ব্যাটসম্যানের হাত সব সময় শরীরের কাছাকাছি থাকা উচিত।’
টেস্ট আর ওয়ান ডে-র ফারাক গড়ে দেয় আক্রমণ ও রক্ষণের তালমিল। অ্যাটাকের পাশাপাশি ডিফেন্স নিয়েও কাটাছেঁড়া জরুরি। শচীন বলেন, ‘যখন ফ্রন্ট ফুটে খেলবেন, তখন হাত সব সময় শরীর ঘেঁষে থাকবে। এতে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স বেশ জটিল হয়ে দাঁড়ায়। যদি কোনও ব্যাটসম্যান হাত না তুলে ফাস্ট বোলারদের বিরুদ্ধে ভালভাবে সামনের পায়ে ডিফেন্স করেন, তাহলে রান পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।’
এই প্রসঙ্গে ডিফেন্সের মহিমা বোঝাতে শচীনের যুক্তি, শুনতে রক্ষণাত্মক বলে মনে হলেও, আত্মবিশ্বাসী ডিফেন্স দলকে ইতিবাচক করে তোলে, বাড়ায় আত্মবিশ্বাস। আর লুজ বলে চালিয়ে খেলার সুযোগ তো রইলই!