ক্রিকেট দুনিয়া আপাতত সেই আশাতেই ভর করে অপেক্ষায়—ড্যামিয়েন মার্টিন আবার কামব্যাক করবেন, যেমন তিনি বারবার ফিরে এসেছেন মাঠের লড়াইয়ে, জিতিয়েছেন দলকে।

ড্যামিয়েন মার্টিন
শেষ আপডেট: 4 January 2026 12:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকা ব্যাটার ড্যামিয়েন মার্টিন (Damien Martyn)—এই মুহূর্তে নামটার সঙ্গে জড়িয়ে শুধু ক্রিকেট নয়, একরাশ উদ্বেগ। বক্সিং ডে-র দিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ার পর মেনিনজাইটিসে আক্রান্ত মার্টিনকে কৃত্রিম কোমায় রাখতে হয়েছিল। কয়েকদিন ধরে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট মহলে একটাই প্রশ্ন—কেমন আছেন ড্যামিয়েন? অবশেষে সেই প্রশ্নের আংশিক উত্তর দিল তাঁর পরিবার।
জেনে নিন সর্বশেষ আপডেট
ড্যামিয়েন মার্টিনের স্ত্রী অ্যামান্ডা পরিবারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। সেখানেই জানানো হয়েছে, চিকিৎসায় ধীরে ধীরে সাড়া দিচ্ছেন মার্টিন। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘ড্যামিয়েন চিকিৎসায় ভালোভাবেই এগচ্ছেন। এই কঠিন সময়ে গোল্ড কোস্ট ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের প্রতি আমরা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তাঁদের যত্ন আর পেশাদারিত্ব অসাধারণ।’
পরিবার আরও জানিয়েছে, এই সময়টা তাঁদের জন্য মানসিকভাবে খুব কঠিন। তাই সকলের কাছে ব্যক্তিগত পরিসর ও গোপনীয়তা বজায় রাখার অনুরোধ রাখা হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মার্টিন এখনও পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। যদিও পরিস্থিতি আগের তুলনায় স্থিতিশীল।
ক্রিকেট দুনিয়ার প্রার্থনা
ড্যামিয়েন মার্টিনের অসুস্থতার খবর ছড়াতেই প্রাক্তন ও বর্তমান ক্রিকেটারদের বার্তায় ভরে যায় সোশ্যাল মিডিয়া। প্রাক্তন সতীর্থ অ্যাডাম গিলক্রিস্ট (Adam Gilchrist) জানান, মার্টিন যেভাবে ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছেন—এই খবর আপাতত স্বস্তির। এমনিতে বাইশ গজে ড্যামিয়েন মার্টিন ব্যাট হাতে নির্ভরতা জুগিয়েছেন। তাই তাঁর অসুস্থতা শুধু পরিবার বা বন্ধুদের নয়, অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছেও বড় ধাক্কা। অনেকে মনে করছেন, মাঠে যিনি চাপের মুখে মাথা ঠান্ডা রেখে ব্যাট চালাতেন, তিনি এই লড়াইটাও লড়বেন।
মার্টিনের জমকালো কেরিয়ার
মার্টিন ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সোনালি যুগের মিডল অর্ডারের অন্যতম স্তম্ভ। ১৯৯৯ ও ২০০৩—দু’টি বিশ্বকাপজয়ী দলেরই সদস্য। বিশেষ করে ২০০৩ বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের বিরুদ্ধে তাঁর অপরাজিত ৮৮ রান আজও অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের স্মরণীয় অধ্যায়। সেই ম্যাচে রিকি পন্টিংয়ের (Ricky Ponting) সঙ্গে ২৩৪ রানের জুটি অস্ট্রেলিয়াকে কার্যত অপ্রতিরোধ্য করে তোলে।
টেস্ট ক্রিকেটেও মার্টিনের অবদান কম নয়। ভারতের মাটিতে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে তিনি ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৬৭টি টেস্টে তাঁর ঝুলিতে ৪,৪০৬ রান, গড় ৪৬-এর ওপরে। ওয়ানডেতেও পাঁচ হাজারের বেশি রান, একাধিক ম্যাচ-জেতানো ইনিংস—সব মিলিয়ে তিনি হয়ে ওঠেন অজি বাহিনীর ‘নীরব নায়ক’।
আজ সেই নায়কই জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াই লড়ছেন হাসপাতালের বিছানায়। পরিবার জানিয়েছে, লড়াই চলছে, আশাও আছে। ক্রিকেট দুনিয়া আপাতত সেই আশাতেই ভর করে অপেক্ষায়—ড্যামিয়েন মার্টিন আবার কামব্যাক করবেন, যেমন তিনি বারবার ফিরে এসেছেন মাঠের লড়াইয়ে, জিতিয়েছেন দলকে। এবার চ্যালেঞ্জটা নিজের জীবনযুদ্ধ জিতে ফিরে আসার।