গম্ভীরের পাশে দাঁড়ান ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক—অভিজ্ঞ ঘরোয়া ক্রিকেটার। দু’জন মিলে নেন বড় সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের জানানো হয়: আক্রমণাত্মক মানসিকতার বদলে সময় ধরে খেলার উপর জোর দিতে হবে।

গ্রাফিক্স: দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 13 August 2025 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ক্রিকেটার হিসেবে একজন ছিলেন রক্ষণাত্মক। কড়া ডিফেন্স। প্রায় নিশ্ছিদ্র ফুটওয়ার্ক। ‘দ্য ওয়াল’ তকমাটা এমনি এমনি জোটেনি।
অন্যজন আগ্রাসী। মূলত ওপেনে নেমেছেন। আর ক্রিজে একটু ধাতস্থ হতেই খেলেছেন চালিয়ে। রান করেছেন দ্রুত। মেজাজেও সব সময় ফ্রন্টফুটে। কারও তোয়াজ করে কথা বলা ধাতে নেই।
অথচ কোচের কুর্সিতে বসেই জার্সি পরিবর্তন! প্রথম জন, রাহুল দ্রাবিড়ের (Rahul Dravid), কোচিং মনস্তত্ত্ব বদলে দাঁড়ায় আক্রমণাত্মক। জাতীয় দলের মসনদে ছিলেন যতদিন, এর ব্যতিক্রম লক্ষ করা যায়নি।
অন্যদিকে নিজের খেলোয়াড়জীবনের দর্শনই কোচ হওয়ার পর আমূল পালটে ফেলেছেন গম্ভীর (Gautam Gambhir)। অনেক বেশি রক্ষণশীল। খেলোয়াড়দের নিজেদের দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন। সময় কাটাতে বলেছেন ক্রিজে… আরও বেশি সময়। দ্রাবিড়ের আমলে যা ছিল উইকেটে দাঁড়িয়ে দ্রুত রান তোলার ফরমান, তাকেই আগাপাশতলা পালটে দিয়েছেন গম্ভীর। আর এই পরিবর্তিত নির্দেশই পেয়েছেন অধিনায়ক শুভমান গিল থেকে উইকেটরক্ষক ঋষভ পন্থ।
ইংল্যান্ডে পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সফরে প্রথমবার ভারতের টেস্ট দলের নেতৃত্ব নিলেন শুভমান গিল। পরিস্থিতি সহজ ছিল না। হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের উপর চূড়ান্ত চাপ। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পর লাল বলের ক্রিকেটে নিজের জায়গা ধরে রাখাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। তাতে আবার বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, রবিচন্দ্রন অশ্বিন—তিন অভিজ্ঞ স্তম্ভের বিদায়—পরিবর্তনের পথ ‘কাগজে-কলমে’ সম্পূর্ণ। কিন্তু বাস্তবে তা সামলানো ছিল কঠিন কাজ।
এই অবস্থায় গম্ভীরের পাশে দাঁড়ান ব্যাটিং কোচ সিতাংশু কোটাক—অভিজ্ঞ ঘরোয়া ক্রিকেটার। দু’জন মিলে নেন বড় সিদ্ধান্ত। খেলোয়াড়দের জানানো হয়: আক্রমণাত্মক মানসিকতার বদলে সময় ধরে খেলার উপর জোর দিতে হবে। ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিল, ঋষভ পন্থ ও অন্য ব্যাটারদের সামনে স্পষ্ট বার্তা তুলে ধরেন গম্ভীর: ‘উইকেটে অনেক বেশি সময় কাটানো জরুরি!’
অথচ এর আগে রাহুল দ্রাবিড়ের কোচিংয়ে টেস্ট টিম আগ্রাসী মনোভাবকে বেশি গুরুত্ব দিত। দ্রুত রান তোলার চেষ্টা ও ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা দেখাতে পারলেই দলে জায়গা মজবুত হত। কিন্তু গম্ভীর ও কোটাক চেয়েছিলেন, বিশেষ করে ইংল্যান্ড সফরের জন্য, পুরনো ধৈর্যের পাঠে ফিরতে। প্রধান লক্ষ্য দুই শীর্ষ ব্যাটার—অধিনায়ক গিল ও সহ-অধিনায়ক পন্থের খেলার ধরন বদলানো।
পন্থের অস্ট্রেলিয়া সফরে করা কিছু ভুল সবারই চোখে পড়েছে। এবার তা মেরামত করতে গম্ভীর সরাসরি তাঁকে বলে দেন, ‘আমরা নিজেদের খামতির উপর কাজ করি… তাতেই ব্যর্থতাকে বদলানো যায়… আমি ব্যক্তিগতভাবে কঠোর পরিশ্রম, মনোযোগ আর শৃঙ্খলা এনে নিজেকে বদলাতে পেরেছি!’
সিরিজশেষে পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। গিল ও পন্থ দু’জনেই খেললেন আত্মবিশ্বাস ও পরিপক্বতা নিয়ে। ভারতীয় দলও গড়ল নজির—পাঁচ টেস্টে মোট ৩৮০৯ রান, যা টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। শুধু শীর্ষ ব্যাটার নয়, নীচের সারির অবদানও বেড়েছে। লোয়ার মিডল অর্ডারের সমস্যা না মিটলেও মহম্মদ সিরাজ, জসপ্রীত বুমরাহ, এমনকি আকাশ দীপ—সকলে যোগ করেছেন গুরুত্বপূর্ণ রান।
এই রণকৌশল গম্ভীর শুধুই ইংল্যান্ড সিরিজেই কাজে লাগাবেন? নাকি আগামী সফরেও দ্রাবিড়ের এই ‘ইন্টেন্ট’ বা উদ্দেশ্য বদলের ছাপ দেখা যাবে—সেটা অক্টোবরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ক্রমশ স্পষ্ট হবে।