ওভালের জয় শুধুই সিরিজ বাঁচানো নয়, এর সুবাদে সমালোচকদেরও জবাব দিয়েছে তরুণ ভারতীয় দল। কঠিন পরিস্থতি ও পরিবেশে প্রতিটি সেশনে লড়াই চালিয়েছে শুভমান ব্রিগেড।

গৌতম গম্ভীর
শেষ আপডেট: 6 August 2025 10:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চরিত্র বদলাবে। প্রজন্ম পাল্টাবে। খেলোয়াড় আসবে-যাবে। কিন্তু ড্রেসিং রুমের সংস্কৃতি যেন এমনই থাকে। এই জেতার ইচ্ছে, লড়াইয়ের ঝাঁজ যেন এতটুকু ফিকে না হয়। যেন সবাই এই সংস্কৃতির অংশীদার হতে চায়।
ওভাল টেস্ট জিতে ‘আন্ডারসন-তেন্ডুলকর ট্রফি’র (Anderson-Tendulkar Trophy) সম্মান আধাআধি বাঁটোয়ারা করে দেশে ফেরার আগে সাজঘরে উপস্থিত ক্রিকেটারদের এমনই ভাষায় উদ্বুদ্ধ করলেন টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীর (Gautam Gambhir Pep Talk)।
ইংল্যান্ডের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ (Eng vs Ind) শেষ হল রোমাঞ্চে ভরপুর এক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে। সোমবার ওভালে (Oval Test) ছয় রানের শ্বাসরুদ্ধকর জয়ে সফর ২-২ সমতায় শেষ করল শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন ভারত। এই জয়ের সুবাদে গৌতম গম্ভীরের কোচিংয়ে টানা তৃতীয় টেস্ট সিরিজ হারের লজ্জা এড়ানো গেল। কিন্তু তার চেয়েও গুতুত্বপূর্ণ হচ্ছে, তরুণদের নিয়ে গড়া বাহিনী দেখিয়ে দিল—রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলির অবসর-পরবর্তী শূন্যতা সামলানোর মতো মেরুদণ্ড তাদের রয়েছে।
ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে কোচ গম্ভীরের গলায় স্বভাবিকভাবেই ঝরে পড়ল স্বস্তি আর গর্ব। বিসিসিআই প্রকাশিত বিটিএস ভিডিওতে তাঁকে আবেগপূর্ণ গলায় বলতে শোনা যায়, ‘এই সিরিজ ২-২ সমতায় শেষ হওয়া একটা অসাধারণ ফল। সবাইকে অভিনন্দন। মনে রেখো, আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। তার জন্য আরও কঠোর পরিশ্রম জরুরি। প্রতিনিয়ত নিজেদের খুঁত ঠিক করব। যদি আমরা এটা ধরে রাখতে পারি, তাহলে আগামী অনেক বছর টেস্ট ক্রিকেটে আধিপত্য দেখানো সম্ভব। মানুষ আসবে-যাবে, কিন্তু ড্রেসিংরুমের সংস্কৃতি এমন হওয়া জরুরি, যেন সবাই এর অংশ হতে চায়! আমরা সেটাই তৈরি করতে চাই। তোমরা কয়েকটা দিন ছুটি নাও, উপভোগ করো।’
ওভালের জয় শুধুই সিরিজ বাঁচানো নয়, এর সুবাদে সমালোচকদেরও জবাব দিয়েছে তরুণ ভারতীয় দল। কঠিন পরিস্থতি ও পরিবেশে প্রতিটি সেশনে লড়াই চালিয়েছে শুভমান ব্রিগেড। ব্যাটে-বলে দলীয় ঐক্য, ফিল্ডিংয়ে অদম্য উদ্যম, চাপের মুহূর্তে দৃঢ়তা—সব মিলিয়ে এক নতুন টিম ইন্ডিয়াকে চিনল ক্রিকেটবিশ্ব।
এই সিরিজে ভারতের অন্যতম উজ্জ্বল মুখ ওয়াশিংটন সুন্দর। ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে অপরাজিত ১০১ রানের ইনিংসেই ফুরিয়ে যাননি। ধারাবাহিকতার সঙ্গে খেলেছেন। চারটি ম্যাচ মিলিয়ে ২৮৪ রান। এর পুরস্কার হিসেবে পেলেন সিরিজের ‘ইমপ্যাক্ট প্লেয়ারে’র মেডেল। যা অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা নিজের হাতে তাঁর গলায় পরিয়ে দেন।
সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে সুন্দরের বক্তব্য, ‘ইংল্যান্ডে একটানা চারটে ম্যাচ খেলাই আমার কাছে এটা বিরাট আশীর্বাদ। সব সময় চেয়েছিলাম এখানে ভালো করতে। দলের দিক থেকেও প্রতিটা দিন ছিল অসাধারণ। ফিল্ডিংয়ে আমরা যে এনার্জি তৈরি করেছিলাম, সেটা দুর্দান্ত। সবাই একে অপরের পাশে ছিল। সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ!’